2
বিশেষ প্রতিবেদক ।
শুক্রবার সকালে শিশুদের হুটোপুটি আর দুপুর না গড়াতেই মেলা উপচে পড়েছিল বইপ্রেমীদের আনাগোনায়। সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য নির্ধারিত ছিল মেলার সময়। ‘শিশু প্রহর’-এ বাংলা একাডেমির চত্বরজুড়ে ছোটাছুটি, মা-বাবার হাত ধরে স্টলে স্টলে বই দেখে, বই কিনে, নতুন বই বুকে জড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে তারা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
বই কেনার পাশাপাশি শিশুদের মন কেড়েছে সিসিমপুরের হালুম-ইকরি-টুকটুকি-শিকু। সেখানে তাদের জন্য বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তারা। তাদের সঙ্গে মেতে উঠেছিল ‘খুদে বিচ্ছু’র দল। শিশুদের জন্য তৈরি মঞ্চে নানা ধরনের শিক্ষণীয় খেলায় অংশ নিয়ে অন্যরকম এক দিন পার করেছে শিশুরা। সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকরাও শিশু হয়ে গিয়েছিলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে মেতে উঠেছিলেন খেলায়।

স্কুলপড়ুয়া ছেলে মো. মুহতাসিম বিল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর থেকে এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সবুজ। সঙ্গে ব্যাংকার স্ত্রী ফারহানা রহমান সূর্যা। মেলায় ঘুরে ঘুরে বই কিনলেন। তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানালেন, ‘ছেলের বই কেনার টানেই আসা। নিজেরা পরে কিনবেন, আজ শুধু ছেলের বই।’

ধানমন্ডি থেকে মা শারমিন রহমানের সঙ্গে এসেছিল আশফি। কী বই কিনলে—এ প্রশ্নের জবাবে ফোকলা দাঁতের হাসি হেসে বলল, ‘আমি টম এন্ড জেরি, মীনা, ভূতের গল্প, পরির গল্প, রাক্ষস-খোক্কসের গল্প…।’ এভাবে একের পর এক বইয়ের নাম বলতেই থাকল। এ সময় পাশে থাকা তার মা ইয়াসমিন নাহারের হাসিমুখ বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে নিজের বাচ্চাকে এ বইয়ের মেলায় নিতে আসতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।

গতকালই মেলায় প্রথম আসেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘মেলার তৃতীয় দিনেই এত মানুষের সমাগম ভাবাই যায় না। গতবারও মেলা ভালো হয়েছে। এবার মেলা তার চেয়েও ভালো হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

প্রথম শুক্রবারের মেলা নিয়ে তাম্রলিপির প্রকাশক একে তারিকুল ইসলাম রনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বললেন, ‘প্রচুর মানুষ আসছে। তারা শুধু বই দেখছেন না, কিনছেনও। এবারের মেলাটা বেশ জমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

এদিকে আজ শনিবারও ‘শিশু প্রহর’। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলা শিশুদেরর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অলীনের তৃতীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন:মেলা প্রাঙ্গণে সিসিমপুর মঞ্চে খুদে লেখক অলীন বাসারের তৃতীয় বই ‘ভুতুম’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হলো গতকাল সকালে। উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, লেখক আফজালুল বাসার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন লেখিকা নুর কামরুন নাহার।

আনিসুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘অলীন বাসারের গল্পগুলো খুব সুন্দর। সহজ ভাষা। প্রতিটি গল্পের মধ্যে গল্পের সব উপকরণ আছে। সে এত অল্প বয়সে এত ভালো লিখেছে এটা সত্যিই বিস্ময়।’

এসেছে ১৩০ নতুন বই: একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলায় নতুন ১৩০টি বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১৩, উপন্যাস ২৮, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ৪১, গবেষণা ৪, ছড়া ৭, শিশুসাহিত্য ৪, জীবনী ৪, মুক্তিযুদ্ধ ৭, নাটক ১, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ৩, রম্য/ধাঁধা ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর বই এসেছে ১০টি। এ ছাড়া মেলায় ১৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।

এর মধ্যে অনন্যা প্রকাশ এনেছে মহাদেব সাহার ‘মাটির সম্ভার’, আফসার ব্রাদার্স এনেছে মোহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘তারুণ্যের এপিঠ ওপিঠ’, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকানো’, ভাষাচিত্র এনেছে আবু হাসান শাহরিয়ারের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’, শিশুরাজ্য প্রকাশনা এনেছে আহসান হাবীবের ‘কমিকস ভয়ঙ্কর পোকা’, সময় প্রকাশন এনেছে সুমন্ত আসলামের ‘হাফ সার্কেল’, আনিসুল হকের ‘একলক্ষ লাইক’, ঐতিহ্য এনেছে অনু হোসেন ও সরকার আমিনের ‘জ্যোতির্ময়’, অন্যপ্রকাশ এনেছে মোহিত কামালের ‘বিষাদ নদী’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে মোশতাক আহমেদের ‘সেরা পাঁচ উপন্যাস’, স্বকৃত নোমানের ‘শেষ জাহাজের আদমেরা’ ও কাকলী প্রকাশনী এনেছে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রেষ্ঠ মিসির আলী’।

বিষয়ভিত্তিক আলোচনা:গতকাল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের তৃতীয় দিন সকালে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘বাংলা কবিতা’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পশ্চিমবঙ্গের কবি শ্যামলকান্তি দাশ এবং অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা, ইকবাল হাসান, তুষার দাশ ও ফরিদ কবির। এই অধিবেশন সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

বিকালে মূলমঞ্চে ‘বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্য’ বিষয়ে আলোচনা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাবন্ধিক সুমিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের গবেষক সুনন্দা সিকদার, কথাসাহিত্যিক পূরবী বসু, প্রাবন্ধিক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র গবেষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, চীনের অনুবাদক ইয়াং উই মিং সর্না ও পশ্চিমবঙ্গের গবেষক ইমানুল হক। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার।

পরে ‘মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, পশ্চিমবঙ্গের গবেষক জিয়াদ আলী, ড. আমিনুর রহমান সুলতান। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

এছাড়া শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘সাহিত্য ও ফোকলোরের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফিরোজ মাহমুদ ও শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফিকুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ, সাইমন জাকারিয়া ও সাকার মুস্তাফা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

সন্ধ্যায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অন্যভাষার কবির স্বরচিত কবিতা এবং ছড়া পাঠ। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সুকুমার বড়ুয়া।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/02/26.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/02/26-300x214.jpgহীরা পান্নাজাতীয়
বিশেষ প্রতিবেদক । শুক্রবার সকালে শিশুদের হুটোপুটি আর দুপুর না গড়াতেই মেলা উপচে পড়েছিল বইপ্রেমীদের আনাগোনায়। সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য নির্ধারিত ছিল মেলার সময়। ‘শিশু প্রহর’-এ বাংলা একাডেমির চত্বরজুড়ে ছোটাছুটি, মা-বাবার হাত ধরে স্টলে স্টলে বই দেখে, বই কিনে, নতুন বই বুকে জড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে...