Oporadher Dairy Theke
মানুষ গড়ার কারখানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। চির তারুণ্যের প্রতীকও এই বিশ্ববিদ্যালয়। আর সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখন শতাধিক অপরাধী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ইভ টিজিং ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত অর্ধশতাধিক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে। এরা বহিষ্কৃত হলেও এরা দলীয় ছত্রছায়াই চলাফেরা করে, তাই সব সময় তাদের প্রতিহত করা যায় না। এ ভাষ্য পুলিশের। জানা গেছে, এদের অনেকেই একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই কাজ করছে। গত পরশু গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা রাজীব বাড়ৈ ও অমিত কুমার দাস ছিনতাইয়ের অভিযোগে গত মার্চ মাসেও গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই দুজনের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাও চমৎকৃত। গত ১৬ আগস্ট রাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আনসার আলী বান্ধবীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়ার পথে পাঁচ ছিনতাইকারী তাদের ঘিরে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই পাঁচ যুবকের সঙ্গে যোগ দেয় আরও কয়েকজন। ছিনতাইকারীরা মেয়েটির গলার চেইন, কানের দুল খুলে নেয়। আনসার আলীর পকেটে থাকা ডেবিট কার্ড কেড়ে নেয়। এরপর বান্ধবীকে গণধর্ষণের ভয় দেখিয়ে কার্ডের পিনকোড জেনে নিয়ে টিএসসির এটিএম বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়। কিন্তু ওই যুবক আনসার ছাড়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি পরে ওই এটিএম বুথের কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা তোলার ফুটেজ সংগ্রহ করে শাহবাগ থানায় জমা দিয়ে একটি মামলা করেন। এরপর গত পরশু আনসার টিএসসি এলাকায় ওই ছিনতাইকারী চক্রের দুজন রাজীব বাড়ৈ ও অমিত কুমারকে চিনতে পেরে শাহবাগ থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে গতকাল হাবিব ও সোহেল নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আলোচিত এই মামলাটি গতকালই শাহবাগ থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলি নোমান। ডিবির (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ বলেন, রাজীব বাড়ৈ ও অমিত কুমার দাসকে কয়েক মাস আগেও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর বাইরে পরে দ্রুত বিচার আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে ফের একই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগের ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, গ্রেফতারকৃতরা কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল না। অনেক অপরাধী ধরা পড়লেই ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ছিনতাইয়ে অভিযুক্তদের বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগে থেকে অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সাবেক অনেকে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এর বাইরে এরা শিবির ও হিযবুত তাহরীরের মত উগ্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গেও একই কাজ করছে। গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত হাবিব সূর্যসেন হলের ক্যান্টিন ম্যানেজার এবং সোহেল ক্যান্টিন বয় বলে জানা গেছে। গত পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ধরা পড়েনি সেই ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা। তদন্তেও নেই কোনো অগ্রগতি। এরপর ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার ঘটনা ঘটে। এরাও প্রায়ই ছিনতাই, মোটরসাইকেল ছুরি, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এ অবস্থায় পুলিশ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সবাইকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সন্ধ্যা ৬টার পর উদ্যানে প্রবেশ করে কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে তার দায়-দায়িত্ব প্রশাসন নেবে না। এ ব্যাপারে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, চারপাশে এত নিরাপত্তা বলয় থাকার পরেও দিনে দিনে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ অপরাধ জোনে পরিণত হচ্ছে। তারা এ জন্য ক্যাডারভিক্তিক ছাত্র রাজনীতিকে দায়ী করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কয়েকটি ঘটনা ও সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের কথা মাথায় রেখে পুরো ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় থেমে গেছে সেটা। কোনো দাতা সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অর্থ সহায়তা দিলে নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’

তাহসিনা সুলতানাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
মানুষ গড়ার কারখানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। চির তারুণ্যের প্রতীকও এই বিশ্ববিদ্যালয়। আর সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখন শতাধিক অপরাধী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ইভ টিজিং ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত অর্ধশতাধিক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে। এরা বহিষ্কৃত হলেও এরা দলীয় ছত্রছায়াই চলাফেরা করে, তাই সব সময় তাদের...