84985_152
অর্থাভাবে অবশেষে বন্ধ হতে চলেছে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুুর পৌরসভার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের বৃদ্ধাশ্রমটি। নিজের ৭ বিঘা জমি বিক্রি করে ৩ বছর ধরে চালানো ওই বৃদ্ধাশ্রমটি এখন বন্ধের পথে। যতটুকু জমি ছিল তা বিক্রি করে চালিয়েছেন, আর জমি শেষ হওয়ায় একার পক্ষে আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আশায় আছেন সরকার ও সমাজের উচ্চবিত্তদের সহযোগিতার।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫শে মার্চ নিজ উদ্যোগে বাড়ির আঙিনায় ঝর্ণা অ্যান্ড সারেজান পুনর্বাসন কেন্দ্র নামে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের শফিউদ্দিনের স্ত্রী ইসমত আরা। নিজের বাড়ির ২ শতক জমি লিখে দেন বৃদ্ধাশ্রমটির নামে। ব্যবসায়ী স্বামী শফিউদ্দিন সকল প্রকার সহযোগিতা করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বৃদ্ধাশ্রমের ২০ জন বৃদ্ধাকে নিয়ে বিপাকে পড়েন ইসমত আরা। উপায় না পেয়ে স্বামীর জমি বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি। একে একে ৭ বিঘা জমি বিক্রি করে পুর্নবাসন কেন্দ্রটি ৩ বছর ধরে চালিয়ে আসছেন। আর জমি না থাকায় এখন বন্ধের পথে সেটি। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য তুলে, বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে চালাচ্ছেন ওই বৃদ্ধাশ্রমটি। জোড়াপুকুর গ্রামের কৃষক রবজেল হোসেন বলেন, আমি দেখেছি যখন ইসমত আরার স্বামী সুস্থ ছিল। ব্যবসা করে যা আয় করতো তা বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য খরচ করতো। এখন তিনি অসুস্থ তবুও বৃদ্ধাশ্রমটি বন্ধ করেন নি। নিজের মাঠের জমি বিক্রি করে চালিয়েছেন। মাঠের জমি শেষ, এখন কি করবেন। সমাজের উচ্চবিত্তদের তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
একই গ্রামের ব্যবসায়ী আবু তালেব জানান, শুরু থেকে বৃদ্ধাশ্রমটি ভালভাবে চললেও এখন আর আগের মত খরচ করতে পারেন না তিনি। গ্রামের কিছু মানুষ সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিনই বা চলবে। বৃদ্ধাশ্রমের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা নিমরি খাতুন জানান, তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। ছেলেমেয়েরা ঠিকমত খেতে পরতে দিত না। তাই এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন তিনি। প্রথম কিছুদিন ভালভাবেই চলছিল। কিন্তু এখন আর আগের মত চালাতে পারছে না ইসমত আরা। জমি জায়গা সব শেষ। যে ঘরে তারা থাকেন সেটাও নষ্টের পথে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। ঠেকারি বেগম নামের আরেকজন জানান, বৃদ্ধাশ্রমের শুরু থেকেই তিনি আছেন। আগে কোন সমস্যা না হলেও এখন সমস্যা হয়। খাবারের কোন সমস্যা না হলেও পোশাক-আশাকের সমস্যা। যেটুকু জায়গার উপর তারা থাকেন সেখানে একটি ঘর থাকলে ভাল হতো বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ইসমত আরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি বৃদ্ধাশ্রমটি শুরু করি। আমার স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে একটু সমস্যা হচ্ছে। বৃদ্ধ মায়েদের মাছ, মাংস দিয়ে খাবার দিতে না পারলেও দুবেলা দু’মুটো ডাল-ভাত দিতে পারছি। আবাদি জমি সবই বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে বাড়ির পুকুর আর কিছু জমি আছে। সেখানেই শাক-সবজি আর মাছ চাষ করে কোনমত চালাচ্ছি। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেয়া হয়ে থাকে। এবারের ঈদে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মজিদ ২০টি শাড়ি দিয়েছেন। তারপরও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি একটু নজর দিত তাহলে ২০ জন বৃদ্ধ মায়েদের নিয়ে একটু বাঁচতে পারতাম।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমি হরিণাকুণ্ডুু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়ার বৃদ্ধাশ্রমটিতে গিয়েছি। সেখানে কিছু সমস্যা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আবেদন করতে বলেছি। সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যদি কোন আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকে তাহলে তাদের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ওয়াজ কুরুনীএক্সক্লুসিভ
অর্থাভাবে অবশেষে বন্ধ হতে চলেছে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুুর পৌরসভার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের বৃদ্ধাশ্রমটি। নিজের ৭ বিঘা জমি বিক্রি করে ৩ বছর ধরে চালানো ওই বৃদ্ধাশ্রমটি এখন বন্ধের পথে। যতটুকু জমি ছিল তা বিক্রি করে চালিয়েছেন, আর জমি শেষ হওয়ায় একার পক্ষে আর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আশায়...