77-480x350
ধানের আরো ১০টি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। শিগগিরই নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো অবমুক্ত করা হবে।
ইতিমধ্যে ব্রি-৬৩ ও ব্রি-৬৪ নামের দু’টি জাত জাতীয় বীজ বোর্ডের কারিগরি কমিটির অনুমোদন লাভ করেছে। বাকী ৮টি জাত জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল কর্তৃক মূল্যায়িত হয়েছে। এখন নামকরণ করে জাতগুলো বাজারে অবমুক্ত করে চাষাবাদের জন্যে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদের কোনটির জীবনকাল এক সপ্তাহ কম, কোনটির উৎপাদন হেক্টর প্রতি অনেক বেশি, কোনটিতে জিংকের পরিমাণ বেশি, কোনটি অধিক খরা বা লবণাক্ততা সহিষ্ণু। কোনটির চাল ল¤¦া, সরু এবং মৃদু সুগন্ধযুক্ত। আবার উদ্ভাবিত কয়েকটি জাতের ফলন গড়ে হেক্টর প্রতি ০.৫ টন বেশি।
প্রজনন পর্যায়ে খরা সহিষ্ণুতা, প্রচলিত অন্যান্য জাতের গড় মাত্রার চেয়ে ৮ মিলিগ্রাম বেশি জিংক এবং একটি জাত পুরো জীবনকালে ৮.০ ডিএস/মি. মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।
ব্রি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হেলাল উদ্দিন আহম্মদ জানান, বিগত কয়েক বছরে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার ধারাবাহিকতায় জাত উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে।
নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো হচ্ছে –
বিআর ৭৩৫৮-৩০-৩-১ : এই জাতটি ব্রি-ধান ৬৩ হিসেবে অনুমোদন করেছে। ব্রি ধান-৫০ এর চেয়ে এটি প্রায় এক টন বেশি ফলন দেয়। ব্রি ধান-৫০ এর গড় ফলন হেক্টরে ৬ টন। এছাড়াও নতুন উদ্ভাবিত জাতটিতে ব্রি ধান-৫০ এর তুলনায় প্রতি মণ ধানে আস্ত চালের পরিমাণ বেশি হয়। এ জাতের চাল লম্বা ও সরু এবং ভাত ঝরঝরে।
বিআর ৭৮৪০-৫৪-১-২-৫ : জিঙ্ক সমৃদ্ধ বোরো ধানের এই জাতটি ব্রি ধান-৬৪ হিসেবে অনুমোদন করেছে। এটি বোরো মৌসুমের উপযোগী প্রথম জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত হতে যাচ্ছে। এর প্রতি কেজি চালে ২৪ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে যা প্রচলিত অন্যান্য জাতের গড় মাত্রার চেয়ে ৮-১০ মিলিগ্রাম বেশি। এ জাতের চাল মাঝারি মোটা এবং ভাত ঝরঝরে।
ওএম ১৪৯০ : ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহীত বোনা আউশ মৌসুমে আবাদের উপযোগী জাত। এ জাতটি ব্রি ধান-৪৩ এর তুলনায় হেক্টর প্রতি আধা টনের বেশি ফলন দেয়। ব্রি ধান-৪৩ এর গড় ফলন হেক্টরে ৩.৫ টন।
বিআর ৭৬১১-৩১-৫-৩-২ : রোপা আমন মৌসুমের উপযোগী জাত। এ জাতটি ফলন ও জীবনকালের বিবেচনায় বিআর-১১ এর মতো। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা সহনশীল।
এইচইউএ ৫৬৫ : রোপা আমন ২০১৩ মৌসুমে চীন থেকে সংগৃহীত। এর জীবনকাল ব্রি ধান-৩৩ এর মতো এবং গড় ফলন ব্রি ধান-৩৩ এর চেয়ে হেক্টরে আধা টন বেশি। ব্রি ধান-৩৩ এর গড় ফলন হেক্টরে ৪.৫ টন। চাল ল¤¦া ও সরু এবং হালকা সুগন্ধ রয়েছে।
আইআর ৮২৬৩৫-বি-বি-৭৫-২ : ইরি থেকে সংগৃহীত। এর জীবনকাল গড়ে ১১৩ দিন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ব্রি ধান-৩৩ এর চেয়ে প্রায় এক টন বেশি। এর চাল ল¤¦া ও সরু।
বিআর ৭৮৩০-১৬-১-৫-৩ : এ জাতটি ব্রি ধান-২৮ এর চেয়ে হেক্টর প্রতি আধা টনের বেশি ফলন দেয়। ব্রি ধান-২৮ এর জীবনকাল ১৪০ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরে ৬ টন। চাল মাঝারি মোটা এবং ভাত ঝরঝরে।
চীন থেকে সংগৃহীত অন্য একটি জাত সেচের অনুকূল পরিবেশ উপযোগী হিসেবে অবমুক্তির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় বীজ বোর্ডের মূল্যায়ন দল গত বোরো ২০১৪ মৌসুমে প্রস্তাবিত জাত হিসেবে এর মাঠ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। এ জাত ব্রি ধান-২৮ এর চেয়ে হেক্টর প্রতি প্রায় এক টন বেশি ফলন দেয়। এ জাতের চাল মাঝারি মোটা।
বিআর ৭১০০-আর-৬-৬ এবং আইআর ৭৮৭৯৪-বি-স্যাট২৯-১ জাত হিসেবে জাতীয় বীজ বোর্ডের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে গত বোরো ২০১৪ মৌসুমে। এটি লবণাক্ততা সহনশীল প্রস্তাবিত বোরো ধানের জাত। পুরো জীবনকালে ৮ ডিএস/মিটার মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ব্রি ধান-৪৭ এর চেয়ে এ জাত ৫-৭ দিন আগে পাকে এবং লবণাক্ত পরিবেশে ব্রি ধান-৪৭ এর চেয়ে হেক্টরে আধা টন বেশি ফলন দেয়। চাল মাঝারি মোটা, ভাত ঝরঝরে এবং ধান ঝরে পড়ে না।

হীরা পান্নাঅন্যান্য
ধানের আরো ১০টি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। শিগগিরই নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো অবমুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ব্রি-৬৩ ও ব্রি-৬৪ নামের দু’টি জাত জাতীয় বীজ বোর্ডের কারিগরি কমিটির অনুমোদন লাভ করেছে। বাকী ৮টি জাত জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল কর্তৃক মূল্যায়িত হয়েছে। এখন নামকরণ করে...