90580_f3
দলের পুনর্গঠনে যোগ্য ও আনুগত্যশীল নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের ঢাকায় বসে পকেট কমিটি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সারা দেশে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছি। যারা দলের প্রতি আনুগত্যশীল, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জীবন বাজি রাখবে তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। আর ফাঁকিবাজ ও নিষ্ক্রিয়দের পেছনের সারিতে নিয়ে যাবেন। উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা যার যার এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দয়া করে ঢাকায় বসে পকেট কমিটি করবেন না। কারণ অনেকদিন ধরেই আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এলাকার অনেক নেতাকেই আমি চিনি যাদের আপনারাও চিনেন না। তাই পকেট কমিটি করলেও আমি বিশ্বাস করবো না। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, হেফাজত হত্যাকাণ্ড, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও যত গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে সব শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়েছে। কারণ উপরের নির্দেশ ছাড়া র‌্যাব ও অন্যান্য এজেন্সি এসব কাজ করতে পারবে না। তাই শেখ হাসিনাকে এসবের দায় নিতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য উন্মাদের মতো কথা বলছেন। আমরা প্রতিহিংসাবশত কোন সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসন ও বাহিনীর লোকের চাকরিচ্যুত করার কথা বলবো না। র‌্যাব-পুলিশসহ এজেন্সির লোকজন যা করেছে তা শেখ হাসিনার নির্দেশেই করেছে। এসবের দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। তার ক্যাবিনেটের কিছু পরগাছাকে বহন করতে হবে। যারা লেজ নাড়ায়, জুতো পালিশ করতে বললেও করে দেয়। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ যে একটি বড় গাছ তা শুকিয়ে ফেলবে কিছু পরগাছা। এসব পরগাছা গাছের রস শুষে খেয়ে ফেলবে। তারা ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনেও জিতবে না। তাদের চেহেরা দেখলেই বুঝতে পারে হত্যা ছাড়া তারা কিছুই করতে পারে না। এসব পরগাছার জন্য আওয়ামী লীগ তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারছে না। পরগাছাদের জন্য আওয়ামী লীগের বহু ত্যাগী নেতা এখন দূরে সরে আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বয়স সবার হয়েছে; একদিন আল্লাহ কাছে যেতে হবে। সবকিছুর জবাবদিহি করতে হবে। তাই সময় থাকতে কিছু ভাল কাজ করে যান। নারী নির্যাতনের সমালোচনা করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী হয়ে নারী নির্যাতনের কথা বলতে লজ্জা হচ্ছে। এখন শিশুদেরও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। সরকারের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা শান্তি চাই, উন্নয়ন চাই, নারীদের নিরাপদ পরিবেশ গড়তে চাই। আমরা মারামারি, হানাহানি ও গালাগালিতে বিশ্বাসী নই। আসুন যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সে লক্ষ্য অর্জনে সবাই কাজ করি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না, উন্নয়নের রাজনীতি করব। আসুন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের রাজনীতির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করি। খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দরকার। নাম যাই হোক, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা আওয়ামী লীগের অধীনে কয়েকটি নির্বাচনে গিয়ে দেখেছি তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আর দ্বিতীয়ত বর্তমান অথর্ব নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা বলছি না, আমাদের লোক দিতে হবে। নিরপেক্ষ মানুষের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এ সময় তিনি বৃটেন ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমাদের সে রকম হতে হবে। কেউ যেন ভাবতে না পারে আমরা চিরদিন ক্ষমতায় থাকবো। বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে পারলে সব থেকে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বিচার বিভাগে কোন ডিকটেশন দেব না। বিচারকরা যথেষ্ট শিক্ষিত এবং প্রজ্ঞাবান। বিচারকদের অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, আগে বিচারকরা পাবলিক অনুষ্ঠানে যেতেন না। কিন্তু এখন সরকারের সঙ্গে আসা-যাওয়া করছেন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এসব হতে দেবো না। সব থেকে স্বাধীন বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠা করব। তিনি বলেন, আমাদের সকলের নামে এক বা একাধিক মামলা আছে। এক সময় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ১৫টি