1440959682
লোকালয়ে যেমন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়ায় সুন্দরবনে তেমনি ডাকাত। কখনও বনদস্যু কখনও জলদস্যু পরিচয়ে। এদের বিচরণ সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে এবং ঘাঁটি বনের মধ্যেই। জেলেরা প্রধান টার্গেট হলেও মাঝে মধ্যে সংলগ্ন লোকালয়েও হানা দেয় ডাকাতরা। জেলেদের ওপর ডাকাতি, অপহরণ, জিম্মি, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় ছাড়াও বন বিভাগও এদের দৌরাত্ম্যের বাইরে নয়। কাঠ, বাঘ, হরিণ পাচার এবং নিষিদ্ধ এলাকায় অবৈধ মাছ ধরায় ডাকাতরা সহায়তা করে। শহরের গডফাদাররা ডাকাতদের পৃষ্ঠপোষক হলেও প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলেরও কেউ কেউ ভাগ পান লুণ্ঠিত অর্থের। ১২ জন দলনেতাসহ ৭১ জন ডাকাত গত ১৫ বছরে র্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ডের সাথে ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টার এবং জেলেদের হাতে নিহত হয় সুন্দরবন ও সন্নিহিত অঞ্চলে।

বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধানসহ দলের সদস্যরা নিহত হলেও তাতে দমছে না দস্যুরা। একটি বাহিনীর প্রধান মারা যাওয়ার পর দলের সকল সদস্যের মধ্যেই প্রধান হওয়ার ইচ্ছা থাকে। আর এই ইচ্ছার কারণেই দল ভেঙে দুই থেকে তিনটি বাহিনী সৃষ্টি হয়। নগদ টাকার লোভে নতুন নতুন সদস্যও যোগ দেয় ডাকাতির কাজে। যার কারণে বনে ডাকাতিও যেমন কমছে না কমছে না ডাকাতের সংখ্যাও। এ সময়ে দুর্ধর্ষ বনদস্যু বাহিনীগুলোর প্রধান রেজাউল, শানু, জাহাঙ্গীর, মোতালেব, বিডিআর, জুলফিকার, মুকুল নিহত হলেও সে সব বাহিনী বিলুপ্ত হয়নি। বরং একেক বাহিনী ভেঙে গড়ে উঠেছে একাধিক বাহিনী।

জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য দস্যুরা সারাক্ষণ দাপিয়ে বেড়ায় বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। বন বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই। আর দস্যুদের কাছে জনে জনে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র। তাই নিরুপায় হলে দস্যুদের ডাকাতির দৃশ্য চোখে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। বন বিভাগের অনেক ক্যাম্পেই কোনো অস্ত্র নেই। তাদেরকে সবসময় থাকতে হয় দস্যুদের ভয়ে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে খুলনায় রেঞ্জ অফিস একটি, স্টেশন অফিস নয়টি ও টহল ফাঁড়ি ২৭টি এবং বুড়িগোয়ালিনীতে (সাতক্ষীরা) রেঞ্জ অফিস একটি, স্টেশন অফিস চারটি ও টহল ফাঁড়ি রয়েছে ১৮টি। পূর্ব বিভাগের শরণখোলায় রেঞ্জ অফিস একটি, স্টেশন অফিস তিনটি ও টহল ফাঁড়ি রয়েছে ১০টি। এ ছাড়া এ রেঞ্জে অভয়ারণ্য কেন্দ্র রয়েছে দুটি। চাঁদপাই রেঞ্জে একটি রেঞ্জ অফিস, চারটি স্টেশন অফিস ও ১৯টি টহল ফাঁড়ি রয়েছে। এছাড়া এ রেঞ্জে রয়েছে একটি বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। এসব অফিস ও ফাঁড়ির অধীন সমগ্র সুন্দরবন এলাকা পাহারা দিতে বন প্রহরী রয়েছেন ১৮৩ জন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ৫৩৩টি। পূর্ব বিভাগের ডিএফও মোঃ সাইদুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এসব আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগই পুরনো ৩০৩ রাইফেল। চায়নিজ অটোমেটিক ও এসএলআরও বন প্রহরীরা ব্যবহার করেন। তাছাড়া সুন্দরবনে ডাকাত মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট বনপ্রহরীও নেই। যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বয়ঃবৃদ্ধ।

পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বিশাল এলাকা সুন্দরবনে জেলা পুলিশের কোনো স্থাপনা নেই। যে কারণে স্থায়ীভাবে ডাকাত দমনে পুলিশ ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
লোকালয়ে যেমন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়ায় সুন্দরবনে তেমনি ডাকাত। কখনও বনদস্যু কখনও জলদস্যু পরিচয়ে। এদের বিচরণ সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে এবং ঘাঁটি বনের মধ্যেই। জেলেরা প্রধান টার্গেট হলেও মাঝে মধ্যে সংলগ্ন লোকালয়েও হানা দেয় ডাকাতরা। জেলেদের ওপর ডাকাতি, অপহরণ, জিম্মি, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় ছাড়াও বন বিভাগও এদের দৌরাত্ম্যের...