86167_sit
ছিটমহল মুক্ত হওয়ার একদিন পরই পাল্টে গেছে সীমান্তের দৃশ্যপট। একদিকে চলছে আনন্দ-উৎসব, অন্যদিকে ভারতে থাকা ছিটের মানুষ আসছে এপারের সদ্য মুক্ত ভূমিতে মেয়ে-জামাইকে দেখার জন্য। আনন্দে কাঁদছে। পচাই গ্রামে গিয়ে গতকাল হাজারো নতুন তথ্য পাওয়া গেলো। ছিটমহল স্বাধীনতার একদিন পরই গতকাল বিয়ের প্রস্তাব আসছে এক মহল থেকে অন্য মহলে। তেমনি এসব মহলে জামাইকে বরণ করে নিতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বাঁশপচাই গ্রামে আয়ের আলী, হারুনার রশিদ, রমজান আলী, মনছুর আলী, আবু বক্কর সিদ্দিককে মিয়া অথবা মাতবর হিসেবে চেনেন। তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সীমান্ত লাগোয়া লালমনিরহাট জেলার কুলাঘাটের বাঁশপচাই গ্রাম। এ গ্রামে বাস করেন ১৫৬ পরিবার। আর মানুষের বাস ৭০৪। বঞ্জনার শিকার এসব মানুষের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষা থেকে ছিলেন বঞ্চিত। ফিরে তাকালে তারা শুধু আফসোস করে বলেন, আমরা মানুষ বলে গণ্য ছিলাম না। ছিলাম মানুষ নামের কি যেন একটা। নেই স্কুল, রাস্তাঘাট। তাদের একমাত্র পেশা ছিল জমি চাষ করে খাওয়া আর ঘুমিয়ে থাকা। সাদা কাগজে দলিল নিয়ে সমস্যা এখনও তাদের আতঙ্কের কারণ। হারুনুর রশিদ আশার কথা হিসেবে বললেন, ভুয়া কাগজ করে আমাদের এখানকার অনেক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। তাদের মধ্যে আছেন ভেতরকুটি বাঁশপচাই গ্রামের রহিমা, এন্না খাতুন, হেলেনা, পারুল , ফাতেমাসহ জনাবিশেক মেয়ে। তাদের বিয়ের প্রায় ৪ বছর হয়েছে। কিন্তু জামাইবাবা শ্বশুরবাড়ি আসতে পারেনি প্রকাশ্যে। ভয় ও সংকোচে জামাই না এলেও এসেছেন চুরি করে গোপনে। কিন্তু স্বাধীনতার একদিন পর সদ্য স্বাধীন লাল সবুজের পতাকা টানানো গ্রামে জামাইরা আসতে শুরু করেছেন।
মুক্তির সেই স্মরণীয় রাতে গ্রামের আকবর আলী, ছাবের উদ্দিন, লাল মিয়া, ময়নুল মিয়া এসেছেন শ্বশুরবাড়িতে। তাদের মধ্যে আকবর আলীর সঙ্গে কথা হয় স্বাধীনতার একদিন পর। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমরা আগে গোপনে আসতাম শ্বশুরবাড়ি। এর চেয়ে দুঃখের আর কি আছে। আর এখন এসেছি প্রকাশ্যে আনন্দ করতে। আগে পরিচয় ছিল আমি বাংলাদেশী আর আমার বউ হেলেনা খাতুন ভারতীয়। ঈদ গেছে কিন্তু ঈদে বউ বাপের বাড়ি এলেও একটা অজানা বাধার কারণে আমি যেতে পারি নি, বলেন একই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক। সে কারণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বাধা ছিল। এখন আর তা হবে না। অন্যদিকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ছেলেরা উপযুক্ত হলেই বিয়ে করতেন বাংলাদেশী ভূখণ্ডে। তাদের মধ্যে আলিমুল, সামাদ মিয়া, রহমান মিয়া বিয়ের ১০ বছর হয়েছে বাংলাদেশী ভূখণ্ডের শ্বশুরবাড়ি যান এবং তারা বউ নিয়ে আসেন পরিচয় গোপন করে। স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশী পরিচয় দিতে জামাই এবং বউরা এখন আর ভয় করে না। তাদের কথা আমরা পরিচয় গোপন করে স্বজন বাড়িয়েছি কিন্তু এখন আর তা হবে না। রমজান আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আর জামাই গোপন নয়, নয় মেয়ের পরিচয় গোপন করা। জিন্নাত আলী নামের তিন মেয়ের পিতা জানালেন ভিন্ন কথা- আমাদের ছেলেমেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসছে বেশ জোরেশোরেই। আমার তিন মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে স্কুলমাস্টার আর গৃহস্থ ঘরে তিন বিত্তবান পরিবার। এখন বাধা নেই। আলোচনা ঠিক হলেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবো। স্বাধীনতার উৎসবকে কেন্দ্র করে ওই রাতে সেখানে সিটের সব বাসিন্দার জন্য খাবরের আয়োজন করা হয়। তাদের মধ্যে জামাই ও মেয়ে আর ছেলের বউদের দাওয়াত দিয়ে আনা হয় বাড়িতে। গতকাল বাড়ির সামনে বাংলাদেশী পতাকা উড়িয়ে চলছে আনন্দ-উৎসব। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর মেয়েজামাই, ছেলের বউকে কাছে পেয়ে পরিবারে চলছে নতুন আয়োজন।

সুরুজ বাঙালীএক্সক্লুসিভ
ছিটমহল মুক্ত হওয়ার একদিন পরই পাল্টে গেছে সীমান্তের দৃশ্যপট। একদিকে চলছে আনন্দ-উৎসব, অন্যদিকে ভারতে থাকা ছিটের মানুষ আসছে এপারের সদ্য মুক্ত ভূমিতে মেয়ে-জামাইকে দেখার জন্য। আনন্দে কাঁদছে। পচাই গ্রামে গিয়ে গতকাল হাজারো নতুন তথ্য পাওয়া গেলো। ছিটমহল স্বাধীনতার একদিন পরই গতকাল বিয়ের প্রস্তাব আসছে এক মহল থেকে অন্য মহলে।...