1440270600
চিকিত্সক ছাড়াই চলছে পরিত্যক্ত ও পাচার থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ছোটমণি নিবাস’। রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত এই কেন্দ্রে একশ শিশুর জন্য মাত্র দুজন চিকিত্সকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত্ নেই কোনো চিকিত্সক। ফলে অসুখ-বিসুখে কষ্টের সীমা থাকে না মা-বাবাহীন হতভাগ্য শিশুদের।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১৯৬২ সালে পরিত্যক্ত শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য গড়ে তোলা হয় এই ‘ছোটমণি নিবাস’। চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া শিশুদেরও জায়গা হয় এই নিবাসে। বর্তমানে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগীয় শহরে রয়েছে ‘ছোটমণি নিবাস’। সাধারণত এক মাস থেকে সাত বছরের শিশুদের এই নিবাসে রাখার নিয়ম।

সরেজমিনে ঢাকার ‘ছোটমণি নিবাসে’ গেলে দেখা যায়, আজিমপুরের গোরে শহীদ মাজারের অদূরে একটি পাঁচতলা ভবনের দুই আর তিন তলায় চলছে ছোটমণিদের থাকা, খাওয়া, পড়াশোনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম। ভবনের অন্য তলায় চলে সরকারের অন্য কার্যক্রম। জানা গেল, বর্তমানে ২২ জন শিশু নিয়ে চলছে কেন্দ্রটি। গত ১০ আগস্ট একটু বড় হয়ে যাওয়া ১৩ শিশুকে বিদায় দিয়েছে তারা। চিকিত্সক না থাকায় দুই শিশু গুরুতর অসুস্থ। তাদের একজনকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে ও আরেকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিবাসটি ঘুরে শুধু ডাক্তারের অভাবই নয়, নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অসুখ-বিসুখে শিশুদের ভোগান্তির ব্যাপারটি স্বীকার করে কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো চিকিত্সক নেই। নিবাসে দুজন শিক্ষক আছেন। শিশুদের অসুখ-বিসুখে তারাই হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে এতে নিবাসের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, একজন চিকিত্সক থাকলে প্রাথমিক চিকিত্সাটা আবাসিক চিকিত্সকই দিতে পারতেন। তা ছাড়া ভবন ঘিরে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপে আছে ডেঙ্গুসহ নানা মশার উপদ্রব। সেলিনা জানান, তাদের মশারি থাকলেও তা টানানোর ব্যবস্থা নেই। আর জানালার অনেক কাচও ভাঙা, শীত আসার আগে যদি ফাইবার গ্লাস দিয়ে জানালাগুলো মেরামত করা যায়, তাহলে শিশুদের আরাম হবে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ২ হাজার টাকা খাওয়া ও জ্বালানি খরচ বাবদ দেয়া হয়। আর ৬শ টাকা ব্যয় হয় শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, তেল-সাবান ও প্রসাধনী বাবদ।

জানা গেছে, এখানকার শিশুদের একটি সুস্থ জীবন দিতে ১৫টি পদে কাজ করছেন সহকারীরা। তবে একেবারে ছোটমণিদের জন্য এই নিবাস বলে এখানে কোনো রাঁধুনি আর পরিচ্ছন্নকর্মী রাখা হয়নি। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই শিশু কৌটার দুধের সাথে খিচুড়িসহ স্বাভাবিক খাদ্য খেতে শুরু করে। তাই এই দুটি পদের প্রয়োজন। উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানান, বাড়তি টাকা দিয়ে তিনি রাঁধুনি ও মাঝে মধ্যে পরিচ্ছন্ন কর্মী জুটিয়ে নেন। কিন্তু তাতে চাহিদা মোতাবেক কাজ হয় না। এছাড়া গার্ড না থাকায় নিবাস থেকে যে কোনো সময় শিশুদের বেরিয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে বলে জানালেন তিনি।

সেলিনা আক্তারের সঙ্গে কথা বলার সময় খালি গায়ে আর খালি পায়ে বারবার উঁকি দিচ্ছিল কয়েকটি শিশু। তাদের কাপড় পরার তাগাদা দেয়া হলো। অবশেষে তাদের গায়ে জামা উঠলেও পায়ে জুতো দেখা গেল না। মাথায় তেল নেই, চুলে নেই চিরুনির ছোঁয়া। ডিম খাওয়ার সময় তারা হাত না ধুয়েই ডিম খেতে শুরু করে। কেউ তাদের বলেও না হাত ধোয়ার কথা। সেই হাতেই তারা খেলার ঘরে চলে যায় খেলতে। জায়গার সঙ্কটের জন্য পড়া আর খেলা তাদের এক ঘরেই হয়। ক্লাসরুমে চলে দাপ্তরিক কাজ। পিচ্ছিল শৌচাগারে তাদের যেতে হয় খালি পায়ে। কয়েকদিন আগেই পড়ে একজনের হাত ভাঙে। যে কোনো সময় আবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। নিবাসে থাকা সাবিনা, ফেরদৌসী, লিয়া, দুর্জয়, রাকিব, নাহিদসহ কারোরই নেই একটু খোলা জায়গায় খেলার স্বাধীনতা। নেই কারো কাছে আবদার করার সুযোগ।

‘ছোটমণি নিবাসে’র নানা সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ সচিব তারিক-উল-ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, নিবাসে চিকিত্সকের পদ দুটি যে শূন্য তা তার জানা ছিল না। তিনি এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।

নৃপেন পোদ্দারপ্রথম পাতা
চিকিত্সক ছাড়াই চলছে পরিত্যক্ত ও পাচার থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ছোটমণি নিবাস’। রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত এই কেন্দ্রে একশ শিশুর জন্য মাত্র দুজন চিকিত্সকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত্ নেই কোনো চিকিত্সক। ফলে অসুখ-বিসুখে কষ্টের সীমা থাকে না মা-বাবাহীন হতভাগ্য শিশুদের। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১৯৬২ সালে পরিত্যক্ত...