1440532682
আড়িয়াল খাঁ নদে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে শিবচরের দত্তপাড়া অংশের একশ’ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি থেকে ভাঙ্গনের দূরত্ব এখন মাত্র ১৫০ মিটার। দেশের উত্তরাঞ্চলে কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, আবার কোথাও অপরিবর্তিত রয়েছে। বানভাসি এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। গাইবান্ধায় বাঁধ ধসে নতুন করে অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় আড়িয়াল খাঁ নদের পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শিবচরের দত্তপাড়া অংশে ১০টি ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদাত হুসাইন চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, মহাসড়ক সংলগ্ন বাঁধে ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা দরকার।

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ঘিওর পূর্ব পাড়া, কুস্তা, নারচী, এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গনে নদী গর্ভে চলে গেছে প্রায় অর্ধশত বসতভিটা, ব্রিজ, কালভার্ট ও ফসলি জমি।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এর পাশাপাশি যমুনা নদীতে ভাঙ্গনও অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুর প্রতিনিধি ও মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জেলায় বন্যার পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ২ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। গত চব্বিশ ঘন্টায় যমুনা নদীতে আর পানি বাড়েনি। তবে পানি বৃদ্ধি না পেলেও দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। হাজার হাজার মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে।

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) ও উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কাজীপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পিএসসি পরীক্ষার মডেল টেস্ট স্থগিত করা হয়েছে।

সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনার সুজানগরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মা নদী সংলগ্ন উপজেলার সাগরকান্দী, নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট, সাতবাড়ীয়া ও ভায়না ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠের উঠতি ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, তুলসি গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁটাপুকুর, কাশিয়াবাড়ি ও কলন্দরপুরে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। করতোয়া নদীর পানি ২৫ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ১৪ সে. মি. এবং ব্রহ্মপুত্র ২৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যায় এ জেলার সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৩৯ টি গ্রামের ৮৪ হাজার ৬শ’ ২২ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছেন। এদিকে করতোয়া নদীর পানির তোড়ে মঙ্গলবার পলাশবাড়ীর কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের জাইতোর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ১৫০ ফুট অংশে ধস দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে হোসেনপুর ইউনিয়নের কিসামত চেরেঙ্গা এলাকায় বাঁধের প্রায় ৭০ ফুট এলাকা ভেঙ্গে ১৬ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানির চাপে সাদুল্লাপুর উপজেলার শালাইপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশকিছু অংশ ভেঙ্গে ৪ গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার পানি চলে যাওয়ার পর কৃষকদের আগাম অন্য ফসল রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন। রংপুর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় ৯৫ হাজার ২শ’ ১২ হেক্টর জমির রোপা আমনের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর আত্রাই, রাণীনগর ও মান্দায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। পানির স্রোতে শত শত কাঁচা বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে, গাছ-পালা উপড়ে গেছে। শত শত বিঘা জমির রোপা আমন ধান ও শাক-সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার নওগাঁ আত্রাই সড়কে সোমবার ভোর রাতে মির্জাপুর নামক স্থানে সড়ক ভেঙ্গে নতুন করে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

সুরুজ বাঙালীজাতীয়
আড়িয়াল খাঁ নদে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে শিবচরের দত্তপাড়া অংশের একশ’ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি থেকে ভাঙ্গনের দূরত্ব এখন মাত্র ১৫০ মিটার। দেশের উত্তরাঞ্চলে কোথাও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, আবার কোথাও অপরিবর্তিত...