BGB-logo-290x174
সীমান্তে অবৈধ পারাপারকারী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে চৌগাছার আন্দুলিয়া ক্যাম্পের চার বিজিবি সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার চৌগাছার আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা বিজিবি সদস্যদের ধরে নাজেহালও করে। তবে বিজিবি বলছে, ঘটনাটি সাজানো। গ্রামবাসী ও বিজিবির মধ্যে ‘ঝামেলা হওয়ার’ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রামবাসী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে দুই নারী সোমবার দুপুরে আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে তাদের বাবার বাড়িতে আসেন। এদের একজনের বয়স চল্লিশের কোঠায়, আরেকজন প্রায় বৃদ্ধা। দু’জনেরই বিয়ে হয়েছে সীমান্তের ঠিক ওপারে নওদাপাড়ায়।

অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নারীকে ল্যান্সনায়েক আফরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা ধরে পাশের পোস্টে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে গ্রামের কয়েক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। এ খবর পেয়ে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা অভিযুক্ত বিজিবি সদস্যদের স্থানীয় ইউপি মেম্বর নজিবর রহমানের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে বিজিবির চার সদস্যকে নাজেহাল করা হয়।

জানতে চাইলে সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর নজিবর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি চৌগাছা বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে আমি গ্রামে যাই। সেখানে গিয়ে মানুষের মুখে শুনেছি যে, অবৈধ পথে সীমান্ত পারাপারের সময় বিজিবি সদস্যরা আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামের এক নারীকে, যার বয়স ৩৭-৩৮ হবে, ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। ওই নারীর বিয়ে হয়েছে সীমান্তের ওপারে নওদাপাড়া গ্রামে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামে ফিরে আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, তাতে ধর্ষণচেষ্টা নয়, আসলে ওই নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবি সদস্যদের লাঞ্ছিত করে। পরে যশোর থেকে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত চার বিজিবি সদস্যকে উঠিয়ে আনেন।’

ইউপি মেম্বর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজিবর রহমান আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামের কয়েকশ’ লোকের সামনে বিজিবি সিও অভিযুক্ত জওয়ানদের বকাঝকা করেন। এবং ঘটনার জন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে বলেও জনগণের সামনে শাসান। এতে গ্রামবাসী আশ্বস্ত হওয়ায় নতুন করে আর কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে রাতে বলেন, ‘গ্রামবাসীর সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে বলে বিজিবি কর্মকর্তারা ফোনে জানালে আমি উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে পাঠাই। তারা গিয়ে দেখেন, বিজিবি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সমস্যাটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। নতুন করে কোনো অঘটন ঘটার আশঙ্কা নেই দেখে পুলিশ ফিরে আসে।’

জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৬ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘ঘটনা শুনে আমি নিজে আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে গিয়েছিলাম। আমি নিজে ওই নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, ধর্ষণ চেষ্টা নয়, বিজিবি সদস্যরা হাত ধরে টান দিয়েছেন। আমি গ্রামের লোকদের কাছে জানতে চেয়েছি ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী আছেন কি না? কিন্তু তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে আমাকে জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আমি চৌগাছা থানাকে অবহিত করেছি। পোস্টে কর্মরত চার সদস্যকে ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টারে ক্লোজড করেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে।’

কোনো অভিযোগ না থাকলে বিজিবি পোস্টে কর্মরত চার সদস্যকে কেন প্রত্যাহার করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘নিয়ম হলো, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে, সত্য-মিথ্যা যাই হোক তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে না রাখা। সে কারণে ওই চার সদস্যকে হেড কোয়ার্টারে আনা হয়েছে। তাদের স্থলে অন্য চারজনকে পোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

বিজিবি সিও বলেন, ‘যে স্থানে ধর্ষণ চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, সেটি ফাঁকা মাঠ। সেখান থেকে বিজিবি পোস্ট কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে জনবসতির মধ্যে। আশপাশে কোনো ঝোঁপ-জঙ্গলও নেই। পাশেই ক্ষেতে কাজ করছিলেন কৃষকরা। ওই স্থানে ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার কোনো সুযোগ নেই।’

‘আসল ঘটনা হলো, বিজিবির কাজে বাধাদান ও চোরাচালানের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনাটি রটিয়েছে। বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তারা যখন সেখানে গেছেন ওই ব্যক্তি তখন গা-ঢাকা দিয়েছেন। ওই চোরাচালানি বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে জওয়ানদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করে’ যোগ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর।

প্রসঙ্গত, চৌগাছার আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামটি বাংলাদেশ-ভারত সীমানালাগোয়া। ওই গ্রামের অনেক নারী-পুরুষের সঙ্গে ওপারের নওদাপাড়ার মানুষের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে তারা নিয়মিত এপার-ওপার করে।

এলাকাটি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর বিজিবি কোম্পানির অধীন আন্দুলিয়া ক্যাম্পের আওতায়। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে খানিকটা দূরে আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে আন্দুলিয়া ক্যাম্পের একটি একটি পোস্ট রয়েছে। সেখানে চারজন জওয়ান দায়িত্ব পালন করেন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/BGB-logo-290x174.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/BGB-logo-290x174.jpgওয়াজ কুরুনীস্বদেশের খবর
সীমান্তে অবৈধ পারাপারকারী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে চৌগাছার আন্দুলিয়া ক্যাম্পের চার বিজিবি সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার চৌগাছার আশশিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিজিবি সদস্যরা ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা বিজিবি সদস্যদের ধরে নাজেহালও করে। তবে বিজিবি বলছে, ঘটনাটি সাজানো। গ্রামবাসী...