নিজস্ব প্রতিবেদক ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রদানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনগুলোতে দিনব্যাপী তল্লাশি চালিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে সন্দেহভাজন হিসেবে ৩২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবাসিক হোটেলগুলোতে ইতোমধ্যে পুলিশ গিয়ে সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে না রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। শুধু ব্যক্তিগত চিকিৎসা, নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি কোনো কাজ ছাড়া কেউ আবাসিক হোটেলে থাকতে পারবে না।

এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সোমবার বিকাল থেকেই আবাসিক হোটেলগুলোয় এক ধরনের বোর্ডার শূন্য পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সারাদেশে পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করে। আজ অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কীভাবে যাতায়াত করবেন- তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

সারাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে’। র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘যে কোনো প্রস্তুতি মোকাবেলার জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।’

সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজধানীতে ৪৯টি থানার কর্তব্যরত সকল পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ও ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স থেকে আনুমানিক ১২ হাজার পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সারাদেশে র‍্যাবের ১৪টি ব্যাটালিয়ন ৬ হাজার সদস্যকে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অপরদিকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশির পাশাপাশি ট্রেনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও পুলিশ। সারাদেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার রেলপথে বিশেষ নজরদারি করছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসীন রেজা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বিজিবি নামানো হয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পয়েন্টে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত পুলিশের র‌্যাকার ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রাখা হয়েছে। ১৩টি চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও তল্লাশি চালাচ্ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ উদ্যোগে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সকাল থেকেই লাঠি নিয়ে অবস্থান করবে। টার্মিনালে কোনো হামলা হলে তারা প্রতিরোধ করবে।

পুরান ঢাকায় বিশেষ করে কারা অধিদফতর চত্বরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে খাজা নাজিম উদ্দিন রোডে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে কেন্দ্র করে লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, চাঁনখারপুল এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/4-copy3.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/4-copy3-300x300.jpgশিশির সমরাটজাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক । জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রদানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনগুলোতে দিনব্যাপী তল্লাশি চালিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে সন্দেহভাজন হিসেবে ৩২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।...