1441337585
ইট-পাথরের শহরে জায়গার অভাবে ছাদে বাগান দিনের পর দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামে চাইলেই ফুল ও ফলের বাগান করা যায়। সমস্যা হয় না জায়গা-জমির। কিন্তু শহরে বাগান করা সম্ভব কীভাবে? সম্ভব হলেও তা কোন পদ্ধতিতে? এসবের উত্তর মিলবে এ প্রতিবেদনে-

শহরে অবশিষ্ট জায়গা বলতে এক ছাদ ছাড়া আর কি-বা থাকে! কিন্তু ছাদ দিয়ে কী হবে? সেখানে তো আর বাগান করার জন্য মাটি নেই। কিন্তু না, ছাদে কয়েকটি পদ্ধতিতে বাগান করা খুব সহজ। প্রথমত- কাঠ বা লোহার ফ্রেমে এঁটে বেড তৈরি করে। দ্বিতীয়ত- টব, ড্রাম, পট কনটেইনার ব্যবহার করে। তৃতীয়ত- বাঁশ, পিলার বা রড দিয়ে জাংলো বা মাচা বানিয়ে টব ও প্লাষ্টিকের পাত্র ব্যবহার করে।
1441337966_0
প্রথম ক্ষেত্রে পুরো ছাদ বা ছাদের অংশবিশেষ ব্যবহার করা যায়। ছাদের অংশবিশেষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্নিশের পাশে বা আলাদা ফ্রেমবদ্ধ করে সুন্দরভাবে ডিজাইন করে সেটিং করা যায়। এ ক্ষেত্রে জলছাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জলছাদ না থাকলে আলকাতরার প্রলেপ দিয়ে তার ওপর মোটা পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর মাটি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটির পুরুত্ব যত বেশি হবে গাছের বাড়তি ও ফলন তত বেশি হবে। অন্তত দু’ফুট পুরু মাটির স্তর থাকতে হবে। তবে যত বেশি হবে তত ভালো। অতিরিক্ত পানি, সার পাওয়ার সুষ্ঠু পথ রাখতে হবে। মাটির বেলায় অর্ধেক পচা জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। পরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। ফ্রেম তৈরির ক্ষেত্রে কাঠ, লোহা, মোটা রাবার এসব ব্যবহার করা যায়। তবে যা কিছু দিয়ে বা যেভাবেই বেড তৈরি হোক না কেন, ৩-৪ বছর পর তা ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। ছাদে বাগানের জন্য শুরুতে যদি মাটিকে ফরমালডিহাইড দিয়ে (প্রতি লিটিার পানির সঙ্গে ১০০ মিলি ফরমালডিহাইড) শোধন করে নিতে হবে। মাটি শোধনের কৌশল হলো প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি নিয়ে বর্ণিত মাত্রায় ফরমালডিহাইড মিশ্রিত পানি মাটিতে ছিটিয়ে দিয়ে পুরো মাটি মোটা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পরে পলিথিন উঠিয়ে সূর্যের আলোর তাপে খুলে রাখতে হবে পরবর্তী ৩-৪ দিন। এরপরই মাটি ব্যবহারের উপযোগী হবে।
1441337966_1
দ্বিতীয় পদ্ধতির মধ্যে আছে ড্রাম, বালতি, টব, কনটেইনার। এসবের যে কোনো একটি বা দুটি নির্বাচন করার পর পাত্রের তলায় কিছু পরিমাণ খোয়া (ইট-পাথরের কণা) দিতে হবে। ইটের খোয়া পানি নিস্কাশন, অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া এবং পাত্রের ভেতর বাতাস চলাচলের সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক পচা জৈব সারের মিশ্রণ হতে হবে। মনে রাখতে হবে, শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোটখাটো টব বা পাত্র হলেও চলে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র বা ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো। কেননা আমাদের বুঝতে হবে ফল গাছের শেকড় প্রকৃতিগতভাবে বেশ গভীরে যায়। কিন্তু পাত্র ছোট হলে জায়গার অভাবে যথাযথভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। পাত্রে জাত নির্বাচনের পর যৌক্তিকভাবে সাজাতে হবে। যেমন- বড় গাছ পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে না দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর পাশে দিতে হবে। এতে আলো-বাতাস-রোদ ভালোভাবে পাবে। তাছাড়া ছোট-বড় জাতের মিশ্রণ করে সেটিং করলে গাছ বৃদ্ধি ভালো হয়। জরুরি কথা হলো, ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে ফল চাষাবাদে কলমের এবং হাইব্রিড জাতের ব্যবহার বেশি ফলদায়ক।

হীরা পান্নালাইফ স্টাইল
ইট-পাথরের শহরে জায়গার অভাবে ছাদে বাগান দিনের পর দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামে চাইলেই ফুল ও ফলের বাগান করা যায়। সমস্যা হয় না জায়গা-জমির। কিন্তু শহরে বাগান করা সম্ভব কীভাবে? সম্ভব হলেও তা কোন পদ্ধতিতে? এসবের উত্তর মিলবে এ প্রতিবেদনে- শহরে অবশিষ্ট জায়গা বলতে এক ছাদ ছাড়া আর...