1439879566
উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নারীরা। ঘরে কিংবা বাইরে এমন কোন কাজ নেই যা তারা করেন না। কাজের বিচারে এখন পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে। আমাদের দেশের প্রায় অর্ধেকই নারী। তারা শুধু চাকরি নয়, সন্তান পালন থেকে শুরু করে পরিবারের সব সদস্যের দেখাশুনা করেন। এ কাজে প্রায় সারাদিনই হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় তাদের। কাজেই স্বাস্থ্য সুরায় নারীদের কিছু ভিটামিন খাওয়া জরুরি। একজন শিক্ষিত মা শুধু পরিবার নয়, নিজের প্রতিও যত্নবান থাকেন।

জেনে নিন স্বাস্থ্য সুরায় প্রতিদিন কী কী ভিটামিন খাবেন নারীরা-

ক্যালসিয়াম
এই ভিটামিনটির অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগ হতে পারে। এই রোগে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগে। কাজেই নারীদের খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম প্রথম স্থানে রয়েছে। এটি হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। দুধের তৈরি খাদ্য ও ডিমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ
ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানাসহ ঘা, অস্থি-ঝিল্লির প্রদাহ ও ক্যারাটোম্যালেশিয়া রোগ হতে পারে। ভিটামিনটি মাসিক ঋতুচক্র, পিণ্ডময় স্তন, যোনি সংক্রমণের সময় অনেক উপকারি। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যান্সারেও ভালো কাজ করে ভিটামিন এ। টাটকা সবুজ সবজি ও লাল পাম তেল ভিটামিন-এ এর ভালো উৎস।

ভিটামিন বি১
এই ভিটামিনের অপর নাম হলো থায়ামিন। অপরিহার্য এই ভিটামিনটি দেহের চিনিকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে। চর্বিহীন মাংস, বাদাম ও শস্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১ রয়েছে।

ভিটামিন বি২
এর অপর নাম হলো রিবোফাভিন। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সচল রাখে। একইসাথে ত্বক, নখ ও চুলের যতেœও কাজ করে ভিটামিন বি২। দুধ ও সবুজ শাকসবজিতে প্রয়োজনীয় রিবোফাভিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি৬
এই ভিটামিনটি পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত। মাসিক ঋতুচক্র থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থার আগের সময়ে এই ভিটামিন খাওয়া ভালো। এতে শুধু নবজাতক পর্যাপ্ত দুধই পাবে না, একইসঙ্গে গর্ভাবস্থায় আপনার হতাশাও কমিয়ে দিবে। অ্যাভোকাডো, কলা ও বাদাম ভিটামিন বি৬ এর ভালো উৎস।

বায়োটিন
ভিটামিন বি৭ নামেও পরিচিত এই ভিটামিনটি। শরীরে হজমশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিনটি। এটি শুধু শর্করাকে শক্তিতেই পরিণত করে না, ত্বকের জন্যও অনেক ভালো ভিটামিনটি। সাধারণত কলা, ডিম, মাশরুম, গাজর, মাছ, মুরগির মাংস প্রভৃতিতে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি
সুস্বাস্থ্যের জন্য নারী-পুরুষ উভয়েরই ভিটামিন সি খাওয়া উচিত। ভিটামিনটি শুধু আপনার বয়স কমাতে সাহায্য করবে না; বরং ত্বক, চুল এবং নখেরও যত্ন নিবে। কমলালেবু ভিটামিন সি এর সবচেয়ে ভাল উৎস।

ভিটামিন ডি
খাবারের মাধ্যমে আমরা যে ক্যালসিয়াম দেহে নিয়ে থাকি তা ভিটামিন ডি এর মাধ্যমে হাড় দ্বারা শোষিত হয়। মাছ, মাছের তেল, দুধ, সয়া দুধ, ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন ডি। সকালে সূর্যের আলোর মাধ্যমেও দেহে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ সম্ভব।

ভিটামিন ই
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সৌন্দয্য পণ্যকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ত্বককে ভালো রাখায় ভিটামিনটি নারীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। পাশাপাশি দেরিতে গর্ভাবস্থা এবং মাসিক ঋতুচক্র সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধেও সহায়তা করে ভিটামিনটি। এর ভালো উৎস হলো- মাংস, মুরগির মাংস, ডিম ইত্যাদি।

ফলিক অ্যাসিড
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি নারীর ফলিক এসিড গ্রহণ করা জরুরি। আবার যারা মা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন কিংবা সন্তান জন্মদানের সময় বিভিন্ন সমস্যা এড়াতে চান তাদেরও এই ভিটামিন খাওয়া দরকার। সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।

কোলিন
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রুপের একটি ভিটামিন হলো কোলিন। গর্ভবতী মহিলাদের নিউরাল টিউব অপূর্ণতা প্রতিরোধ করতে এই ভিটামিন অপরিহার্য। এটি লিভারে উৎপাদিত হয়। ডিম এর চমৎকার খাদ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অর্ণব ভট্টস্বাস্থ্য কথা
উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নারীরা। ঘরে কিংবা বাইরে এমন কোন কাজ নেই যা তারা করেন না। কাজের বিচারে এখন পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে। আমাদের দেশের প্রায় অর্ধেকই নারী। তারা শুধু চাকরি নয়, সন্তান পালন থেকে শুরু করে পরিবারের সব সদস্যের দেখাশুনা করেন। এ...