untitled-5_152315
জেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার। পুকুর, জলাশয় ও জলাধার যাতে ভরাট করা না হয় ওই বিষয়টি আপনাদের দেখতে হবে। এসব কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠী। গতকাল সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাজের গতি আনতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাড়তি কাজের চাপ সামাল দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনবল বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনাও করছে সরকার। ইউনিয়ন সচিবের কাজে সহায়তার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে লোক নিয়োগের কথাও চিন্তায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে ৪ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। ইউনিয়ন সচিবের কাজের চাপ কমাতে একজন করে লোক নিয়োগ করা হবে। সুপেয় পানি সহজলভ্য করতে গ্রামীণ জনপথে সরকারি জলাশয় সংস্কার ও পুনঃখনন করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের সরকারি জলাধারের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে ৩ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে এক লাখ ৬ হাজার পাকা। পর্যায়ক্রমে গ্রামীণ জনপদের পুরো রাস্তাই পাকা করা হবে। এদিকে তিন পার্বত্য জেলার বরাদ্দের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এসব বিষয়ে ডিসিদের প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ভূমি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বড় ধরনের অর্থ আয় করলেও পার্বত্য তিন জেলার জটিলতার কারণে ভূমি হস্তান্তরে অর্থ পায় না। এ কারণে পার্বত্য তিন জেলায় বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
নদীভাঙনকবলিত জেলার ডিসিদের উদ্বেগ: নদী ভাঙনকবলিত জেলার ডিসিরা ভাঙন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম। অধিবেশন শেষে বেরিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সম্মেলনে ডিসিরা বলেছেন, বর্ষা মওসুম এলে প্রতিবছরই নদীভাঙন দেখা দেয়, যাতে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। এ সর্বগ্রাসী ভাঙনে গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাই ডিসিরা জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নদীভাঙন রোধ ও ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে একটি প্রকল্পের দাবি করেছেন। এর আগে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সম্মেলনের বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের জবাব দেননি।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চেয়েছেন ডিসিরা: সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চেয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)’রা। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী তিন বছরের মাথায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। গতকাল দ্বিতীয় দিন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশন শেষে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওনারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাচ্ছেন, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, আগামী তিন বছরের মাথায় সারা দেশে অন্তত ৮০ শতাংশ জায়গায় যেখানে বিদ্যুৎ দিয়েছি, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারবো। সারা দেশে খুব দ্রুতগতিতে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে আরইবি (পল্লীবিদ্যুৎ) এলাকায় ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিতে পারবো।
খাদ্য এবং দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে ডিসিদের চাহিদা বেশি: খাদ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ডিসিদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। কামরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের চাহিদা ছিল বেশি। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য গুদামের প্রয়োজন। অনেক খাদ্য গুদাম নষ্ট হয়ে গেছে। সেই চাহিদা বেশি দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত করেছি, সরকারিভাবে ১ লাখ ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম তৈরি হচ্ছে, আগামীকাল প্রথম দফায় টেন্ডার যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ১৯ লাখ টন ধারণ ক্ষমতার সাইলো ২৫ লাখ টনে উন্নীত করা হবে। আমরা তাদের চাহিদা ফুলফিল করব। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছেও চাহিদা ছিল বেশি করে বরাদ্দ দেয়া। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মালামাল লিফট দেয়ার জন্য ট্রাক এবং গোডাউন করে দেয়ার জন্য বলেছেন তারা। আমরা ব্যবস্থা নেব। টিআর-কাবিখার বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এব্যাপারে তারা কোন কথা বলেনি। সুষ্ঠুভাবে যাতে বণ্টন হয় সেটা নিশ্চিত করা হবে।
শিল্পপ্লট বরাদ্দে শিল্পমন্ত্রীর তাগিদ: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিভিন্ন জেলার খালি পড়ে থাকা শিল্পপ্লটগুলো বিলম্ব না করে উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণের তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব শিল্পপ্লট খালি রয়েছে, সেগুলো উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখতে ও উপযুক্ত মনিটরিং চালু রাখতে ডিসিদের বলেছি। ডিসিরা যেন যে যার অবস্থান থেকে এ বিষয়ে কাজ করেন। এসব প্লটে শিল্প-কারখানা গড়লে খাতটি আরও অগ্রসর হবে। এদিকে প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত একটি করে পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত একটি করে পণ্য নির্বাচন করে সে পণ্যটি রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এক জেলা, এক পণ্য’- এভাবেই রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। ডিসিদের প্রস্তাব সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ হেসে বলেন, আমরা এমনিতেই ভালো কাজ করি। আর কিইবা প্রস্তাব দেয়ার আছে। ২০১৪’র নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

তাহসিনা সুলতানাশেষের পাতা
জেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার। পুকুর, জলাশয় ও জলাধার যাতে ভরাট করা না হয় ওই বিষয়টি আপনাদের দেখতে হবে। এসব কারণে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠী। গতকাল সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্থানীয়...