kalihati-290x218
আজ সারা দেশ ঈদ আনন্দে ভাসছে। পরিচিত, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করছে সবাই। কিন্তু পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলবাসীদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। কখন ঈদ এলো, আর কখন চলে যাচ্ছে। শোকে বিহবল হয়ে আছে নিহতদের পরিবারগুলো। সারা দেশের মানুষের সাথে হাসেনি তাদের মুখ। এক সপ্তাহ আগে স্বজন হারানোর স্মৃতি যে এখনও তাজা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবারটা ছিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে শুরু করে পুরো দেশের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। নারী লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলিতে ৪জন নিরস্ত্র গ্রামবাসী নিহত হয়।
টাঙ্গাইলে নিহতদের পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ

ঐদিন জেলার কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ফারুক, শামীম মিয়া ও শ্যামল দাস। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রবেলেরও মৃত্যু হয়। সারা দেশ ঈদ আনন্দে ভাসলেও কালিহাতীর নিহত চার পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। নিহতদের বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম।
সেদিন কালিহাতী পৌর এলাকার কুষ্টিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ফারক। ঈদের দিন সকালে ফারুকের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিবেশীদের ভিড়। ফারুকের বড় ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী আসিফকে (৮) নিয়ে আহাজারি করে যাচ্ছেন মা শ্যামলা বেগম। পাশেই তিন বছরের ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাকরুদ্ধ ফারুকের স্ত্রী আসিয়া বেগম।
ভ্যানচালক ফারুক ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্থানীয় এক নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় শুক্রবার দোষীদের বিচারের দাবিতে সেখানে গিয়েছিলেন ফারক। কিন্তু পুলিশের গুলিতে আহত হন। কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। একদিকে পিতা হার স্বামী হারা অন্যদিকে একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তি হারা পরিবারে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়েছে।
একই অবস্থা ঘাটাইল উপজেলার কালিয়া গ্রামের শামীম মিয়ার (৩৫) বাড়িতে। ঘটনার দিন জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন শামীম। কিন্তু নামাজ শেষে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। ঈদের পরে তার সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিদেশ যাওয়াতো পরের কথা ঈদের নামাজটাই পড়া হল না শামিমের।
নিহত শামিমের ঘরে বাদল (৮) ও দেড় বছরের মীন নামে দুটি ছেলে রয়েছে। বাবাহারা শিশু সন্তান নিয়ে শামীমের মা আমেনা খাতুন ও স্ত্রী বিথি ঈদের দিনেও শামীমকে মনে করে শোকাতুর হয়ে উঠছেন।
একই ঘটনায় কালিহাতীর হরিপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে গুলিবিদ্ধ রবিউল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পুত্রহারা পরিবারে ঈদ আনন্দের চেয়ে বেশি শোকের মাতম।
এদিকে ঘাটাইলের নির্যাতিত নারী আল আমিনের মা ঘটনার পর থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একদিকে শ্লীলতাহানি অন্যদিকে তার কারণেই কালিহাতীর কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা। সব মিলেয়ে আল আমিনের পরিবার বঞ্চিত রয়েছে ঈদ আনন্দ থেকে।
অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায় কালিহাতী উপজেলার সালেঙ্গা গ্রামের শ্যামল। ঈদ অনুষ্ঠান না থাকলে সপ্তাহ পার হলেও পুত্রশোকে এখনও কাতর বাবা রবি দাশ। মা ভারতী রানী রানীও দিশেহারা।
ঈদের দিনও কালিহাতীর নিহতের স্বজনদের দাবি, তারা যেন হত্যার বিচার পায়।
প্রসঙ্গত, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আলামিন ও তার মাকে স্থানীয় রোমাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে- এই ঘটনার বিচারের দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করে। তারা সড়ক অবরোধ করায় পুলিশ তাদের গুলি বর্ষণ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে একজন, হাসপাতালে নেয়ার পথে দুইজন ও ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর একজন মারা যায়।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/kalihati-290x218.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/kalihati-290x218.jpgতাহসিনা সুলতানাস্বদেশের খবর
আজ সারা দেশ ঈদ আনন্দে ভাসছে। পরিচিত, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করছে সবাই। কিন্তু পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলবাসীদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। কখন ঈদ এলো, আর কখন চলে যাচ্ছে। শোকে বিহবল হয়ে আছে নিহতদের পরিবারগুলো। সারা দেশের মানুষের সাথে হাসেনি তাদের মুখ। এক সপ্তাহ আগে...