1439440727_th
আদালত অবমাননার দায়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার আদালতের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত এই দুই সাংবাদিককে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

আজ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।

একইসঙ্গে এ দু’জনকে দশ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে সর্বোচ্চ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে এ দুই সাংবাদিককে সাত দিনের জেল-এর দণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন। ওই দিন জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে জনকন্ঠের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১০ আগস্ট আদালত অবমাননার রুলের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণার আগেই দৈনিক জনকণ্ঠ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা আদালত অবমাননার শামিল। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে রায়কে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা : পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় এর লেখক।

স্বদেশ রায়ের ওই নিবন্ধের একটি অংশে বলা হয়, ‘এখানেই কি শেষ ৭১-এর অন্যতম নৃশংস খুনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালির রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপিল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান।’

এ কলাম লেখায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ।

হাসন রাজাআইন-আদালত
আদালত অবমাননার দায়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার আদালতের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত এই দুই সাংবাদিককে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আজ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। একইসঙ্গে এ দু'জনকে...