nrb news pic of sk hasina @ unga_109242
দিনটি ছিল শেখ হাসিনা এবং মাহমুদ আব্বাসের। গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্যের সময় জেগে উঠে জাতিসংঘ ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের মিলনায়তন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভাষণের ১৭ মিনিটে বারবার করতালিতে মুখরিত হয় পুরো মিলনায়তন।
মার্কিন রাজনীতিকদের অধিকাংশই ইসরাইলের ‘ধামাধরা’ বলে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে এবং এ কারণে অর্থাৎ মার্কিনীদের বিরাগভাজন হওয়ার আতংকে আন্তর্জাতিক এ ফোরামে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মর্যাদার লক্ষ্যে তেমন উচ্চবাচ্য প্রকাশ্যে কেউ করতে চান না। তবে চলতি সাধারণ অধিবেশনের মূল বিতর্কের তৃতীয় দিনে সবকিছু যেন উলোট-পালোট হয়ে গেল। এ দিন জাতিসংঘে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পতাকার লাইনে স্থান পায় ফিলিস্তিনের পতাকা। এই পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের কিছুক্ষণ আগে মাহমুদ আব্বাস তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাধারণ অধিবেশনে। তিনি ছিলেন দিবসের নবম বক্তা।

সকাল ৯টায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনেলিভের বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় এ অধিবেশন। এরপর পর্যায়ক্রমে পানামার প্রেসিডেন্ট জুয়ান কার্লোস ভারেলা রডরিগুয়েজ, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপলা সিরিসেনা, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা গ্র্যাবারকিটারোভিচ, কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট লুইস গুলেরমো সলিস রিভেরা, ঘানার প্রেসিডেন্ট জন ড্রামানি মহামা, টগোলিজের প্রেসিডেন্ট ফোয়ের এসোজিমনা জিনাসিনজি, ব্রুনেই দারুসসালামের সুলতান হাসান আল বলকিয়া বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই পুরো সময়ে কোন করতালি অথবা দাঁড়িয়ে অভিবাদনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। কোন বক্তার বক্তব্যে তেমন কোন আবেগ সৃষ্টি করতে পারেনি সদস্য-রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে। ঝিমিয়ে পড়ার পর্যায়ে যায় অধিবেশন কক্ষ।

চলতি সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি মগেন্স লিকেটফ সভাপতিত্ব করেন এবং বক্তব্য শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানাতে আসন ছেড়ে নিচে নামেন। এমনিভাবেই কাটছিল অষ্টম বক্তা পর্যন্ত। এমন ঝিমিয়ে পড়া পরিবেশ হঠাৎ করেই যেন পাল্টে যায় মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্যের সময়। তিনি ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সহাবস্থানের ২০ বছরের পুরনো একটি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই অভিযোগ করেন, ‘ইসলাইলের একগুঁয়েমি আচরণে আজ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। আমি এখনও এক পা এগিয়েই দাঁড়িয়ে রয়েছি ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে ইসরাইলের সাথে যে কোন শর্তে কাজ করতে। কারণ ফিলিস্তিনিরা শান্তির জন্যেই চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনিরা লড়ছেন শান্তির মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে। কিন্তু ইসরাইল চলছে ভিন্ন পথে।’ তার এ বক্তব্যে পুরো মিলনায়তন করতালিতে মুখরিত হয়। কেটে যায় স্থবিরতা। মাহমুদ আব্বাস দৃপ্ত প্রতয়ে এবং গভীর প্রত্যাশা নিয়ে সাধারণ অধিবেশনকে অবহিত করেন, ‘আমি আশা করছি যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা আপনারা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন দিয়ে যাবেন-যেটি নিজ নিজ দেশের স্বার্থে সকলেই করে থাকেন। আর এভাবেই বহুল প্রত্যাশিত শান্তি, নিরাপদ জীবন-যাপন, স্থিতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।’

জাতিসংঘের ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পর বুধবার দুপুরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হলো।

মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্য শেষে দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র। ইসরাইরের কট্টর সমর্থক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মুরুব্বিয়ানাকে অন্ধভাবে সমর্থন দেয় এমন রাষ্ট্রের ডেস্কে সকলেই বসেছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পাশে বসা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রদিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং শাহরিয়ার আলম, রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেনসহ সকলেই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান ফিলিস্তিনি নেতাকে।

দশম বক্তা ছিলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেবুটগলু।

একাদ্শ বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে ওঠার পর পুরো গ্যালারি এবং অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রই নড়েচড়ে ওঠেন। করতালি শুরু হয় ‘বিশ্ব মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আজ আমরা সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি’ উচ্চারণের পরই। প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা এ সময় নিজের সন্ত্রাসী হামলার ভিকটিম হবার লোমহর্ষক কাহিনী উপস্থাপন করে বলেন, ‘আমি নিজে সন্ত্রাস এবং সহিংম জঙ্গিবাদের শিকার। আমার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি নিজেও কমপক্ষে ১৯বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি।’ এমন তথ্য জেনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ শেখ হাসিনার প্রতি আরো বেশী আন্তরিকতা প্রদর্শন করেন এবং ‘আমার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী’ বলার পর পুরো অধিবেশন করতালিতে মুখরিত হয়।

সীমিত সম্পদ এবং বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা সত্বেও বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে সক্ষম হয়েছে-এমন তথ্য উপস্থাপনের পর সকলে আবারো করতালিতে ভিন্ন এক আমেজ তৈরি করেন।

বেলা ১২টা ৫৩ মিনিটে বক্তৃতা মঞ্চেওিঠেন এবং ১৭ মিনিটে বক্তব্য শেষ করেন শেখ হাসিনা। আত্মপ্রত্যয়ী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানাতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি আসন ছেড়ে নিচে নামেন এবং বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মানবতার সার্বিক কল্যাণে নিরন্তরভাবে কাজের জন্যে।

অধিবেশন কক্ষের বাইরে আসার পরও অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান কাছে এসে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। মোট ১৮ জন বক্তব্য উপস্থাপন করেন এদিন। শেখ হাসিনার পর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফেন লফভেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফ, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ, ফিজির প্রধানমন্ত্রী যোসাইয়া ভরেক বাইনিমারামা, মাল্টার প্রধানমন্ত্রী যোসেফ মাসকাট, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট তাম্মাম সালাম নিজ নিজ দেশের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে সে সময় দর্শক গ্যালারি ছিল প্রায় শূন্য এবং সদস্য রাষ্ট্রের ডেস্কেও খুব বেশি মানুষ ছিল না। অর্থাৎ দিবসটি ছিল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/nrb-news-pic-of-sk-hasina-@-unga_109242.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/nrb-news-pic-of-sk-hasina-@-unga_109242-300x300.jpgনৃপেন পোদ্দারআন্তর্জাতিক
দিনটি ছিল শেখ হাসিনা এবং মাহমুদ আব্বাসের। গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্যের সময় জেগে উঠে জাতিসংঘ ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের মিলনায়তন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভাষণের ১৭ মিনিটে বারবার করতালিতে মুখরিত হয় পুরো মিলনায়তন। মার্কিন রাজনীতিকদের অধিকাংশই ইসরাইলের ‘ধামাধরা’ বলে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে এবং এ কারণে...