1439126937_th
হত্যাকারীদের আইন নিজ হাতে তুলে না নেয়া এবং মুক্তমনা ব্লগারদের সীমালঙ্ঘন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজপি) একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ব্লগারেরা ব্লগে লিখতে পারেন, কিন্তু এমন কোন কিছু লেখা ঠিক নয় যাতে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগে। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া আইন অনুযায়ী অপরাধ। আপনারা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগার মত কিছু লিখবেন না।

রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরে ব্লগার ও শিশু হত্যা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ব্লগারদের হত্যা করে কেউ পার পাবে না। কোনো লেখায় কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তিনি আইনের সহায়তা নিতে পারেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে ১৪ বছরে জেলের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। মামলা দেয়া হলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এ সময় তিনি আইন হাতে তুলে না নিয়ে, সমাজে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য সকল সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

আইজিপি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে জঙ্গি তৎপরতার কারণে মামলা হয়েছে ৬৩২টি, মামলাগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে ৫১৬টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এগুলো আদালতে বিচারাধীন আছে। আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজার ৫৪৩ জন।

তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে আমাদের যে সফলতা নেই এটা ঠিক নয়। শতভাগ সফলতা না থাকলেও ৮০ ভাগ সফলতা আমাদের রয়েছে।

ব্লগার নিলয়সহ অন্যান্য ব্লগার হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত আলোচনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়। ব্লগার এবং মুক্তমনা লেখকদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি ব্লগারদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও বাড়িয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সিলেটের সামিউল আলম রাজন, খুলনার রাকিব, বরগুনার রবিউল ইসলাম, চাঁদপুরের সুমাইয়া আক্তারসহ চাঞ্চল্যকর শিশুহত্যা মামলা এবং ঢাকার সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

পর্যালোচনা সভায় বলা হয়, এ সকল মামলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। সামিউল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাকিব, রবিউল ও সুমাইয়া হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলার তিনজন আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইজিপি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে মামলাসমূহের চার্জশিট দেয়ার নির্দেশ দেন।

আইজিপি বলেন, শিশু হত্যা এবং শিশু নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশু হত্যা ও নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোঃ মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (অপারেশন্স) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) হেলাল উদ্দিন বদরীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কংকা চৌধুরীজাতীয়
হত্যাকারীদের আইন নিজ হাতে তুলে না নেয়া এবং মুক্তমনা ব্লগারদের সীমালঙ্ঘন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজপি) একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ব্লগারেরা ব্লগে লিখতে পারেন, কিন্তু এমন কোন কিছু লেখা ঠিক নয় যাতে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগে। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া আইন অনুযায়ী অপরাধ। আপনারা ধর্মীয়...