1440784331
ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। দেশ দুটির মধ্যে সম্প্রতি কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল হয়ে যায় গত সপ্তাহে বৈঠক শুরু হওয়ার আগের রাতে। এরপর দুই দেশ বৈঠক বাতিলের জন্য একে অপরের ওপর দোষারোপ করতে থাকে। এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর স্পিকারদের সম্মেলনও বাতিল হয়ে যায়। সেই উত্তেজনায় গতকাল শুক্রবার যোগ হলো জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে দুই পক্ষের গোলাগুলি। এতে দুই দেশের অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। তবে গুলি চালানোর ঘটনায়ও চলছে দোষারোপের রাজনীতি। এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, পাকিস্তানের জন্য একমাত্র বাহ্যিক হুমকি ভারত।

সীমান্তে ভারত আগে গুলি ছুড়েছে এই অভিযোগে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার টিসিএ রখভানকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

পাকিস্তানের ৮ জন এবং ভারতের ৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশ দুটির গণমাধ্যম। পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন সেনাবাহিনীর ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানের ৮ জন নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তের লাইন অব কন্ট্রোলে গতকাল সকালে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এজন্য উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে।

ডন জানায়, পাকিস্তানের শিয়ালকোটের চারধা, হারপার, চাপরার এবং সুচিতগড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে ৮ জন নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৭ জনের কথা শোনা গিয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী ৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। আহত হয়েছে ৪৭ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানি রেঞ্জারসও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতকে ২০০৩ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানান। তবে ভারতও একই আহ্বান জানিয়ে আসছে পাকিস্তানের প্রতি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ গতকাল আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তের আর এস পুরা সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনীর উস্কানিমূলক গুলিতে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২২ জন। বিএসএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানি রেঞ্জারসরা মধ্যরাত থেকেই গুলি শুরু করে। তারা ছোট্ট অস্ত্র দিয়ে গুলি করলেও পরে বিএসএফ পোস্ট এবং বেসামরিক এলাকা লক্ষ করে মর্টার শেল ব্যবহার করে হামলা চালায়। রাত ১টার দিকে পাকিস্তানি রেঞ্জারসরা শেল নিক্ষেপ শুরু করে। গত প্রায় এক মাস ধরে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত শাসিত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা সীমরানদ্বীপ সিং অভিযোগ করেন, কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই পাকিস্তান বাহিনী আর এস পুরা সেক্টরে গুলি চালায় এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভারত ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী পালন করে।

জাতিসংঘ মহাসচিব এর আগে এই উত্তেজনা এবং নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৩ সালে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও বিভিন্ন সময় একে অপরের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারত হুমকি

ডন জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, দেশের জন্য একমাত্র বাহ্যিক হুমকি ভারত। বৃহস্পতিবার দেশটির সিনেট প্রতিরক্ষা কমিটি এই মন্তব্য করে। সিনেটের প্রতিনিধিরা জয়েন্ট স্টাফ হেডকোয়ার্টারস (সদর দফতর) পরিদর্শনে গেলে সেনা কর্মকর্তারা তাদেরকে এ কথা বলেন। প্রতিরক্ষায় এবং কৌশল প্রণয়নে হেডকোয়ার্টারস কিভাবে ভূমিকা পালন করছে সেই বিষয়টিও প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়।

এই প্রথম সিনেটের প্রতিনিধিরা সদরদফতর পরিদর্শন করলেন। সেখানে জয়েন্ট চীফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল রাশেদ মাহমুদ এবং তার দল প্রতিনিধিদের ব্রিফিং করেন। সিনেটের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মুশাহিদ হুস-সেইন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত গত কয়েক বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় করেছে যার ৮০ শতাংশ কেনা হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।

ভারতীয় সেনাবাহিনী কিনেই চলেছে এবং আগামী ৫ বছরে তারা আরো ১০০ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় করবে। ভারত বিশ্বের অস্ত্র ক্রয়ের দেশের দিক থেকে দ্বিতীয়। চলতি বছরের জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার যা প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের সমান। সেনাকর্মকর্তারা একটি ইন্টার সার্ভিসেস সাইবার কমান্ড গড়ে তোলারও আহবান জানান। কারণ সাইবার হামলা ঘটার সম্ভাবনা আছে এবং সেটা একটা বড় হুমকি। একটা সাইবার যুদ্ধের সম্ভাবনা এতে বাড়বে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বাতিল হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ছে।

শুভ সমরাটআন্তর্জাতিক
ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। দেশ দুটির মধ্যে সম্প্রতি কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল হয়ে যায় গত সপ্তাহে বৈঠক শুরু হওয়ার আগের রাতে। এরপর দুই দেশ বৈঠক বাতিলের জন্য একে অপরের ওপর...