saka chowdhuri_96493
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু ২০১০ সালের বিজয় দিবসের প্রাক্কালে গ্রেফতার হওয়া এই সাকা চৌধুরী বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে পর্যন্ত হুমকি দিয়েছেন, স্বয়ং ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়েই। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দিকে ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে সাকা চৌধুরী বলেছিলেন, ‘চোখ রাঙাবেন না’।

২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি চলাকালে এজলাসকক্ষেই প্রকাশ্যে এ হুমকি দেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তাকে। সাকা চৌধুরী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দুই বছর জেলে রাখছস, বাইর হইয়া নেই…।

আবার, ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলেন, আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। অনেক আইন আমি করেছি। এ আইনও (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন’১৯৭৩) আমার করা। আপনি তো আমার করা এ আইন পড়েও দেখেননি।

একই বছরের ১৭ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করেই বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি তো আপনারা দেবেনই, কিন্তু আমি পরোয়া করি না। ওইদিন এমনকি সাক্ষ্য দেওয়া শুরুর আগে আইন অনুসারে শপথ নিতেও অস্বীকার করেন তিনি। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমি একজন সংসদ সদস্য। আমি কেন এখানে শপথ নেব?’ পরে শপথ না করেই সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন এই যুদ্ধাপরাধী।

ওইদিন সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের জন্ম। তাই এদেশের সংবিধান রক্ষা করাও আপনাদের কর্তব্য। আপনারা সংবিধান রক্ষা করেই বিচার করবেন।’

বিভিন্ন সময়ে প্রসিকিউটরদের হেয় করে ‘পার্সিকিউটর’ বলেছেন তিনি। একবার অাদালতে বলেছেন, গত আড়াই বছর ধরে আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে তাতে কি ‘পার্সিকিউটর’ বলব না তো কি হাজি সাহেব বলব?

২০১৩ সালের ২ জুলাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড় করিয়েছেন আর আমি কথা বলতে পারব না? ভবিষ্যতে আপনাদেরও এখানে দাঁড়াতে হতে পারে।’

এসময় সাফাই সাক্ষ্যের পুরোটাই ইংরেজিতে দেন সাকা চৌধুরী। এর সপক্ষে নিজেকে বাঙালি নয়, চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ‘আপনি বাংলায় সাক্ষ্য দিলে এতো সময় লাগতো না। তার চেয়েও বেশি কথা বলতে পারতেন।’

জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাংলায় সাক্ষ্য দিতে পারব না, ইংরেজিতেই দেব। কারণ, আমি বাঙালি না চাটগাঁইয়া। বাংলায় তো আমি ভালো বলতে পারতাম না। টেকনিক্যাল প্রবলেম হতো। এক সময় ভাষার প্রতি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলে ওঠেন, আমার মাতৃভাষা বাংলা নয়, চাটগাঁইয়া।’

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। আপিল বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বাহাদুর বেপারীআইন-আদালত
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু ২০১০ সালের বিজয় দিবসের প্রাক্কালে গ্রেফতার হওয়া এই সাকা চৌধুরী বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ...