1440535766
একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৭/৮ জন ব্যক্তি ৩ জনকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনে। তারা ঐ তিন ব্যক্তিকে মারধর করতে থাকে। এসময় চিত্কার করতে থাকে, ‘ছেলেধরা’। অমনি আশেপাশের জনতা ছেলেধরা সন্দেহে ঐ ৩ ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে দেখা গেলো গণপিটুনিতে নিহত ঐ তিন ব্যক্তি গরু ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষরা তাদের ‘ছেলেধরা’ সাজিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার চরমপন্থি অধ্যুষিত এলাকা সাঁথিয়ার করমজা চতুর হাট এলাকায়। নিহতরা হলেন, নাটোর সদর থানার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের সাবেক মেম্বর আলাউদ্দিন (৫০), দিনাজপুর সদর থানার পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের আসলাম (৫০) ও পাবনা সদর থানার গাছপাড়া গ্রামের আবু বক্কার (৫২)।

এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নগরবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী আলিফ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সাঁথিয়া উপজেলাধীন করমজা চতুর হাট নামক স্থানে থামে। বাস থেকে ৭/৮ জন ব্যক্তি তিনজনকে টেন-হিঁচড়ে নামাতে থাকে। তাদের নামানো হলে বাসটি চলে যায়। তারা ঐ তিনজনকে করমজা চতুর হাটে প্রতিভা বিপণন নামের একটি দোকানের সামনে নিয়ে পিটাতে থাকে। পিটানোর সময় তারা ‘ছেলেধরা’ বলে চিত্কার করতে থাকে। তাদের চিত্কারে হাটের লোকজন তাদের সঙ্গে একত্র হয়ে গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

করমজা চতুর হাটের কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কতিপয় ব্যক্তি ঐ তিনজনকে কলার চেপে ধরে ঘটনাস্থলে এনে ‘ছেলেধরা’ বলে পেটাতে থাকে। প্রতিভা বিপণনের মালিক রাজন জানান, তার দোকানের সামনে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিতে থাকে। তিনি তখন দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জনতা বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে ঐ তিন ব্যক্তিকে অর্ধনগ্ন করা হয়। জনতা তাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর তারা পানি খেতে চান। তখন কেউ কেউ তাদেরকে পদদলিত করে। এক পর্যায়ে তারা মারা যায়। পরে গণপিটুনিতে অংশ নেয়া লোকজন ও যারা তাদের বাস থেকে নামিয়েছিল তারা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ছেলেধরা সন্দেহে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হলেও এর পিছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে। যা অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।

সাঁথিয়া থানার ওসি আবুল কাশেম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, গতকাল ছিল করমজা চতুর হাটে হাটবার। এ কারণে প্রতিপক্ষ ঐ তিন ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে বাস থেকে নামিয়ে অপহরণ নাটক সাজায়। আবুল কাশেম আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সকলেই গরু ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে একজনের পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন নম্বর পেয়ে স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তবে কারা ঐ তিনজনকে যাত্রীবাহী বাস থেকে টেনে নামিয়েছিল-এ ব্যাপারে কোন তথ্য মিলেনি। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, গণপিটুনির সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ভিডিও করেছিলেন। ঐ ভিডিও ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গতকাল রাতেই ময়না তদন্তের জন্য লাশগুলো পাবনা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুরুজ বাঙালীশেষের পাতা
একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৭/৮ জন ব্যক্তি ৩ জনকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনে। তারা ঐ তিন ব্যক্তিকে মারধর করতে থাকে। এসময় চিত্কার করতে থাকে, ‘ছেলেধরা’। অমনি আশেপাশের জনতা ছেলেধরা সন্দেহে ঐ ৩ ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে দেখা গেলো গণপিটুনিতে নিহত ঐ তিন...