1443025124
ছুটছে মানুষ নাড়ির টানে। গতকাল ছিল ঈদপূর্ব শেষ কর্মদিবস। তাই শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে বেশিরভাগ মানুষই এখন পথে পথে। শহর ছাড়ার আগেই যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। নগরীর প্রায় সব কটি প্রবেশ-বহির্গমন পথে ছিল যানজট। গাড়ি চলছে থেমে থেমে। যে যেভাবে পারছেন চেপে বসছেন। বাসের ছাদ, ভেতরে আসন না পেলে মোড়া বিছিয়ে অথবা দাঁড়িয়ে আর ট্রেনের ছাদ হাতল যেখানেই ফাঁকা সেখানেই মানুষ। নৌপথেও ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছেন যাত্রীরা। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ির পথে এভাবেই রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। তবু মুখে হাসির রেশ।
শেষ মুহূর্তের বাড়িযাত্রায় ট্রেনের বগিতে জায়গা না পেয়ে ছাদে ওঠার প্রাণান্তকর লড়াই চলছে। মাইকে সতর্কতা বাণী উপেক্ষা করে লঞ্চে বোঝাই হচ্ছেন অতিরিক্ত যাত্রী। সড়কপথেও একই তরিকায় বাড়ির মুখে যাত্রা। তাই ঘরে ফেরার স্রোতে ফাঁকা তিলোত্তমা নগরী ঢাকা। ঈদের ছুটি কাটাতে কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। এজন্য যাত্রাপথে ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করছেন না অনেকেই।
ঘরমুখো মানুষদের নিয়ে ছুটে চলা ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা নেই। খালি নেই ছাদও। কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে যাওয়ার সুযোগ নেই তাই বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে ছাদে, দুইঞ্জিনের সংযোগস্থলে চেপে বসছেন যাত্রীরা।
সড়কপথ : বাসযাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে কাউন্টারে-টার্মিনালে। মহাসড়কে যানজট তাই গাড়ি পৌঁছতে এবং ছাড়তে দেরি হচ্ছে। যাত্রার সময় টিকিট বিক্রি হয় মহাখালী বাস টার্মিনালে। রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। শেষ মুহূর্তে ভাড়া যাই হোক বাড়ি যেতে হবেÑ তাই জিম্মি করা হচ্ছে যাত্রীদের।
রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের পাশাপাশি বিভিন্ন কাউন্টারে এখন মানুষের ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করছেন তারা। কারণ যাত্রী আছে, গাড়ি নেই। গতকাল সায়েদাবাদে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য শ্যামলী পরিবহনের টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফাতেমা বিনতে ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ট্রেনের টিকিট তারা পাননি। সুবর্ণ বা তূর্ণা ট্রেনের টিকিটের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়াদৌড়িও করেছেন। বাধ্য হয়ে বাসের টিকিট কিনেছেন। মহাখালী বাস টার্মিনালে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফিরতি বাসের দেখা মিলছে না। গাবতলীর টি আর, হানিফ, শ্যামলী, কেয়া, এস আলম, শাহ আলী, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন কাউন্টারেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। দামি পরিবহনের বাইরে সাধারণ বাসে দাঁড়িয়ে, ছাদে বসে যে যেভাবে পারেন রওনা হচ্ছেন বাড়ির পথে।
গতকাল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে গেছেন গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে। তবে যাত্রীরা বলছেন, মন্ত্রীর পরিদর্শন, মনিটরিং টিমেও যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে পারছে না। গতকাল রাজধানীর অধিকাংশ প্রবেশ ও বহির্গমন পথ ছিল যানজটে ঠাসা। সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরার মতো কল্যাণপুর, গাবতলী, আমিনবাজারে ছিল যানজট। অন্যদিকে উত্তরা থেকেই যানজট শুরু হতে থাকে। আর মহাসড়কে তো যানজট আছেই।
রেলপথ : সড়কপথের তুলনায় রেলপথ নিরাপদ তাই যাত্রীর চাপও বেশি। ঘরমুখো মানুষদের নিয়ে ছুটে চলা ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা নেই। খালি নেই ছাদও। কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে যাওয়ার সুযোগ নেই তাই বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে ছাদে, ইঞ্জিনের সংযোগস্থলে চেপে বসছেন যাত্রীরা। এক যাত্রীকে অপর যাত্রী ট্রেনে তুলছেন ঝুঁকি নিয়ে। কাঁধে ব্যাগ, কোলে শিশু নিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা বাড়ি ফেরার। প্রিয়জনের সঙ্গ এবং একটু দম নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না তারা।
ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার আরিফুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, দুয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ ট্রেনই সময়মতো আসা-যাওয়া করেছে।
নৌপথ : বাস, ট্রেনের মতো লঞ্চেও তিল ধারণের জায়গা নেই। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাদেও শত শত যাত্রী। এর ওপর গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। তারপরও মুখে হাসি। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এ পথে কোনো দুর্ভোগই তাদের হাসি কেড়ে নিতে পারেনি। যাত্রী বেশি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চ। সব রুটের লঞ্চেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব ভোগান্তি সঙ্গে নিয়েই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চান ঘরমুখো যাত্রীরা।

অর্ণব ভট্টজাতীয়
ছুটছে মানুষ নাড়ির টানে। গতকাল ছিল ঈদপূর্ব শেষ কর্মদিবস। তাই শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে বেশিরভাগ মানুষই এখন পথে পথে। শহর ছাড়ার আগেই যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। নগরীর প্রায় সব কটি প্রবেশ-বহির্গমন পথে ছিল যানজট। গাড়ি চলছে থেমে থেমে। যে যেভাবে পারছেন চেপে...