1439197584_th
মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য তিনটাই বলা চলে। এর স্বাদ তিতা ধরনের। এটি হচ্ছে প্রোটিন, নিয়াসিন, ফাইবার, ভিটামিন-সি, পটাসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতির অনন্য এক উৎস। এছাড়া এতে আরও এমন যৌগ আছে যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। মেথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা বৃদ্ধি করে, শরীরকে রাখে সতেজ। এছাড়া মৌসুমী রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে মেথি।

এগুলো ছাড়াও মেথির আরও নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এগুলো নিম্নরুপ-

কোলেস্টেরল কমায়
মেথিতে স্যাপোনিন নামে এমন এক উপাদান রয়েছে যা কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, চর্বিযুক্ত খাবার থেকে কম কোলেস্টেরল গ্রহণে সাহায্য করে মেথি। একইসঙ্গে এটি ক্ষতিকর ঘণত্বের লিপোপ্রোটিনের মাত্রা কমাতেও ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
টাইপ ১ এবং টাইপ ২ উভয় ডায়াবেটিস রোগীর জন্যই মেথি অনেক উপকারী। এতে বিদ্যমান অ্যামাইনো অ্যাসিড ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে গ্যালাকটোমানান নামে এমন এক প্রাকৃতিক ফাইবার রয়েছে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে
মেথিতে ইস্টোজ্রেন রয়েছে যা ক্যান্সার থেকে আমাদের মুক্তি দয়। এর স্যাপোনিন এবং মিউসিলেজ খাদ্যের বিষক্রিয়াগুলো বের করে দেয়, যা ক্যান্সার থেকে কোলনের শ্লেষ্মা ঝিল্লীকে রক্ষা করে।

বুকের দুধ বাড়ায়
মেথির তৈরি ভেষজ চা পান করলে মায়ের বুকে দুধের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে শিশুরা সহজেই দুধ পায় এবং তাদের ওজনও ঠিক থাকে।

ব্যথা কমায়
জরায়ুর সংকোচন উদ্দীপক বিভিন্ন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে মেথি। একইসঙ্গে সহজে সন্তান জন্মদানেও ভূমিকা রাখে এই খাবারটি।

আয়রনের উৎস
কৈশর, গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যপান করানোর সময় আয়রনের অভাব পূরণ করে মেথি। কেননা এটি আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস।

হজমে সাহায্য করে
বুকের জ্বালাপোড়া থেকে গ্যাসের নানা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে মেথি। এটি খেলে বিরক্তিকর গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল টিস্যুগুলো প্রশমিত হয়। এছাড়া এটি দেহের ভেতরের তিকর টক্সিনকে বের করতে সহায়তা করে। এর ফলে হজমক্রিয়া ভালোভাবে হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

ওজন কমায়
সকালে খালি পেটে মেথিদানা চিবিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে, যা সবসময় পাকস্থলীকে ভরাট রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ুধা নষ্ট হয়ে যায়। আর কম খাবার খেলে ওজন এমনিতেই কমে আসে।

চুলের যত্নে
চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে মেথি। কিছুটা গরম করে সারারাত নারকেল তেলের মধ্যে মেথি ভিজিয়ে রেখে চুলে ম্যাসেজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া কমে এবং চুল ঘন হয়। এছাড়া এটি চুলের খুশকি দূর করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুলের বিভিন্ন পুষ্টিরও যোগান দেয়।

ত্বকের যত্নে
মেথিতে অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ফ্যামেটরি বৈশিষ্ট রয়েছে যা ত্বকের যতেœ অনেক বেশি কার্যকরী। ত্বক পরিষ্কার করতে, বিভিন্ন ত এবং ব্যথা সারাতেও ভূমিকা রাখে এটি। প্রতিদিন ফেসপ্যাকে মেথি গাছের নির্যাস ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ, কালো দাগ এবং ফুসকুড়ি নিরাময় হয়। এছাড়া ফোঁড়া, পোড়া এবং বিভিন্ন চর্মরোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ উপকার দেয় মেথি।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়
এতে গ্লাকটোমানান নামে এমন এক পলিস্যাকারাইড রয়েছে যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর বিদ্যমান পটাসিয়াম রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

পুষ্টির উৎস
মেথিতে প্রচুর পরিমাণে ট্রিগোনেলিন, লাইসিন, ১-ট্রিপটোফেন, স্যাপোনিন, ফাইবার, ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং মিনারেল রয়েছে যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। কাজেই সুস্থ থাকতে এটি খাওয়ার বিকল্প নেই।

সর্তকতা
মেথির নানা উপকারী গুণ থাকা সত্ত্বেও এর সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই খাবারটি গ্যাস এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আবার এর কারণে কখনও কখনও ত্বকে চুলকানি কিংবা লাল লাল ফুসকুড়িও উঠতে পারে। কাজেই এটি খাওযার সময় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। আবার গর্ভবতী নারীদেরও এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। তারপরও কেউ খেতে চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: হেলথ সাইট

হাসন রাজাস্বাস্থ্য কথা
মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য তিনটাই বলা চলে। এর স্বাদ তিতা ধরনের। এটি হচ্ছে প্রোটিন, নিয়াসিন, ফাইবার, ভিটামিন-সি, পটাসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতির অনন্য এক উৎস। এছাড়া এতে আরও এমন যৌগ আছে যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। মেথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা বৃদ্ধি...