1444839798
রাজধানীর গুলশান কূটনীতিকপাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত তাভেল্লা সিজারের (৫১) মরদেহ হত্যাকা- সংঘটনের ১৬ দিন পর তার নিজ দেশ ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে গতকাল। রাতেই একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো উড়োজাহাজে ইতালির উদ্দেশে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার অ্যাটাশে পদমর্যাদার কর্মকর্তা দানিল পাউলো নোতারো ও জিওভান্নি চিয়ানি গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে মর্গে গিয়ে লাশ গ্রহণের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তাভেল্লার লাশ তাদের কাছে বুঝিয়ে দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস হোমবাউন্ডের মুখপাত্র জ্যাকব ফিলিপে রড্রিগেজ মরদেহ গ্রহণ করেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাভেল্লার লাশ কফিনবন্দি করার পর লাল রঙের একটি মাইক্রোবাসে মর্গ থেকে কফিনটি নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ কাজী আবু সামাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মর্গে কথা হয় তাভেল্লা সিজার হত্যাকা-ের তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর জিহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। প্রযুক্তির সহযোগিতায় পাওয়া তথ্য ও সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম গতকাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তাভেল্লার লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, মৃত্যুসনদ গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাভেল্লার মরদেহ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইতালি রওনা হবেন।
প্রসঙ্গত ঢাকায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিও কো-অপারেশন প্রুফস (প্রফিট্যাবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন তাভেল্লা সিজার। এর আগে তিনি ইতালির অক্সফামে কর্মরত ছিলেন। গত ১৫ মে গুলশানে প্রুফসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। বাংলাদেশের ৭টি জেলায় প্রুফসের কার্যক্রম রয়েছে। তাভেল্লা রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন। সান্ধ্য ভ্রমণকালে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান কূটনীতিকপাড়ার গভর্নর হাউসের সীমানা প্রাচীরের বাইরের ফুটপাতে তাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে তাভেল্লার মরদেহ নেওয়া হয়। এরপর থেকে এতদিন ঢামেকের মর্গেই ছিল তার মরদেহ।
তাভেল্লা হত্যাকা-ের পর তার সহকর্মী হেলেন দার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যামামলা করেন। মামলায় অচেনা ৩ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে তাভেল্লাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা- তদন্তে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এই কমিটিকে সহায়তায় গঠন করা হয় ১১ সদস্যের আরও একটি তদন্ত দল। ইতোমধ্যেই মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও চালিয়ে যাচ্ছে ছায়া তদন্ত।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/14448397981.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/14448397981-300x222.jpgহাসন রাজাশেষের পাতা
রাজধানীর গুলশান কূটনীতিকপাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত তাভেল্লা সিজারের (৫১) মরদেহ হত্যাকা- সংঘটনের ১৬ দিন পর তার নিজ দেশ ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে গতকাল। রাতেই একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো উড়োজাহাজে ইতালির উদ্দেশে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার অ্যাটাশে পদমর্যাদার কর্মকর্তা দানিল...