02_266094
২০১৩ সালে পোশাক খাতে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পর এর প্রথম সুযোগটি নিয়েছিলেন শিল্প এলাকাগুলোর বাড়ির মালিকরা। শ্রমিকরা নতুন হারে মজুরি হাতে পাওয়ার পরই বাড়িভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাড়িওয়ালারা।

বেতন বাড়ার পর বাড়িভাড়া বাড়ার এ প্রবণতা দেশে নতুন নয়। এর সবচেয়ে বড় ‘সুযোগ’ আসে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর। অষ্টম বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ফলে ভাড়াটিয়াদের মধ্যে শুরু হয়েছে ভাড়া বাড়ানোর আতঙ্ক। আসছে মাসগুলোতে বাড়িওয়ালা কত টাকা ভাড়া বাড়াতে পারেন, সে টাকা কোথা থেকে আসবে- এর হিসাব কষা শুরু হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাজার দরেও প্রভাব ফেলবে।

অবশ্য সরকারি খাতের কর্মচারীদের এ নিয়ে দুশ্চিন্তা কম। তাঁদের বেতন বেশ ভালো হারেই বাড়ল। চিন্তায় পড়েছেন বেসরকারি খাতের কর্মীরা। বাড়িভাড়া, পরিবহন খরচ বাড়লে তা শুধু সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সবার জন্যই বাড়বে।

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর ফলে বেসরকারি খাতেও বেতন বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হবে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তটির চাপ বেসরকারি খাতে সরাসরি পড়বে। আগামী এপ্রিলেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাতার দাবি উঠবে। তবে বেতন বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি এখন সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেই।

সরকারি খাতে বেতন বাড়ার ফলে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজারে বাড়তি ১৫ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে। এই টাকা মানুষের কেনার সক্ষমতা বাড়াবে, পণ্যের চাহিদা বাড়াবে- যা স্বাভাবিকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ ফেলার কথা। তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন, মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন বেতন কাঠামো তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মূল্যস্ফীতির ওপর ততটা চাপ পড়ার কথা নয়। কারণ সরকারের বাজেট ঘাটতি এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। সরকার যদি বাজেট ঘাটতি সীমার মধ্যে রাখতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি তার ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করতে পারে- তাহলে মূল্যস্ফীতি খুব বেশি বাড়ার আশঙ্কা নেই।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদও মনে করেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ৪০-৬০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এ ছাড়া অর্থনীতিতে স্লথগতি বিরাজ করছে। এমন সময় সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে না।

ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, মোট শ্রমশক্তির খুব কম অংশ সরকারি খাতের। তাই তাদের বেতন বাড়লেও বাজারে এর প্রভাব সীমিতই থাকার কথা। পাশাপাশি ওই বাড়তি টাকা কখন বাজারে আসবে, সেটা কিভাবে খরচ হবে- এর ওপরও মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে।

ওই তিন বিশ্লেষকই বাড়িভাড়া, পরিবহন খরচসহ বিচ্ছিন্নভাবে কিছু খাতে চাপ পড়ার বিষয়ে একমত। ড. আহসান এইচ মনসুর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বাড়িভাড়া, পরিবহনভাড়া, এগুলো হয়তো কিছু বাড়বে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাংলাদেশে বাস্তবতা হলো কোনো কারণ না থাকলেও বাড়িভাড়া বাড়ে। বাড়িওয়ালারা চেষ্টা করবেন বাড়তি বেতনের সুযোগটি নিতে। যৌক্তিক কারণ না থাকলেও বাজারে বেতন বাড়ার মানসিক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন মামুন রশীদ। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বেতন বেড়ে গেছে- এ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এ দেশের বাজারব্যবস্থা সুসংগঠিত নয়।

ড. মুস্তফা কে মুজেরী, মামুন রশীদ ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক মনে করেন, সরকারি খাতে বেতন ও নতুন আর একটি উৎসব ভাতা বাড়ানোর ফলে বেসরকারি খাতে প্রত্যাশা বাড়বে। তবে সে প্রত্যাশা দাবিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ কম। কারণ এখন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাড়তি গতি নেই। বড় বড় খাতগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে কর্মীরা চাইলেও বেতন বাড়ানোর সক্ষমতা বেসরকারি খাতে নেই। ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন উৎসব ভাতা চালুর দাবি উঠবে বলে মনে করেন। তবে বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে বলে মনে করেন না তিনি।

ড. মুস্তফা কে মুজেরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সরকারি বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতেও প্রত্যাশা তৈরি হয়। সেটা নতুন নয়। কারণ এ দেশে সব খাতেই বেতন অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। তাই প্রত্যাশা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সেটা দাবিতে পরিণত হয় কি না- তা নির্ভর করবে বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর।

ফজলুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বেসরকারি খাত এখন বেতন বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত নয়। সেখানে স্লথগতি চলছে। তাই প্রত্যাশা তৈরি হলেও সেটা চাপ দেওয়ার পর্যায়ে যাবে না। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বেতন প্রতিবছরই বাড়ে। এটা বাজারের ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু এখন বাজার ভালো নয়, তাই বাড়ার সুযোগ কম।

বাংলা নববর্ষে সরকারি কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাবেন। আহসান এইচ মনসুর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, নতুন উৎসব ভাতা বেসরকারি খাতে প্রত্যাশার জন্ম দেবে।

হাসন রাজাপ্রথম পাতা
২০১৩ সালে পোশাক খাতে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পর এর প্রথম সুযোগটি নিয়েছিলেন শিল্প এলাকাগুলোর বাড়ির মালিকরা। শ্রমিকরা নতুন হারে মজুরি হাতে পাওয়ার পরই বাড়িভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাড়িওয়ালারা। বেতন বাড়ার পর বাড়িভাড়া বাড়ার এ প্রবণতা দেশে নতুন নয়। এর সবচেয়ে বড় 'সুযোগ' আসে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর। অষ্টম বেতন...