88270_31
উচ্চমূল্যের ওপর স্থির রয়েছে পিয়াজ ও সবজির বাজার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিনের দামও। এছাড়া চাল, ডালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম করছে ওঠানামা। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় উচ্চমূল্যে তাদের এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু দিন আগে ভারতে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সে ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে। সে সময় দেশের বাজারে ভারতীয়
পিয়াজের কেজি গিয়ে ঠেকে ৭০ টাকায়। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই দেশী পিয়াজের দামও তখন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সে বেড়ে যাওয়ার ওপর বর্তমানেও স্থির রয়েছে। এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম না বাড়ার দাবি করলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে। পাম অয়েলের দাম বাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন ৬৭ থেকে ৭৩ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর পাড়া মহল্লার দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা পর্যন্ত। খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এক সপ্তাহ আগেও খোলা সয়াবিন তেল ৭৪ থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে খোলা সয়াবিন ৬৭ টাকা থেকে ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটির দাম ছিল ৬০ থেকে ৬১ টাকা। আর গত সপ্তাহে পাম অয়েলের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম পাম অয়েলের দাম বেড়েছে বলে পাইকারি ব্যববসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে সরবরাহ ঘাটতিতে পাম অয়েলের দাম বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরে পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিনের দাম কমছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি ৭০-৮০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, কচুর মুখী ৪০-৫০, বেগুন ৫০-৬০, পটল ৫০, ঝিঙ্গা ৫০, ভেন্ডি ৫০, কাকরোল ৫০, করলা ৬০, লেবু হালি ৪০, চিচিঙ্গা ৫০-৬০, শসা ৪০, টমেটো ৮০, কচুর লতা ৫০, সিম ১০০ টাকা। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা মো. রাসেল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা থাকায় সবজির দাম একটু বেশি ছিল। এখন তো ঠিকই আছে দাম বাড়েনি। আর হরতাল অবরোধ না থাকলে গাড়ি সময়মতো আসে তখন আর সবজির দাম তেমন বাড়ে না। ক্রেতা হাসনেহেনা জাহান অভিযোগ করে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সবজি দাম সবসময়ই বেশি থাকে। আর এসব সবজি প্রতিদিনই কিনতে হয়। আরেক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মরিচের দামটা একটু বেশি। আর আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিন এই চার মাস সবজির দাম একটু বেশিই থাকে। এরপর থেকে নতুন সবজি আসে তখন দাম কম থাকে। অপর বিক্রেতা জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। বৃষ্টির কারণে পণ্য পরিবহনেও খরচ বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে রাজধানীর কাওরানবাজারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অন্যান্য কাঁচাবাজার থেকে এখানে আসলে কিছুটা স্বস্তি মেলে। পাইকারি বা খুচরা মূল্যের ব্যবধান এখানে অনেক বেশি। গতকাল কাওরানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম আছে গত সপ্তাহের মতোই। মসলারও একই অবস্থা। তেলের দাম কমেছে কিছুটা। বেড়েছে মুরগির দাম। সবজির বাজার। কোন কোন সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু কিছু সবজির দাম বেড়েছে। করলার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা। পটল ৩৫ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। বেগুনের দাম ৩০ টাকা থেকে কমে ২৫ টাকা। গোল বেগুন আগের সপ্তাহের ৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামেও পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। টমেটোর দামও আগের সপ্তাহ অনুযায়ী ৭০ টাকা। পেঁপে ও আলুর দামও আগের সপ্তাহের মত। প্রতিকেজি পেঁপের দাম ২৫ টাকা। আলুর কেজিও ২৫ টাকা। কাঁচা মরিচ আগের দামে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেড়েছে মুরগির দাম। দেশী মুরগি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৩০ টাকা। এ সপ্তাহে তা ৩৫০ টাকা। এছাড়া ব্রয়লার মুরগী ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা। তেলের দাম কিছুটা কমেছে। কাওরান বাজারে তেল বিক্রি হয় কেজি হিসাবে। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল গত সপ্তাহে ছিলও ৮৫ টাকা। এ সপ্তাহে ৮২ টাকা। পামওয়েল ৮২ থেকে কমে ৭৫ টাকা। সরিষার তেল রয়েছে অপরবর্তিত অবস্থায়। প্রতি কেজি সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এছাড়া মুদি বাজার রয়েছে অপরবর্তিত অবস্থায়। প্রতি কেজি আদা ৭০ টাকা। রসুন ৬০ টাকা। দেশী পিয়াজ ৬০ টাকা আর ইন্ডিয়ান ৫৫ টাকা। খোলা হলুদের গুঁড়ো ১৮০ টাকা। মরিচের গুঁড়ার কেজি ২০০ টাকা। খোলা আটা ২৮ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট আটা ৬০ টাকা। খোলা ময়দা ৩২ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট ময়দা ৮০ টাকা। মসুর ডালের কেজি ১২৫ টাকা। ক্যাঙ্গারু ১২৮ টাকা। চিনির দামে ৩৮ টাকা থেকে কমে ৩৬ টাকা। চালের বাজারও অপরিবর্তিত। দাম বাড়েনি, কমেওনি। প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৪২-৪৪ টাকা। আটাশ চালের কেজি ৩৬-৩৮ টাকা। চিনিগুঁড়া ৬৫-৭০ টাকা। পাইজাম ৩০-৩২ টাকা। মোটা আতপ চাল ২৮-৩০ টাকা। মিনিকেট আতপ চালের কেজি ৩৮-৪০ টাকা। কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা। এছাড়া বাজারে রয়েছে নানা প্রকারের নাজিরশাইল। মানভেদে প্রতিকেজি নাজিরশাইল চালের দাম ৩৮ থেকে ৬০ টাকা।

হাসন রাজাএক্সক্লুসিভ
উচ্চমূল্যের ওপর স্থির রয়েছে পিয়াজ ও সবজির বাজার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিনের দামও। এছাড়া চাল, ডালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম করছে ওঠানামা। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া...