04_272313
ত্যাগের মহিমা নিয়ে দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন অপেক্ষা কেবল রাত পোহানোর। ভোর হলেই ১০ জিলহজ, ঈদের খুশিতে রঙিন হয়ে উঠবে গোটা দেশ।

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদের বিশেষ গুরুত্ব হলো, এ মাসেই মুসলমানদের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি পবিত্র হজ পালিত হয়। গতকাল বুধবার পবিত্র সেই হজও পালিত হয়েছে। হজ শেষে আজ বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে ঈদ উদ্‌যাপন করছেন হাজিরা। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গত সপ্তাহেই ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে। সেই হিসাবে দেশে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার।

ঈদের আয়োজন গুছিয়ে আনতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ইতিমধ্যে রাজধানী ছেড়েছে অসংখ্য মানুষ। যাদের এখনো কোরবানির পশু কেনা হয়নি তারা ভিড় করেছে হাটগুলোতে।

ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। ঈদ উপলক্ষে আজ থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে।

মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা প্রতিবছর ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। কারণ ঈদ উদ্‌যাপিত হয় চান্দ্র মাস অনুযায়ী। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে হালাল পশু কোরবানি করা। কোরবানির ঈদ নামে পরিচিত ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন।

প্রায় চার হাজার বছর আগে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। তবে ঈদের পরও দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার ধর্মীয় বিধান আছে।

শুক্রবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে আসবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। খতিব খুতবায় তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করবেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে। এরপর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন তাঁরা।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহে, সকাল সাড়ে ৮টায়। এ জন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রথম সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে এক ঘণ্টা পর পর মোট পাঁচটি জামাত হবে। সর্বশেষ জামাত হবে সকাল সাড়ে ১১টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় ঈদগাহের বদলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে, সকাল সাড়ে ৯টায়।

যে ব্যক্তির ওপর জাকাত ফরজ তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। আর্থিক সংগতিসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানকেই কোরবানি দিতে হয়, এটি আল্লাহর বিধান। কোরবানির মাধ্যমে মুসলমানের ইমান ও তাকওয়ার পরীক্ষা হয়ে থাকে।

তবে পশু কোরবানির পর পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিতেও জোর দিতে হবে। নগর হোক কিংবা গ্রাম, কোরবানির পর পশুর রক্ত ও আবর্জনা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করতে হবে। পশুবর্জ্য অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে টেলিভিশনগুলো সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ ছাপা হয়েছে।

অর্ণব ভট্টপ্রথম পাতা
ত্যাগের মহিমা নিয়ে দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন অপেক্ষা কেবল রাত পোহানোর। ভোর হলেই ১০ জিলহজ, ঈদের খুশিতে রঙিন হয়ে উঠবে গোটা দেশ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদের বিশেষ গুরুত্ব হলো, এ মাসেই মুসলমানদের মূল পাঁচটি...