APORADHER DAYRE THEKE
‘তদবির’ এখন জীবনযাত্রার অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, এমনকি রাষ্ট্রীয় সব কর্মকাণ্ডে তদবিরের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির প্ল্যান পাস থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, পানির লাইন লাগানো, এসব সংস্থার সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাসহ রাজনীতি, অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে তদবিরের প্রয়োজন পড়ে। চাহিদামাফিক টাকার পাশাপাশি তদবিরও জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করতেও মোটা অঙ্কের টাকাসহ শক্তিশালী তদবিরের দরকার। চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে নিয়োগপ্রাপ্তি, পদোন্নতি, এমনকি পছন্দসই জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার জন্যও ঘাটে ঘাটে লাগে তদবির। মন্ত্রী, এমপি, কিংবা রাজনৈতিক দলের সরকারি ও বিরোধী দলের নেতা হতেও চলে তদবির।

দেশের সর্বত্র তদবিরবাজি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। অফিস-চেম্বার সাজিয়েও কেউ কেউ তদবিরবাজির দালালিতে লিপ্ত। শুধু রাজধানীতেই বিভিন্ন থানা, ভূমি অফিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, রাজউক, কোর্ট-কাচারি, জেলা প্রশাসনের দফতরসমূহে ১০ হাজারেরও বেশি পেশাদার দালাল-তদবিরবাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো কাজ নেই, যা তদবিরবাজরা করতে পারেন না। তদবিরবাজদের বাধাহীন দৌরাত্দ্যে ভেঙে পড়ছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা। স্থানীয় পর্যায়ের ভূমি অফিস থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের সব দফতর, আদালতের মালখানা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর পর্যন্ত সর্বত্র তাদের সমান বিচরণ। সরকারি দফতরগুলোর একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তাদের প্রধান সহযোগী। এসব দফতর, অধিদফতর ও থানার সামনে নিজেদের ছবি যুক্ত করে ঢাউস সাইজের প্লাস্টিক সাইন লাগিয়ে তদবিরবাজরা ক্ষমতাসীন দলের স্বঘোষিত নেতা বনে যান। দলীয় পরিচয়ে যে-কাউকে কর্মী ঘোষণা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়াসহ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি-লুটপাটে ভাগ বসাতে সক্ষম হন তারা। অনেক সুবেশী, সুদর্শন ও আত্দবিশ্বাসী মানুষ সচিবালয়ে যান এবং বিকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন। মনে হয়, তারা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সঙ্গে বেশ বন্ধুভাবাপন্ন। মক্কেলদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না থাকায় এসব কর্মকর্তা এদের সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে সন্দিগ্ধ। তবু তারা এ তদবিরবাজদের সঙ্গে ভালো কাজের সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন। তদবিরবাজদের বৈধ আয় নেই। অথচ তারা ভালো জীবনমান রক্ষা করে চলেন। এমনকি তারা অভিজাত কিছু ক্লাবের সদস্যও। তারা সহজেই মক্কেল ধরতে পারেন। কেউ কেউ নিজেকে কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এজেন্ট বলেও দাবি করেন।

তদবির-বাণিজ্য : তদবির-বাণিজ্য প্রভাবশালীদের উপার্জনের একটা বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তদবিরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যোগ্য প্রার্থী চাকরি পাচ্ছেন না, যোগ্য ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারছেন না টেন্ডারে, যোগ্য ছাত্রছাত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে। তদবিরের জন্যও লাগছে টাকা। তদবির এখন কোথায় নেই? উপজেলায় ইউএনও, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিভাগ, থানা; জেলায় ডিসি অফিস, ভূমি অফিস, এসপি অফিসসহ বিভিন্ন দফতর; বিভাগে বিভাগীয় কমিশনারের অফিস; রাজধানীতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন অধিদফতর থেকে শুরু করে প্রায় সব দফতরেই চলছে তদবির।