মামলা ছিল। তিনি ক্ষমতায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও খালাস করে সুফি সেজেছেন। আর তার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ছিল ৭৫০০ হাজার মামলা। সেগুলোও তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে উপর্যুপরি মিথ্যা মামলা। তাই বলছি, জামিন বন্ধ করবেন না। আন্তর্জাতিক গুম দিবসে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুম দিবসের অনুষ্ঠান করতে না দেয়া কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, সরকার কেন জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুম দিবসের কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। আসলে তাদের ভয় কোথায়? তারা জানে, গুম ও গণহত্যা তারাই তো করেছে। তারা মানুষের কাছে কি জবাব দেবে। বাংলাদেশে গুম-খুনের ঘটনায় আবারও আন্তর্জাতিক মহরের কাছে তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। বাংলাদেশ বর্তমানে গণতন্ত্রহীন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশই আজকাল বলছে আমরাই তো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছি, আমরাতো তাদের ক্ষমতায় রেখেছি। কিন্তু পুলিশ দিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে না। পুলিশ দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন ও রক্ষা হয় না। এ সময় তিনি ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানসহ নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও চরিত্রহননের নিন্দা জানান। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রলীগ প্রতিদিনই দেশের এখানে সেখানে একে ওকে মারধর করছে। শিক্ষকদের মারছেন, পুলিশকে মারছেন, ইঞ্জিনিয়ারদের মারছেন, আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তো মারছেনই। সরকারের প্রতি প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে কি মানুষ পেটানোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে? বিএনপি বড় দল হিসেবে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠান করলে কর্মী-সমর্থকদের জায়গা দিতে পারে না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, আমাদের মুক্ত অঙ্গনে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দিন। এ সময় তিনি সারাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের বাধা ও হামলার ঘটনার নিন্দা জানান। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই। বাংলাদেশে কোন জঙ্গির স্থান হবে না। আমাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষ সমান। শেখ হাসিনার সময়েই দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ে। আসলে হাসিনাই তাদের মদদদাতা। একদিকে মদদ দিয়ে আরেকদিকে সাধু সাজতে চান। তিনি বলেন, এ সরকার মনে করছে আমরা তো পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বেতন বাড়িয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে কে? কিন্তু তারা দেশের মোট মানুষের কতভাগ? এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোন সবজিই পাওয়া যায় না। চাল আমদানির সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমি আমদানি বিরোধী নই। তবে আমদানির আগে আমাদের দেশের কৃষকদের বাঁচাতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত পন্যে, ধান-চাল কিনতে হবে। যাতে কৃষকরা বাঁচে। খালেদা জিয়া বলেন, অনির্বাচিত ও স্বঘোষিত সরকার প্রতিবেশীদের সবই দিয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে আমরা কিছুই পাইনি। পানিতে শুকিয়ে মারবেন এটা তো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। গার্মেন্ট খাতের অস্থিরতা ও জিএসপি বন্ধের প্রসঙ্গে টেনে এ খাতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গার্মেন্ট, টেক্সটাইল ও পাটখাতকে চাঙ্গা করা হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সারাদেশে আমিও ঘুরেছি। কিন্তু পায়ে হেঁটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো আর কোন নেতা সারা দেশে ঘুরেনি। তিনিই প্রকৃত অর্থে গ্রামের উন্নয়ন শুরু করেছিলেন। তারই অবদান হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারের এত অভাব কেন? এভাবে চুরি করলে অভাব তো হবেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রি. জে. (অব.) হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল হালিম, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাহাদুর বেপারীজাতীয়
দলের পুনর্গঠনে যোগ্য ও আনুগত্যশীল নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের ঢাকায় বসে পকেট কমিটি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। দলের...