DRAG ADALOT
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত মাত্র দুই সপ্তাহে প্রায় ৯৬ হাজার মামলার নিষ্পত্তি করেছেন। সিএমএম শেখ হাফিজুর রহমান গত ৬ই আগস্ট কাজে যোগদানের পর তার বিশেষ নির্দেশে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব মামলা নিষ্পত্তি করেন। ঢাকার ট্রাফিক বিভাগের দায়ের করা মামলাগুলো ত্রুটিপূর্ণ থাকায় নিষ্পত্তিকৃত এসব মামলার প্রায় সব আসামিই অব্যাহতি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকার সিএমএম শেখ হাফিজুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলিয়ে রাখার কোন যুক্তি নেই। ঢাকার সিএমএম আদালতে বিচারাধীন মামলার অর্ধেকই মোটরযান অধ্যাদেশের মামলা। বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যানের সঙ্গে এসব মামলা যোগ করে এই আদালতে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা অনেক দেখানো হয়। এ কারণে মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মামলাগুলো বেশির ভাগই ত্রুটিপূর্ণ বলে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে যাতে মামলায় আইনগত ত্রুটি না থাকে সে জন্য ট্রাফিক বিভাগকে বলা হবে।
সিএমএম আদালতের নাজির মো. মাসুদ খান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, গত ৩১শে আগস্ট ঢাকার সিএমএম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাসুদ জামানকে মোটরযান অধ্যাদেশের অধীনে দাখিল করা এসব মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে তিনি এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য কিছু সুপারিশ করেন। এ সুপারিশের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করেন আদালতগুলো।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা তিন লাখ তিন হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে মোটরযান অধ্যাদেশের অধীনে দাখিলা মামলার সংখ্যা এক লাখ ৫৪ হাজার ১৬০টি। এসব মামলার আসামিদের অনুপস্থিতি এবং মামলা দায়েরে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় মামলা নিষ্পত্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে বছরের পর বছর অনিষ্পন্ন অবস্থায় মামলাগুলো ঝুলে ছিল। সিএমএম শেখ হাফিজুর রহমান প্রসিকিউশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব মামলা বিচার ও নিষ্পত্তির স্বার্থে আইনানুগ যে কোন পন্থা অবলম্বন করতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক পুলিশ মোটরযান অধ্যাদেশ ভঙ্গ করলে যানবাহনের সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে মামলা করে। এসব মামলা বিচারের জন্য ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু মামলা দায়েরে ত্রুটি থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেয়া যায় না। এ কারণেই একই এখতিয়ারাধীন আদালতে দেড় লাখেরও বেশি মামলা ঝুলে ছিল। আইনগত ত্রুটির কারণ ৯৬ হাজারেরও বেশি মামলায় প্রায় সব আসামিকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বেশ কিছু মামলা পুনঃ তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মামলা দায়েরে ত্রুটি: ট্রাফিক কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ায় মোটরযান অধ্যাদেশে যেসব মামলা করেন সেগুলোর বেশির ভাগই আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ থাকে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাসুদ জামান সম্প্রতি লিখিতভাবে সিএমএমকে জানান, মোটরযান অধ্যাদেশের অধীনে দায়ের করা প্রায় সব মামলাই আইনগতভাবে ত্রুটিযুক্ত। এসব মামলায় অভিযোগকারী কর্মকর্তার নাম থাকে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাম থাকলে পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা থাকে না। মামলায় গাড়িচালক কোথায় অপরাধ সংঘটন করেছে, সেই ঘটনাস্থলের নাম থাকে না। আবার অপরাধ সংঘটনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও সময় উল্লেখ থাকে না। চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা থাকে না। শুধু আইনের ধারা উল্লেখ করা হয়। মামলায় সাক্ষীদের কোন নাম থাকে না। অথচ ফৌজদারী কার্যবিধির ২২২ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে অপরাধ সংঘটনের স্থান অভিযোগে উল্লেখ করতে হবে। ঘটনাস্থলের উল্লেখ না থাকলে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা সম্ভব নয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যতীত কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না। প্রসিকিউশন প্রতিবেদনে সাক্ষীর নাম না থাকায় মামলাই চলতে পারে না। এসব কারণে মোটরযান অধ্যাদেশের মামলাগুলো থেকে আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে তা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তুনতুন হাসানআইন-আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত মাত্র দুই সপ্তাহে প্রায় ৯৬ হাজার মামলার নিষ্পত্তি করেছেন। সিএমএম শেখ হাফিজুর রহমান গত ৬ই আগস্ট কাজে যোগদানের পর তার বিশেষ নির্দেশে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব মামলা নিষ্পত্তি করেন। ঢাকার ট্রাফিক বিভাগের দায়ের করা মামলাগুলো ত্রুটিপূর্ণ থাকায় নিষ্পত্তিকৃত এসব মামলার প্রায় সব আসামিই অব্যাহতি...