1441564067
পানি বাড়ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জামালপুর, শেরপুরেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লাপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন এক নারী।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনা নদীতে গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জ জেলায় এনায়েতপুর এবং চৌহালীর সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ১০টি ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। টিউবয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উল্লাপাড়ায় পানিতে ডুবে মোমেনা খাতুন (৫০) নামের এক মহিলা মারা গেছেন। তিনি উপজেলার সড়াতৈল গ্রামের তমিজ উদ্দিন সরকারের স্ত্রী। উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল হুদা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় মোমেনা তার বাড়ির পাশের খালে গোসল করতে নামলে স্রোতের তোড়ে ডুবে যান। রবিবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ পাশের পূর্ণিমাগাঁতী সড়ক সেতুর নিকট থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এদিকে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রবিবার বন্যার পানি উল্লাপাড়া পৌর শহরে প্রবেশ করেছে।

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ অঞ্চলে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছেন। শতাধিক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। বানভাসি মানুষ মানবতার জীবন যাপন করছেন।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গার ফলে গত কয়েক দিনে জেলার আত্রাই, রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছেন। পানির স্রোতে শত শত কাঁচা বাড়ি-ঘর ও গাছ-পালা ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় বিছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাটোরের পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চার সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী তীরের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, অবিরাম ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। গত শনিবার নতুন করে আরো ৫৯ গ্রামের ৩২ হাজার ৬৪৮ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফলে জেলার সাত উপজেলার ৬৩ ইউনিয়নের ৪১৬টি গ্রামের প্রায় তিন লাখ পানিবন্দী মানুষ বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, টয়লেট সমস্যা, গো-খাদ্য সংকটসহ নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পানিবন্দী এসব মানুষের কেউ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে, কেউ স্কুল-কলেজে আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন করে আরো ১৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে করে জেলায় এখন পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমির ফসল। নতুন করে ১২৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে গাইবান্ধায় যোগযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা ও সাঘাটা (গাইবান্ধা) সংবাদদাতাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর দিয়েছেন।

আত্রাই (নওগাঁ) ও মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর আত্রাই ও মহাদেবপুরে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। আত্রাই-নওগাঁ সড়কের মির্জাপুরের ভাঙ্গন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় বিলাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার আরো শতাধিক গ্রাম। বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু করেছে। শনিবার রাতে তিস্তার ভাঙ্গনে চরখড়িবাড়ীতে রাস্তার তিন মিটার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরখড়িবাড়ীর তিন শতাধিক বাড়িতে নতুন করে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। চরখড়িবাড়ী বিজিপি ক্যাম্পের ভিতরেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সাতটি উপজেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ-ইসলামপুরসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরে যমুনা, ব্রক্ষপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় তৃতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা ও মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর দিয়েছেন।

হীরা পান্নাপ্রথম পাতা
পানি বাড়ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জামালপুর, শেরপুরেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লাপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন এক নারী। চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনা নদীতে গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জ জেলায় এনায়েতপুর এবং...