1437672558

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই প্রচেষ্টা চালিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হুমকির ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের কৌশল পরিবর্তন হচ্ছে। প্রযুক্তি ভালো কাজে ব্যবহূত হচ্ছে, আবার এই প্রযুক্তিই কিন্তু ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিনিয়তই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আধুনিকায়ন করছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ বাহিনীর সদস্যদের এক দরবারে ভাষণ দানকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসএসএফ রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান ও সরকার ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা সরকারে আসার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে সময়মত তথ্য সংগ্রহ করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যার যেখানে যে দায়িত্ব রয়েছে সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে বলেই আজ বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে জনগণ থেকে কোন রকম দূরত্বের সৃষ্টি না করে সে জন্য এসএসএফকে সব সময় সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি কার্যক্রম জনকল্যাণে প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয়। এজন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসম্পৃক্ততা বজায় রেখে দায়িত্ব ও জনপ্রত্যাশার মাঝে সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সার্থকতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি মনে রাখতে হবে আমরা রাজনীতি করি। আমাদের মূল শক্তি হচ্ছে জনগণ। তাই আমাদের জনবিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ করাই আমাদের রাজনীতি। কিন্তু রাজনীতিতে ঝুঁকি রয়েছে। বার বার আমার ওপর আক্রমণ হয়েছে। হত্যার চেষ্টা হয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা জরুরি। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে বেঁচে থাকা নিরর্থক হয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি তাঁর কাজের প্রতিটি দিন, ঘণ্টা ও মুহূর্তকে দেশের উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ ও দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমার রাজনীতি নিজের জন্য নয়। এদেশের মানুষ, এখনো যারা দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, এখনো যারা সুশিক্ষা পায়নি, দিনান্তে যাদের পান্তা ফুরানোর অবস্থা- তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমার দায়িত্ব। আর এ লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি করি। আমার নিজস্ব কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। এজন্য আমার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেককে কাজের বাড়তি চাপ নেয়া প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বলেন, আমার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেকের বাড়তি চাপ ও পরিশ্রম তখনই সার্থক হবে যখন আমাদের প্রয়াসের ফলশ্রুতিতে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে উঠবে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীও এর সুফল পাবে। সুযোগ্য নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের নিষ্ঠা, শ্রম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এসএসএফ-এর উত্তরোত্তর উন্নতি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি এসএসএফ সদস্যদের আনুগত্য, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, ভবিষ্যতেও এই বাহিনীর সদস্যরা নির্ভরতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বিগত সাড়ে ৬ বছরে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে অসামান্য দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। তিনি বলেন, আগামী সাড়ে ৩ বছরে দারিদ্র্যের হার আরো কমিয়ে ১৪-১৫ ভাগে নামিয়ে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ঘোষণা করা হবে এবং বাংলাদেশ আর নিম্ন আয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা জাতিসংঘে অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে খুবই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শিল্পী সানজিদা আক্তারের আঁঁকা একটি চিত্রকর্ম উপহার তুলে দেন এসএসএফ-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসান। তৈলরঙে আঁঁকা চিত্রকর্মটি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও স্মৃতিস্তম্ভের কাঠামোর। চিত্রকর্মটি হাতে নিতে গিয়ে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী বেশ খানিকটা সময় ধরে সেটি দেখেন। এ সময় তাকে ছবিটির বিষয়ে বর্ণনা দেন এসএসএফ মহাপরিচালক।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে এসএসএফ অফিসার্স মেসে এক মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেন। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), আইজিপি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এসএসএফ’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তাহসিনা সুলতানাজাতীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই প্রচেষ্টা চালিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হুমকির ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি...