11
নিজস্ব প্রতিবেদক ।

এই পৃথিবীতে নানা বৈশিষ্ট্যের খাবার-দাবার রয়েছে। তবে সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু খাবারের তালিকা বের করেছেন যা আপনার ওজন কমাতে সহায়তা করে। এখানে জেনে নিন এমনই কিছু ডায়েটের কথা যা আপনার মনের আশা হয়তো পূরণ করতে পারে।

১. সাউথ বিচ : এতে আছে কিছু ফল, সবজি, শস্য এবং হালকা মাত্রার প্রোটিন। বাদ দিতে হবে চিনি ও সাদা স্টার্চ।

যা করবেন : ২০০৩ সালে এই খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করেন কার্ডিওলজিস্ট আর্থার আগাস্টন। তিন ভাগে এর পরিচয় ঘটনা তিনি। প্রথমমে কার্বোহাইড্রেট, ফল ও অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে ওই খাবারগুলো খেতে পারেন।

বিজ্ঞান যা বলে : সামগ্রিক খাবারের গুরুত্ব দেয় এই তালিকা। ওজন কমাতে তৈরি করা হয়েছে এটি। এই তালিকার যেকোনো খাবার বাদ দিলে পুষ্টির অভাব হবে। আবার অনেকে এটি খেয়ে মুখে দুর্গন্ধ, শুষ্ক মুখ, ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুম না আসা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের শিকার হয়েছেন। তবে সাউথ বিচ ডায়েটে মানুষের ওজন কমে আসে খুব দ্রুত।

২. ওয়েট ওয়াচার্স : এই ব্র্যান্ডের ডায়েট যত ইচ্ছা খেতে পারবেন। তবে এর বাইরে অন্য কিছু খেতে পারবেন না।

যা করবেন : এতে খাবারের পুষ্টিমানের ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আপনার উচ্চতা, ওজন এবং পরিশ্রম বুঝে কি পরিমাণ খাবেন তা ঠিক করা হয়। কি পরিমাণ ওজন কমাতে চান তার ওপর নির্ভর করবে খাবার গ্রহনের নিয়ম ও পরিমাণ।

বিজ্ঞান যা বলে : ওয়েট ওয়াচার্স সম্পর্কে বেশ ইতিবাচক উপসংহার টানেন বিজ্ঞানীরা। এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখে গেছে, এই খাবার খেয়ে এক বছরে অংশগ্রহণকারীরা ৭ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন। অন্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই খাবারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. নিরামিষভোজী : খেতে পারেন ফল, সবজি, শস্য, দুগ্ধজাত খাবার ও বাদাম। মাংস ও মাছ ত্যাগ করতে হবে।

যা করবেন : অনেক ধরনের নিরামিষভোজী রয়েছেন। তবে মূলত মাংস ও মাছ বাদ দিতে হবে।

বিজ্ঞান যা বলে : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষভোজীরা অন্যদের চেয়ে দ্রুত ওজন কমাতে পারেন। তা ছাড়া মাছ ও মাংস ছাড়লে পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে যথেষ্ট পরিমাণ পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ভেগান : এতেও রয়েছে ফল, সবজি, শস্য ও বাদাম। নেই মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার।

যা করবেন : এই খাবারে কোনো প্রাণীজ উপাদান নেই।

বিজ্ঞান যা বলে : গবেষণায় বলা হয়, নিরামিষভোজীদের মতোই সুবিধা মেলে। এতে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। ভেগানদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও কমে আসে।

৫. মেডিটারিয়ান : আছে ফল, সবজি, বাদাম, অলিভ ওয়েল। বাদ দিতে হবে রেড মিট, প্রক্রিয়াজাত শস্য, মিষ্টি এবং মাখন।

যা করবেন : উদ্ভিজ্জ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এগুলোই হবে মূল খাবার। চাইলে সামান্য পরিমাণ মাংস, ডিম বা মাখন খাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞান যা বলে : বিশেষ করে ইতালির এই খাদ্যতালিকায় হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে। বিজ্ঞানীরা এই খাবার নিয়েই সবচেয়ে বেশি গবেষণা করেছেন। এতে স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে আসে।

৬. কাঁচা খাবার : রান্না না করা ফল, সবজি, বাদাম ইত্যাদি খেতে হবে। রান্না করা যেকোনো খাবার খাওয়া যাবে না।

যা করবেন : খেতে পারেন সেই খাবার যা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপের বেশিতে সেদ্ধ করা হয়নি। পাস্তা, মাংস, পাস্তুরিত দুধ বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া যাবে না।

বিজ্ঞান যা বলে : কাঁচা খাবারের কথা আসলেই সবজি ও ফলের কথা আসে। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি বেশ উপকারী ডায়েট। তবে এটা থেকে পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি ও খনিজ পেতে হলে নানা ধরনের সবজি ও ফলের সমন্বয় ঘটাতে হবে। তা ছাড়া প্রস্তুতের জন্য অনেক সাবধান থাকতে হবে।

৭. নিম্নমাত্রার কার্বোহাইড্রেট- অ্যাটকিন্স, জোন, কেটোজেনিক : ফল, সবজি, প্রোটিন ও দুগ্ধজাত পণ্য রয়েছে এতে। এড়িয়ে যেতে হবে কার্বোহাইড্রেট।

যা করবেন : নিম্নমাত্রার কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের জন্য কয়েক ধরনের খাবার রয়েছে। চিনিপূর্ণ ও প্রক্রিয়াজাত কার্বের পরিবর্তে ফল, সবজি ও মাংস দিয়ে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞান যা বলে : বিগত কয়েক বছর ধরে এই খাবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের এপিলেসপির চিকিৎসায় প্রথম উদ্ভাবন করা হয় কেটোজেনিক। কম কার্ব দেওয়া হলে শক্তি উৎপাদনে দেহ জমে থাকা চর্বি পোড়ায়। তবে এই খাবারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অবসাদ, মাথাব্যথা, মুখে দুর্গন্ধ এবং ক্লান্তি আসতে পারে।

৮. ড্যাশ : ফল, সবজি, কম মাত্রার ফ্যাটসমৃদ্ধ দুগ্ধজাত পণ্য আর শস্য খাওয়া যাবে। লবণ, চিনি ও রেড মিট বাদ দিতে হবে।

যা করবেন : ডায়েটারি অ্যাপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন (ড্যাশ) এই খাধ্যতালিকা প্রস্তুত করে। মূলত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তা তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞান যা বলে : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি সবচেয়ে কার্যকর খাদ্যতালিকা। সবমিলিয়ে এটাই ভালো খাবার। বলা হয়, এর মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। তা ছাড়া হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যা দূর করতেও এই খাবার কার্যকর।

৯. প্যালিও : এই খাবারগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং প্রস্তুত করতে হবে। যেকোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার, ঘাস খাওয়া মুরগির মাংস, শস্য এবং দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিতে হবে।

যা করবেন : আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই খাবার খেতেন। এগুলো প্রকৃতি থেকে খুঁজে বের করতেন তারা। অর্থাৎ এই খাবারগুলো উৎপাদিত করা হয় না।

বিজ্ঞান যা বলে : চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নেই এতে। কাজেই তা নিঃসন্দেহে উপকারী। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় প্যালিও ডায়েট। তবে তা সবার ক্ষেত্রে কাজ করেনি বলে প্রমাণ মেলে। তবে এই খাবারে যথেষ্ট পুষ্টি নাও পেতে পারেন।

১০. গ্লুটেন-ফ্রি : এতে আছে ফল, সবজি, প্রোটিন এবং দুগ্ধজাত খাবার। বাদ দিতে হবে শস্য।

যা করতে হবে : ব্রেড, সিরিয়াল, গম, বার্লি এবং রাই খাওয়া যাবে না। শস্যের প্রোটিনকে বলা হয় গ্লুটেন। এটি ডায়রিয়া, অবসাদ, ওজনহীনতা, বমিভাব, রক্তাল্পতা ইত্যাদি ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞান যা বলে : রেকর্ড সংখ্যক মানুষ এখন গ্লুটেন-ফ্রি খাবার কান। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, এ কারণে সেরিয়াক ডিজিস অনেক কমে এসেছে। তা ছাড়া গ্লুটেন-ফ্রি খাবার খাওয়া মানে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে আসা। এ খাবার ওজন কমাতে সহায়তা করে।

১১. নিম্নমাত্রার ফ্যাট : খাবেন ফল, সবজি, শস্য ও লিন প্রোটিন। বাদ দিতে হবে চর্বিযুক্ত মাংস, দুগ্ধজাত খাবার ও ভাজা খাবার।

যা করবেন : কমমাত্রার ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়াটাই মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞান যা বলে : পুষ্টিবিশারদরা এই খাবরের কথা বলে আসছেন যুগ যুগ ধরে। তবে ট্রান্স ফ্যাট নানা রোগের কারণ হতে পারে। তবে ২০১৫ সালে হার্ভার্ডের এক দল গবেষকের গবেষনায় বরা হয়, এই খাবারে ওজন তেমন কমে না।

১২. ফাস্ট ৫:২ : টানা ৫ দিন স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। সপ্তাহের বাকি দুই দিন ৫০০ ক্যালোরি গ্রহণ করা যাবে না।

যা করবেন : সপ্তাহে ৫ দিন যা খান তাই খাবেন। পরের দুই দিন ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে আনবেন।

বিজ্ঞান যা বলে : গবেষকরা জানান, ইঁদুরকে এই খাবার খাওয়ানোর পর দেখা যায় যে তারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে। ওজন কমেছে এবং রোগবালাই কমে এসেছে। তবে এই খাবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো গবেষণা হয়নি। অবশ্য এই খাবারে মাথাব্যথা, শাথা ঘোরানো, মনোযোগ দিতে সমস্যা এবং বিরক্তিবোধ আসতে পারে। তা ছাড়া সপ্তাহের বাকি দুই দিন নাটকীয়ভাবে ক্যালোরি না কমিয়ে তা সব সময় করা যেতে পারে।

১৩. হোল ৩০ : আছে ফল, সবজি, প্রোটিন এবং ভালোমানের ফ্যাট। বাদ দিতে হবে চিনি, অ্যালকোহল, শস্য এবং দুগ্ধজাত খাবার।

যা করবেন : টানা ৩০ দিন শস্য, সয়া, অ্যালকোহল, চিন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবেন না।

বিজ্ঞান যা বলে : এভাবে একটানা খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনাটা বেশ কঠিন বিষয়। এটি অনেকটা প্যালিও ডায়েটের মতোই।

১৪. আলকাইন : ফল, সবজি, বাদাম বা টফু ইত্যাদি খাওয়া যাবে। শস্য, প্রক্রিয়াজাত, দুগ্ধজাত খাবার, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি বাদ দিতে হবে।

যা করবেন : ফল, সবজি এবং টফু দেহের প্রাকৃতিক পিএইচ মাত্রা ৭.৪ এর চারপাশে রাখে। মাংস, চিনি, দুগ্ধজাত খাবার, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন ইত্যাদি এই তালিকার বাইরের খাবার।

বিজ্ঞান যা বলে : যে খাবারগুলো খেতে না করা হয়েছে সেগুলো বেশ ভালো পরামর্শ। তবে এই ডায়েট বেশ এসিডিক। এগুলো হজম করতে দেহের অনেক কাজ করতে হবে। তাই একে বিজ্ঞান তেমন সমর্থন দেয় না। তবে ফল ও সবজি বেশি খাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো বিষয়।

১৫. ক্লিনসেস : জুস ও কিছু নির্দিষ্ট খাবার। বাদ দিতে হবে অন্যান্য খাবার।

যা করবেন : নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ কিছু খাবার খাবেন না। মূলত দেহ থেকে বিষ তাড়াতে এই খাবার খেতে হবে।

বিজ্ঞান যা বলে : এই খাবার আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিষাক্ত উপাদান দূরতে এই ডায়েট মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। যদিও বিষাক্ত উপাদান দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকলের জন্য দায়ী। কিন্তু অন্য উপায় তা দূর করতে হয়। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/10/111.gifhttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/10/111-300x300.gifঅর্ণব ভট্টলাইফ স্টাইল
নিজস্ব প্রতিবেদক । এই পৃথিবীতে নানা বৈশিষ্ট্যের খাবার-দাবার রয়েছে। তবে সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু খাবারের তালিকা বের করেছেন যা আপনার ওজন কমাতে সহায়তা করে। এখানে জেনে নিন এমনই কিছু ডায়েটের কথা যা আপনার মনের আশা হয়তো পূরণ করতে পারে। ১. সাউথ বিচ : এতে আছে কিছু ফল, সবজি,...