সর্বত্র তদবিরের বিস্তৃতি : তদবিরবাজ দালালদের সবচেয়ে বেশি দৌরাত্দ্য দেখা যায় ডিএমপির থানাগুলোতে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই থানা প্রাঙ্গণগুলোতে ভিড় জমে উঠতে থাকে। স্বঘোষিত নেতারা দু-চারজন সহযোগী নিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ, অপারেশন অফিসার বা ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) কক্ষকে নিজেদের আড্ডাখানায় পরিণত করেন। রাত গভীর হলেই শুরু হয় তদবিরবাজদের আসল দৌরাত্দ্য। কাউকে ধরিয়ে আনা, মামলা ছাড়াই যাকে-তাকে হাজতে আটক রাখা, আবার আটক আসামিকে মুক্ত করা নিয়ে বেজায় ব্যস্ত থাকেন তারা। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থেকে শুরু করে মামলা নথিভুক্ত, আসামি আটক ও ছাড়িয়ে নেওয়ার নানা ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তারা।

থানা পেরিয়ে তদবিরের বিস্তৃতি ঘটেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ দফতর থেকে হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত সর্বত্র। এসব দফতরে চলে কনস্টেবল, এসআই, সার্জেন্টসহ অন্যান্য পদে বদলির তদবির। পাশাপাশি মামলার তদবিরও চলে কমবেশি। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সরকারদলীয় লোকজনের তদবিরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনে কয়েকজন তোষামোদকারী কর্মকর্তার দাপটও সীমাহীন। তারা তদবিরবাজির মাধ্যমেই প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে পুলিশ সদর দফতরের একজন (ডিআইজি পদমর্যাদার) কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘শুধু থানাসহ মাঠপর্যায়েই তদবিরবাজি চলছে তা নয়, তদবিরের জ্বালায় পুলিশ সদর দফতরেও সুষ্ঠুভাবে কাজ করার উপায় নেই।’ তিনি জানান, চিহ্নিত তদবিরবাজদের আবদার না শুনলেই বিএনপিপন্থি বা জামায়াতের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

চলতি বছরের শুরুতে প্রশাসনে উপসচিব, যুগ্ম-সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদের প্রায় সাড়ে পাঁচশ কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তিন স্তরে পদোন্নতি তৎপরতায় সাড়ে তিন শতাধিক কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন। পদোন্নতি কামনায় লিখিত আবেদনও করেন তারা। এগুলো সবই সাধারণ তদবিরবাজি নয়। অনেক কর্মকর্তা সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতির অনুরোধ করান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারী নিয়োগের তদবিরবাজি নিয়ে রীতিমতো শিয়াল-শকুনের কামড়া-কামড়ির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি-মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের হাতে একজন শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেখানে ১৭১টি পদের জন্য দরখাস্ত পড়েছে সাড়ে ১০ হাজার, আর তদবির এসেছে ১১ হাজার। তদবিরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক বলে পরিচিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। এই নিয়োগের ব্যাপারে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বা স্বাচিপের অন্যতম তদবিরবাজ নেতা দম্ভের সঙ্গে বলেছেন, ‘যেহেতু ক্ষমতায় আছি তাই অন্তত ৯০ শতাংশ নিয়োগ আমাদের হওয়া উচিত। এটা অমূলক কিছু নয়।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে তদবিরের আধিক্য : এমপিওভুক্তিসহ বদলি ও নিয়োগ নিয়েই শিক্ষা ভবনে চলে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম, তদবিরবাজি ও স্বজনপ্রীতি। ফাইল আটকে রেখে ঘুষ আদায় করার মহাযজ্ঞে তদবিরবাজ ও অসাধু কর্মকর্তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ ও তদবিরবাজ কর্মকর্তাদের কারণে শিক্ষকরা চরম হয়রানির শিকার হন। এসব কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া ছাড়া একটি কাজও করেন না। ভুক্তভোগীরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষকদের নিজ জেলা শিক্ষা অফিসারের (ডিও) মাধ্যমে মাউশি মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদনকারীর এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মহাপরিচালকের দফতরে আবেদনপত্র আসার আগেই রহস্যজনক কারণে তা লাপাত্তা হয়ে যায়।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে ৯১৫টি পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ১৬০০ জনের ব্যাপারে ‘শক্ত তদবির’ করার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীই তদবির করেন ৪৩৬ জনের জন্য। প্রার্থীদের নামের তালিকা একেবারে ছক করে পাঠিয়ে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার পাঠান। এতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

