ময়মনসিংহ অফিস । ত্রিশাল সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নাতি জিহাদ মিয়া’র (১০) সঙ্গে অংশ নিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সের নানী সুন্দরী বেগম। তারা উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ওই পরীক্ষা দিচ্ছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

জানা যায়, সুন্দরী বেগমের স্বামীর নাম আবুল হোসেন। তিনি পেশায় একজন বর্গাচাষী কৃষক। তিনি এবং তার স্ত্রী লেখা পড়া জানেন না। তাদের সংসারে চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে একজন সৌদিপ্রবাসী, দুইজন ভ্যানচালক। শুধু ছোট ছেলে সাইদুল ইসলামকে কষ্ট করে এইচএসসি পাস করিয়েছেন। ৬ বছর আগে সুন্দরী বেগম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কাশিগঞ্জ শাখায় হিসাব খুলতে যান। সুন্দরী বেগম কোনো রকম স্বাক্ষর করতে শিখেছিলেন। তিনটি স্বাক্ষরের মধ্যে একটি স্বাক্ষর ভুল হওয়ায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ফাইলটি সুন্দরী বেগমের সামনে ছুড়ে মারেন। কেঁদে কেঁদে বাড়ি ফিরে তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন, যে কোনো মূল্যে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসবেন তিনি। পরের দিন নাতি জিহাদকে নিয়ে সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ঝিয়ের কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে ক্লাস করতেন। ৬ বছর পরিশ্রমের পর এ বছর তিনি নাতির সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষা চলাকালে চাউলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৩শ’ ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী সুন্দরী বেগমও মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সুন্দরী বেগম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহারে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিজ্ঞা করে তিনি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।তিনি বলেন, আমার এবং শ্বশুরের পরিবার অতিদরিদ্র হওয়ায় ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও পড়াশোনা করতে পারিনি। সন্তানদেরও পড়াশোনা করাতে পারিনি। তিনি বলেন, ৬৫ বছরে সব ক্লাস পরীক্ষায় নাতির বয়সী সব শিক্ষার্থী-শিক্ষকের ব্যাপক উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়ে আজ আমি শিক্ষায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেছি। আমি সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, আমার লেখা-পড়ার প্রথম উৎসাহ তিনিই দিয়ে ছিলেন।

সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, আমার স্কুলের ২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দরী বেগমও পরীক্ষায় ভাল করবে এবং তিনি নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বেরিয়ে আসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এ ব্যাপারে ত্রিশাল উপজেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সুন্দরী বেগমকে স্কুলে ভর্তি হলে থাকে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেই। আজ তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছেন এবং আশা করি তিনি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করবেন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/827.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/827-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
ময়মনসিংহ অফিস । ত্রিশাল সংবাদদাতা ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নাতি জিহাদ মিয়া'র (১০) সঙ্গে অংশ নিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সের নানী সুন্দরী বেগম। তারা উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ওই পরীক্ষা দিচ্ছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। জানা যায়, সুন্দরী বেগমের স্বামীর...