image_261168.porimoni
যাত্রাপালার একজন নর্তকী যে শুধু নর্তকীই নন, একজন বিনোদন কন্যাই নন। একজন মানুষ, যার বুকের ভেতরে একটি হৃদয় আছে। যার মধ্যে জমানো আছে ভালোবাসা, ঘর সংসারের কিছু স্বপ্ন, আছে সত্যিকার মানুষের মতোই মানবিকতা। রুপালি পর্দায় এমন কিছু জীবন্ত চিত্র দিয়েই কাঁদিয়ে ফেলতে পারেন পরীমনি। দর্শকদের বুকফাটা কান্না চলে আসবে। পরীমনিকে নিয়ে পরিচালক রওশন আরা নিপা এভাবেই টেলিফোনে জানাচ্ছিলেন তাঁর প্রথম পরিচালনার ছবি ‘মহুয়া সুন্দরী’ চলচ্চিত্র নিয়ে আলাপচারিতায়।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে পারে ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়া সুন্দরীকে নিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি অনুদান পাওয়া চলচ্চিত্র ‘মহুয়া সুন্দরী।’ নিপা বলেন, মহুয়া সুন্দরীর এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে যা আমরা দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে নিজেরাই কেঁদে ফেলেছি, পরীমনির অভিনয় আমাদের চোখে জলে এনে দিয়েছে। যা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি নি কখন আমরা কেঁদে ফেলেছি।

‘মহুয়া সুন্দরী’ নিপার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র হলেও সেলুলয়েডের অভিজ্ঞতা কিন্তু কম নয়। ১৯৯৭ সালে ‘গোধূলির লগন’ নাটকের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন নিপা। এরপর ‘আপন আমার আপন’, ‘বিজয়িনী’, ‘অবাক জলপান’সহ বেশকটি নাটক নির্মাণ করেন তিনি।

‘ঠাকুরমার ঝুলি’ এবং ‘কুয়াশার কণা’ নামে দুটি ধারাবাহিকও নির্মাণ করেছেন তিনি। তবে নিপা বেশি মনোযোগী ছিলেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের প্রতি। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শিশুদের নিয়ে ‘চিলড্রেন ইন দ্য হিডেন ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে সে যাত্রা শুরু। সম্প্রতি তিনি ‘জননী’ নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

তবে নিপার ক্যারিয়ারের আলোচিত ধাপ হলো- ২০০৪ সালে বেসরকারি এটিএন বাংলায় ‘আমরাও পারি’ নামের একটি চিত্রনাট্য তৈরি। যা পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ছোট পর্দার অস্কার খ্যাত ‘অ্যামি অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নিয়েছিলো ‘আমরাও পারি।’ চ্যানেলটিকে এনে দিয়েছিল খ্যাতি।

প্রথম চলচ্চিত্র ‘মহুয়া সুন্দরী’তে দেখা যাবে, যাত্রাদলের নায়িকা ছবি রানি, ‘মহুয়া’ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজেকে ‘মহুয়া’ ভাবতে শুরু করে। এদিকে যাত্রা দেখতে আসা জীবনও নিজেকে মহুয়ার প্রেমিক জমিদারবাবু ভাবতে শুরু করে।

নিপা বলেন, ‘মহুয়া সুন্দরী’ একটি ‘নিখুঁত’ প্রেমের গল্প, এ সময়ের প্রেক্ষাপটে ফ্ল্যাশব্যাকে হাজির করা হবে ‘মহুয়া সুন্দরী’কে। যাত্রাপালার মহুয়ায় অভিনয় করতে আসা ছবি রানি নিজেকে মহুয়া রূপে আবির্ভূত করবেন। যাত্রাপালায় নিজেকে মহুয়ারূপে মেলে ধরবেন। একসময় বাস্তবে ফিরে এসে ‘ছবি রানি’ হয়ে দর্শকদের কাঁদিয়ে যাবেন।
image_261168_0.10897125_10152951567877618_3686010567215028232_n
নিপা বলেন, বর্তমান ‘কমন’ গল্পের বাইরে একদম আলাদা স্বাদের একটা চলচ্চিত্র দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছি, আমার প্রত্যাশাটা অনেক দেখা যাক বাকিটা দর্শকরাই বলবেন। যাঁরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে একটি পরিপূর্ণ প্রেম, হাসি-কান্না আর বিরহের ছবি দেখতে চান, তাঁদের জন্য এই ছবি। তবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়ে যাঁরা লোকজ সংগীত এবং মাটির ঘ্রাণ নিতে চান, তাঁরাও এ ছবি দেখে আনন্দ পাবেন।

ছবিটির চিত্রনাট্যও লিখেছেন পরিচালক নিজেই। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুচরিতা, মামুনুর রশীদ ও মহুয়ার নায়ক হিসেবে রয়েছেন সুমিত।

সুরুজ বাঙালীবিনোদন
যাত্রাপালার একজন নর্তকী যে শুধু নর্তকীই নন, একজন বিনোদন কন্যাই নন। একজন মানুষ, যার বুকের ভেতরে একটি হৃদয় আছে। যার মধ্যে জমানো আছে ভালোবাসা, ঘর সংসারের কিছু স্বপ্ন, আছে সত্যিকার মানুষের মতোই মানবিকতা। রুপালি পর্দায় এমন কিছু জীবন্ত চিত্র দিয়েই কাঁদিয়ে ফেলতে পারেন পরীমনি। দর্শকদের বুকফাটা কান্না চলে আসবে।...