তদবির লীগের তৎপরতা : ধোপদুরস্ত পোশাক-পরিচ্ছদ, চলনে-বলনে ওভার স্মার্ট। ক্ষমতাসীন দল বা এর অঙ্গসংগঠনে সদস্য পদ না জুটলেও ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের সঙ্গে নিজের ঢাউস ছবি যুক্ত করতে এতটুকু দ্বিধা নেই। কয়েক ডজন রংবেরঙের প্যানাসাইন টানিয়ে দেন হাটবাজার, সিএনজি স্ট্যান্ড, খেয়াঘাট, থানার গেট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দফতরের যত্রতত্র। এসব সাইনবোর্ড আর ব্যানার ঝুলতে থাকে দিনের পর দিন। দলীয় পরিচয়ের দৃষ্টিকটু প্রচারকে পুঁজি করেই একটি চক্র দালালি আর তদবিরবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কখনো তারা এককভাবে, কখনো সংঘবদ্ধভাবে এসব দৌরাত্দ্য চালিয়ে লাখ লাখ টাকা কামানোর ধান্দা শুরু করেছেন। মাঠপর্যায়ের তদবিরবাজদের দাপটে অস্থির থাকেন থানা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক তদবিরবাজদের দাপটের সামনে সরকারি কর্মকর্তারা অসহায় হয়ে পড়েন, বিঘ্ন ঘটে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে।

তদবিরবাজিতে বরাবরই সফলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন ছাত্রনেতারা। ছাত্ররাজনীতিকে পুঁজি করে তদবির-বাণিজ্যে অনেক ছাত্রনেতাই আজ অর্থবিত্তের পাহাড় জমিয়ে তুলেছেন। নব্বইয়ের দশক থেকেই মূলত ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে বিত্তশালী হওয়া ও ভোগবিলাসের সংস্কৃতি শুরু। ধারাবাহিকভাবে এর পরের নেতারাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে টেন্ডারবাজি, নিয়োগ, তদবির ও কমিটি-বাণিজ্য, ঠিকাদারিসহ নানা কাজে পকেট ভরেছেন। এসব লোভনীয় উত্থানের কারণেই রাজনীতি না করেও টাকার বিনিময়ে নেতা বনে যাওয়ার প্রবণতার সূত্রপাত ঘটে। আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক নামধারী কিছু নেতা ও দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ নাম ও সাইনবোর্ডসর্বস্ব বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তদবির নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সচিবদের দফতরে। মন্ত্রী-সচিবরাও এদের নাম দিয়েছেন ‘বিশেষ লীগ’। এদের তদবিরে অতিষ্ঠ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। আবার তটস্থ হতে হয় সচিব-যুগ্ম-সচিবসহ কর্মকর্তাদের। সচিবালয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তদবির লীগের যন্ত্রণায়। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডারবাজি তো আছেই। বর্তমানে তদবির লীগের শীর্ষে রয়েছেন খোদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দানকারী এসব নেতার পদভারে মুখর থাকে সচিবালয়। জানা গেছে, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলিসহ বিভিন্ন তদবিরে তারা প্রতিদিনই সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন। এ কারণে তারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দফতরের পিএসসহ অতিরিক্ত ও যুগ্ম-সচিবদের কাছ থেকে পাস সংগ্রহ করে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেই অনেকে নিজেদের রাজনীতিক পরিচয় দেন। আবার কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়েও তদবির করছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু, স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, ভূমি, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এখন তদবিরবাজদের ভিড় বেশি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আসছেন ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার আশায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ পেতে।

সুরুজ বাঙালীঅপরাধের ডায়েরী থেকে
'তদবির' এখন জীবনযাত্রার অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, এমনকি রাষ্ট্রীয় সব কর্মকাণ্ডে তদবিরের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির প্ল্যান পাস থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস সংযোগ, পানির লাইন লাগানো, এসব সংস্থার সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাসহ রাজনীতি, অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে তদবিরের প্রয়োজন পড়ে। চাহিদামাফিক...