নিজস্ব প্রতিবেদক ।
দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমছে না। গেল পাঁচবছর ধরে নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫৪ ভাগে। অর্থাৎ প্রতি একশ কর্মে নিয়োজিত মানুষের উপর ৫৪ জন নির্ভরশীল। এ জনগোষ্ঠী কোনো উত্পাদনমুখী বা কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত নয়।

নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত গ্রামীণ অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নির্ভরশীল অনুপাত ৫৮ এবং শহরাঞ্চলে এই অনুপাত ৪৯ পাওয়া গেছে। বিবিএস এর জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যটিস্টিক্স’ এর সর্বশেষ বিস্তারিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের বছরব্যাপী তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায় দেশে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর হার সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২ ভাগ। অন্যদিকে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে রাজশাহীতে ৪৭। বরিশালে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত ৫৪, ঢাকায় ৫৫, খুলনা ৪৮ রংপুরে ৫২ এবং সিলেটে ৬০।

বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যটিক্স প্রকল্পের পরিচালক কে এম আশরাফুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ২০০২ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ ভাগ কমেছে। কিন্তু গেলো পাঁচ বছরের তথ্যানুযায়ী এই হার ৫৫ ভাগে স্থিতাবস্থায় রয়েছে। মূলত ১৪ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যাকে এই হিসাবের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ মাহাবুব আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মূলত আয় বৈষম্য বৃদ্ধির কারণেই নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত হারে কমছে না। যে হারে দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিবিএস এর তথ্যানুযায়ী ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান নির্ধারণের সূচক গিনি সহগ ২০১০ সালের পর বাড়ছে। অর্থাত্ দেশে উন্নতির সাথে সাথে সমাজে যে সম্পদ তৈরি হচ্ছে সেটি সমহারে বণ্টিত হচ্ছে না। ভোগব্যয় সমাজে উঁচুস্তরের বেশি হচ্ছে। সমাজের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ফলে তাদের উপর নির্ভরশীল মানুষের হার কমছে না বলে তিনি মনে করেন।

বিবিএস এর তথ্যানুযায়ী ২০০২ সালে প্রতি একশ জন কর্মে নিয়োজিত মানুষের বিপরীতে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত ছিল ৮০ জন। ২০১১ সালে এই অনুপাত ৬৮.৪ তে নেমে আসে। এর পরের পাঁচ বছর এটি গড়ে ৫৫ ভাগে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জেষ্ঠ্য সচিব) ড. শামসুল আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যার বোনাস যুগ বলতে যা বোঝায় আমরা এখন সে পর্যায়ে রয়েছি। তবে এই অবস্থা সবসময় এরকম থাকবে না। জন্ম হার কমে আসা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি সময় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি পাবে। ২০৪০ সালের পর দেশে এই নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক বাড়বে। সে জন্য দেশের উত্পাদন ও আয় বাড়িয়ে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করতে হবে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/01/321.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/01/321-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক । দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমছে না। গেল পাঁচবছর ধরে নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫৪ ভাগে। অর্থাৎ প্রতি একশ কর্মে নিয়োজিত মানুষের উপর ৫৪ জন নির্ভরশীল। এ জনগোষ্ঠী...