46745805.cms_160075
বরিশালের মুলাদী এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত এমএ কুদ্দুস শেখ। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। অথচ সে কুদ্দুসই রাজধানীর চকবাজার ও গুলিস্তান এলাকায় কমিউনিটি পুলিশের অফিস খুলে ১৫ বছর ধরে শত শত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। সাঙ্গোপাঙ্গকে নিয়ে ‘বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশ’ নামে একটি সংগঠন খুলে পুলিশে চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র।

শুধু কুদ্দুস নয়, এখন সারা দেশের অনেক দাগি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নামে-বেনামে অন্য এলাকায় বসবাস করে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। ‘সেকেন্ডে হোমে’ বছরের পর বছর নিরাপদ আস্তানা তৈরি করে আন্ডার ওয়ার্ল্ডসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কলকাঠি নাড়ছে তারা। আবার আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অনেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় বসবাস করে এক ধরনের ‘সেকেন্ড হোম’ তৈরি করেছে। কেউ আবার নিজ এলাকায় ‘ভালো’ মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ‘সেকেন্ড হোমে’ তারা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ছিঁচকে ও বড় মাপের- দুই ধরনের সন্ত্রাসীই ‘সেকেন্ড হোমে’ বসে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়। অনেক এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঢাকায় এসে অপরাধে জড়াচ্ছে। তারা পৃথক দলও তৈরি করছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, প্রায়ই দেখা যায়, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের পরপরই তারা প্রথমে নির্দোষ বলে দাবি করে। তবে পরে তার নিজ এলাকাসহ অন্য জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পর বেরিয়ে আসে সে আসলেই বড় মাপের ক্রিমিনাল। আবার এমনও দেখা যায়, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে এমন একজনকে আটক করা হলো যার নাম দেখে তার নিজ এলাকার লোকজনের বিশ্বাসই হয় না- এমন কাজ তার মাধ্যমে করা সম্ভব। এভাবে জায়গা পরিবর্তন করে সন্ত্রাসীরা ছদ্মবেশে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

১০ বছর ধরে রাজধানীতে পুলিশের অপরাধ বিভাগে কাজ করছেন, এমন এক কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অধিকাংশ সময় দেখা গেছে, রাজধানীতে যারা চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত তাদের অধিকাংশ ঢাকার বাইরে বসবাস করে। রাজধানীর বাসা-বাড়ি বা বস্তিতে না থেকে তারা আশপাশের এলাকায় গিয়ে বসবাস করছে। এমনও রয়েছে, রাজধানীর আশপাশ এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকায় ছদ্মবেশে খুন-ডাকাতিতে জড়াচ্ছে।
চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এমএ কুদ্দুস বরিশালের তালিকাভুক্ত ডাকাত হলেও রাজধানীর পুলিশ প্রথমে তা জানত না। পরে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে জানানো হয়।

গত মাসে রাজধানীর ওয়ারীতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার নেপথ্যে ছিল কেরানীগঞ্জ এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ। আর মান্নান হত্যাকাণ্ডে কেরানীগঞ্জের ‘নাইন শুটার আলামিনের’ নাম উঠে আসে। যদিও আলামিন যুবলীগ নেতা মান্নানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। কেরানীগঞ্জে আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার কাছে রয়েছে একে-৪৭ রাইফেলও। কেরানীগঞ্জের দুর্ধর্ষ এই ক্যাডার ওয়ারী এলাকাকে ‘সেকেন্ড হোম’ বানিয়ে আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। যদিও যুবলীগ নেতা মান্নান হত্যাকাণ্ডের আগে ওয়ারীতে সে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঘোরাঘুরি করত।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীতে পোশাক কারখানার এক মালিকের সন্তানকে অপহরণ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা নেয় একটি চক্র। পরে র‌্যাব ওই চক্রের মূল হোতা মিজানসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পরে বেরিয়ে আসে, মিজান তার নিজ এলাকার একজন নামকরা অটোরিকশা ব্যবসায়ী। তবে ঢাকায় ওই ব্যবসায়ীর সন্তানকে অপহরণ করতে তিন মাসে আগে একটি বাসা ভাড়াও নেয় মিজান।

বিদেশে এক ধরনের ‘সেকেন্ড হোম’ বানিয়ে সেখানে বসেই ঢাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অন্তত দুই ডজন সন্ত্রাসী রাজধানীর অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী লেদার লিটন নেপালে রয়েছে। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত রয়েছে ভারতে। জিসান রয়েছে দুবাইয়ে। জয় আছে নেপালে। আগা শামীম সুইজারল্যান্ডে। সে স্থান পরিবর্তন করে মাঝেমধ্যে জার্মানিতে থাকে। লালবাগ ট্যানারি এলাকা ছাড়াও ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের টেন্ডার বিদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে আগা শামীম। ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর), ওয়াসা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান, জয়, ইমন, জিসান, আখতার ও সুব্রত বাইন। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের ৪০ সন্ত্রাসীর নাম দেওয়া হয়; যারা সেখানে অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

বাহাদুর বেপারীপ্রথম পাতা
বরিশালের মুলাদী এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত এমএ কুদ্দুস শেখ। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। অথচ সে কুদ্দুসই রাজধানীর চকবাজার ও গুলিস্তান এলাকায় কমিউনিটি পুলিশের অফিস খুলে ১৫ বছর ধরে শত শত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। সাঙ্গোপাঙ্গকে নিয়ে 'বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশ' নামে একটি সংগঠন...