1441139904
ক্যারিয়ার মানুষ নির্ধারণ করে তার জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার স্বার্থে। জীবন ছুটে চলে অন্তহীন গন্তব্যে। যে গন্তব্যে ক্যারিয়ার হয়ে পড়ে বিকল যদি না ক্যারিয়ার এবং জীবনের উদ্দেশ্য একই উত্স থেকে একই লক্ষ্যে গড়ে না উঠে। জীবিকার জন্য ক্যারিয়ার জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করে না কিন্তু জীবনের মহাসাফল্যে গড়ে উঠা ক্যারিয়ার জীবিকারও নিশ্চিয়তা দেয়। আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময়ে মুখোমুখি হতে হয় বিভিন্ন পরিস্থিতির। আর এগুলোকে জয় করেই জীবন এগিয়ে চলে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানুষ হয়ে ওঠে জ্ঞানী মহাজ্ঞানী চিরস্মরণীয়। একজন সফল ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি স্তরে যথার্থ পরিকল্পনা নিয়ে সময়ের সদ্ব্যবহার করে জীবনকে সাজান। আপনিও যদি অন্যান্য সফল ব্যক্তির মতো জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো কিছু করার আগে কাজটা কিভাবে সুন্দর, যথাযথ ও সঠিকভাবে, কম সময়ে শেষ করা যায় সেজন্য আগে থেকে চিন্তা করাই হলো পরিকল্পনা। একজন মানুষ তার জীবনের শুরুতেই যদি একটি ভালো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে তাহলেই তার জীবন পাল্টে যেতে পারে।
পরিকল্পনা
পরিকল্পনা করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাহিদা, অবস্থান, সামর্থ্য এবং রুচিবোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্য আপনি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান গ্রহণ করতে পারেন। স্বল্প সম্পদ দিয়ে সঠিক সময়ের মধ্যে যখন আপনি কোনো কাজের কথা ভাবেন তখন সেটা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় এক্ষেত্রে থাকা উচিত। যথা—লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত, সঠিক কাজ, সময় ও প্রচেষ্টা। জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিদ্ধান্ত বলতে একটি কাজ করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটি থেকে বিকল্প বা কোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়াকে বোঝায়। আর সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ার ওপর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত শেষে আপনাকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সময়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
শুরু করতে পারেন যেভাবে
তোমার জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য—স্কুলে এই বিষয়ে রচনা লেখেনি এমন শিক্ষার্থী কমই আছে। মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার শিক্ষক ইত্যাদি। ইচ্ছা অনুযায়ী এই কিশোর বয়স থেকে শুরু করা উচিত ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। কারণ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আসল সময় এই বয়সটাই। যদি প্রস্তুতি সঠিক হয় তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিকল্পনাটির বাস্তব রূপলাভ সম্ভব। আর সেটা সম্ভব আমাদের প্রচেষ্টা, ইচ্ছা, আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা দিয়ে। তবে এক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত সামর্থ্য, দক্ষতা, আগ্রহ, রুচি, উত্সাহ, মূল্যবোধ, স্বপ্ন এবং গুণাবলিকে প্রাধান্য দিতে হবে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা।
ইতিবাচক মনোভাব
আমরা সবাই জানি নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ও মনোভাব সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য। সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়তেও ইতিবাচক মনোভাবের বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি কাজেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রাধান্য বেশি। আমি অথবা আপনি এটা ভালো করেই জানি ‘উপদেশ দেওয়া সহজ তবে পালন করাটাই কঠিন’। সেই সাথে আমরা এটাও জানি, ইতিবাচক অবস্থান একজন মানুষকে কোলাহল, উত্তেজনা, উগ্রতা, দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখে। আপনি যখন মনের দিক থেকে সত্ থাকবেন, তখন আপনাআপনি মন প্রফুল্ল থাকবে। নিজের সাথে বোঝাপড়াটাও ভালো হবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারলে স্বপ্নের চাকরিটাই না শুধু, যেকোনো কাজেই সফলতা পেতে পারি আমরা।

সময়ের যথার্থ ব্যবহার
সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অবশ্যই আপনাকে সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে। সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। তবে সময় ধরে রুটিন অনুযায়ী চললে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে তেমন বেগ পেতে হয় না।
নিজেকে জানুন
বর্তমানে প্রতিযোগিতার যুগে নিজেকে যাচাই করার মাধ্যমে অন্যকে বুঝতে হবে। আপনার ভালোলাগা, সামর্থ্য, রুচি, মূল্যবোধ ইত্যাদি ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করুন। আর নিজেকে জানার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠা।

হীরা পান্নালাইফ স্টাইল
ক্যারিয়ার মানুষ নির্ধারণ করে তার জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার স্বার্থে। জীবন ছুটে চলে অন্তহীন গন্তব্যে। যে গন্তব্যে ক্যারিয়ার হয়ে পড়ে বিকল যদি না ক্যারিয়ার এবং জীবনের উদ্দেশ্য একই উত্স থেকে একই লক্ষ্যে গড়ে না উঠে। জীবিকার জন্য ক্যারিয়ার জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করে না কিন্তু জীবনের মহাসাফল্যে গড়ে উঠা ক্যারিয়ার...