5
কুমিল্লা অফিস । আজিম উল্যাহ হানিফ
১৯৫২ সালের ভাষাসংগ্রাম থেকে শুরু করে ৯০ সালে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে অব¯’ানসহ প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামেও প্রেক্ষাপটে অবদান রাখার আরেক সাহসী বীরের নাম মো: ছাদেক হোসেন। যাকে সাদেক হোসেন ভিপি ও সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবে নাঙ্গলকোট-লাকসাম-কুমিল্লার মানুষ চিনে ও জানে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
যাকে লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগ ও তৎকালীন লাকসাম-চৌদ্দগ্রামের ছাত্ররাজনীতির আইকন হিসেবে পরিচিত সাদেক হোসেন। সাদেক হোসেন ভিপি ১৯৩৮ সালের শেষের দিকে কুমিল্লা জেলার বর্তমান নাঙ্গলকোট উপজেলার অশ্বদিয়া গ্রামে মুসলিম সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হাজী আবদুল গণি, মায়ের নাম ফুলমতের নেছা। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝু। লেখাপড়া করেছেন ময়ুরা হাইস্কুলে। ১৯৫৭ সালে ময়ূরা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে সেখান থেকে ১৯৫৯ সালে এইচ এসসি পাশ করেন। ১৯৬০ সালে সেই কলেজে নিবার্চিত হন ছাত্রলীগের ভিপি। ভর্তি হন ডিগ্রিতে। ৬২ তে শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৬ তে ৬ দফা আন্দোলনসহ ছাত্ররাজনীতির কারনে ডিগ্রি পাশের সার্টিফিকেট অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে এসে দু:খপ্রকাশ করেছেন। ১৯৬৮ সালে ৩০ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে ৬ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি। ৪ ছেলে এম এ পাশ, কন্যা ইঞ্জিনিয়ার পাশ করা। বড় ছেলে জাকির হোসেন অধ্যাপনা করেন। মেঝু ছেলে শাহাদাত হোসেন দুলাল ওকালতি করেন কুমিল্লা জর্জকোর্টে। ৩য় সন্তান আনোয়ার হোসেন মানিক ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৪র্থ সন্তান মোশাররফ হোসেন রুবেল বাড়িতে থেকে ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে হোসেন মোহাম্মদ মহসীন অস্ট্রেলিয়া থাকেন। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও বিবাহিত। চেয়ারম্যান ও ভিপি হিসেবে মানুষের পরিচিত মুখ ছাদেক হোসেন জড়িয়ে পড়েন একদম হাইস্কুল জীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে। ভূমিকা রাখেন ১৯৫২ সালে ভাষাসংগ্রামেও। তখন তার সাথে সহযোদ্ধা ছিল আবার কেউ কেউ বড় হিসেবে দিকনিদের্শনা দিতেনও তাদের হয়ে কাজ করতেন সাদেক হোসেন। তাদের মধ্যে আবদুল মালেক মজুমদার, কবি এস এম আবুল বাশার, জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, অধ্যক্ষ আফজল খান এডভোকেট, কাদু চৌধুরী, এডভোকেট মীর হোসেন, জালাল আহমদ, আবদুল আউয়াল, জহিরুল কাইয়ুম বা”চু মিয়া, আলী তাহের মজুমদার, ওমর ফারুক, এডভোকেট আহমেদ আলী,সহ নাম না জানা তৎকালীন লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লাসহ আশেপাশের আরো কিছু ব্যক্তি ছিলেন ভাষার প্রাণপুরুষও সহযোদ্ধা। ৬২, ৬৬, ৬৯ এর আন্দোলনগুলোতে ও ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধের পর তৎকালীন চৌদ্দগ্রাম ও লাকসামে থেকে যাদের অনুপ্রেরণা ও সাহসে কর্মী হয়ে কাজ করেছেন তারা হলেন রুহুল আমীন মোল্লা, আবুল কালাম মজুমদার, মুজিবুল হক মুজিব, আ ক ম বাহার উদ্দিন, প্রফেসর জয়নাল আবেদীন, ভিপি হুমায়ুন কবির, এহছাক কমান্ডার, মোখলেছ চেয়ারম্যান, ভাষাসৈনিক আবদুল জলিল, আবদুস সাত্তারসহ আরো অনেকে। বিভিন্ন কাজে কর্মের মধ্য দিয়ে সু-সর্ম্পক ছিল উপরোক্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও জিয়াউর রহমান, কর্নেল আকবর ও কাজী জাফর আহমদের সাথে। ১৯৭২ সালে ১২ নং বৃহত্তর নাঙ্গলকোট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নিবার্চন করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ১৯৮৮ সালে উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে চেয়ারম্যান পদে দাড়ালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের ঘোরবিরোধীতার কাছে হেরে যান। ওই সময় কাজী জাফর দক্ষিন শাকতলী, নাঙ্গলকোট বাজার, সাঙ্গিশ্বর বা ঢালুয়াসহ মোট ৩টি জায়গায় সাদেক হোসেন ভিপির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। তবে কাজী জাফর আহমদের মনোনীত প্রার্থী মাইন উদ্দিন ভূইয়া ও জিতেনি সেই নিবার্চনে। জিতেছে আলী হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি। সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠা করেছেন পাটোয়ার ছাদেকিয়া বালিকা মাদ্রাসা, হেসাখাল বাজার ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, হেসাখাল বাজার জামে মসজিদ, ভুলুয়াপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামপুর উ”চ বিদ্যালয়, নিজ গ্রাম অশ্বদিয়াতে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা,মসজিদ। জড়িত ছিলেন সাবিত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, নাঙ্গলকোট এ আর মডেল হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে ২০/২২ বছর, নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের পরিচালনা পর্ষদে সদস্য হিসেবে প্রায় ২০/২২ বছর, মৌকারা দারু”ছুন্নাত ওয়ালীয়া কমপ্লেক্সের সম্মাণিত ডাইরেক্টর জেনারেল, মৌকারা দারু”ছুন্নাত কামিল মাদরাসার সহ সভাপতি , নাঙ্গলকোট উপজেলার শিক্ষক কমিটির সদস্য, ১৯৭৮-৭৯ সালে নাঙ্গলকোট থানা ঘোষনা করার মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে প্রথম দাবিদার, অশ্বদিয়া ছাত্রকল্যান পরিষদের উপদেষ্টা, নাঙ্গলকোট রাইটার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজ সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ও ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার। ওমরাহ পালন করেছেন ২০১২ সালে রমযান মাসে। ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে নাঙ্গলকোটে হেলিকপ্টার যোগে এসেছেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি এ আর হাইস্কুল মাঠে সাজানো মঞ্চে উঠলেন। ডায়াসে বসা ৩ জন অতিথি ( জিয়াউর রহমান, কর্ণেল আকবর হোসেন, সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান)’র সাদেক হোসেনের বক্তব্যের পর জিয়াউর রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি বক্তব্যে বলেছেন ‘থানা হয়ে যাবে।’ সাথে সাথে সাদেক চেয়ারম্যান বলেন ‘হয়ে যাবে,এটা কথার কথা। আমাকে ও আমাদের কথা দিতে হবে এটা করবেন।’ তখন হাজার হাজার জনতাসহ মঞ্চের পাশে উপ¯ি’ত ছিলেন মোখলেছ চেয়ারম্যান, এহছাক কমান্ডার, কবি এস এম আবুল বাশারসহ আরো অনেকে। জয়নাল আবেদীন ভূইয়া তখন ঢালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মানুষটি নামাজ,কালাম আর জিকির আযকার সহ সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কাটা”েছন। সু¯’ অনুভব হলে আত্মজীবনী লিখাও শুরু করবেন তিনি।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/04/542.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/04/542-300x300.jpgঅর্ণব ভট্টস্বদেশের খবর
কুমিল্লা অফিস । আজিম উল্যাহ হানিফ ১৯৫২ সালের ভাষাসংগ্রাম থেকে শুরু করে ৯০ সালে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে অব¯’ানসহ প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামেও প্রেক্ষাপটে অবদান রাখার আরেক সাহসী বীরের নাম মো: ছাদেক হোসেন। যাকে সাদেক হোসেন ভিপি ও সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবে নাঙ্গলকোট-লাকসাম-কুমিল্লার মানুষ চিনে ও জানে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। যাকে লাকসাম...