1441053085
সিম পরিবর্তনের কথা বলে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তারা গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক, রবি ও এয়ারটেলকে (সাবেক ওয়ারিদ) এ বাবদ দুই হাজার ৪৯ কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, ভ্যাট ফাঁকি বাবদ গ্রামীণ ফোনের কাছে এক হাজার ২৩ কোটি ২৩ লাখ, বাংলা লিংকের কাছে ৫৩২ কোটি ৪১ লাখ, রবি’র কাছে ৪১৪ কোটি ৫৪ লাখ ও এয়ারটেলের কাছে ৭৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাবে এনবিআর। যথাসময়ে পরিশোধ না করায় সুদসহ এ অর্থের পরিমাণ বর্তমানে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে এনবিআর শুরুতে ভ্যাট ফাঁকির মূল অর্থ আদায়ে উদ্যোগী হয়েছে। অবশ্য এনবিআর এর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ ফোন ও বাংলা লিংক ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে। আর এ জন্য তাদেরকে দাবিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এ বিষয়ে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সরকারি রাজস্বে কোন ধরনের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। শিগগিরই এ অর্থ আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। কারো ক্ষতি করতে চাই না। তবে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ দিতে হবে। তবে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো চাইলে এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি/সালিশি পদ্ধতি) মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারে। ইতিমধ্যে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি এ উপায়ে এটি নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সাধারণত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড হারানো গেলে, ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হলে সংযোগ অপরিবর্তিত রেখে সিম পরিবর্তন করতে পারেন গ্রাহক। এটি সিম রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে পরিচিত। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের আগে পর্যন্ত এ জন্য সরকারকে কোন ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হতো না। কিন্তু নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারকে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানিগুলো সিম রিপ্লেসমেন্টের যে হিসাব দেয় তাতে আপত্তি জানায় এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট)। তারা দাবি করে, নতুন গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করলেও ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে একে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দেখিয়েছে কোম্পানিগুলো।

কিন্তু মোবাইল অপারেটররা এনবিআর-এর এই দাবি অস্বীকার করে। এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চিঠি চালাচালি হয়। পরে এনবিআরের এই দাবির বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। কিন্তু রিটের বিষয়বস্তু ‘অপরিপক্ক’ বিবেচনায় এটি এনবিআরের এলটিইউকে সমাধানের আদেশ দেয় আদালত। এর ভিত্তিতে এলটিইউ-ভ্যাট তখন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এনবিআর, মোবাইল ফোন কোম্পানি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতিনিধিরা ছিলেন ওই কমিটির সদস্য।

সিম রিপ্লেসমেন্ট তদন্ত সংক্রান্ত ওই কমিটি বিটিআরসির কারিগরি সহায়তায় প্রায় পাঁচ হাজার সিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে নতুনভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখে। এর মধ্যে গ্রামীণ ফোনের ১ হাজার ৪০০, রবির ১ হাজার ২০০, এয়ারটেলের ১ হাজার ৯৭ ও বাংলা লিংকের ১ হাজার ২০০টি সিম রয়েছে। কমিটি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রদর্শিত ডাটাগুলো অবিকৃত রয়েছে কি-না, সিম নম্বরের আলোকে ডাটাবেজে (তথ্যভাণ্ডার) প্রদত্ত সিমের মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া, সিম রিপ্লেসমেন্টের আগের ও পরের মালিক অভিন্ন কি-না তা যাচাই করে। যাচাই-বাছাইকালে কোম্পানিগুলোর দেয়া তথ্যের ৯৫ শতাংশেরই মিল পায়নি কমিটি। অর্থাত্ এ পরিমাণ অর্থ ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় কমিটি। যদিও এ দাবির সঙ্গে একমত না হয়ে কমিটিতে থাকা মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রতিনিধিরা ওই প্রতিবেদনে তখন স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গেছে।

এরপর যথাসময়ে রাজস্ব পরিশোধ না করায় সুদসহ এনবিআর কোম্পানিগুলোর কাছে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা পাবে বলে প্রতিবেদন দেয় কমিটি। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোন ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, বাংলা লিংক ৭৬২ কোটি টাকা, রবি ৬৪৭ কোটি টাকা ও এয়ারটেল ৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

কিন্তু কোম্পানিগুলো অর্থ পরিশোধ না করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দেনদরবার শুরু করে। এ ইস্যুটি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যামটব। এরপর গত বছরের শেষ দিকে অর্থমন্ত্রী সুদের অর্থ বাদ দিয়ে মূল টাকা চাওয়া যায় বলে এনবিআরকে পরামর্শ দেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এনবিআরকে তিনি বলেন, যেহেতু যথাসময়ে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছে এ অর্থ এনবিআর দাবি করতে পারেনি, সে জন্য সুদের অর্থ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ চাওয়া যেতে পারে। এরপর নানা পর্যালোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এনবিআর ফাঁকি দেয়া মূল অর্থের জন্য চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করে।

এনবিআর সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, বিদ্যমান ভ্যাট আইনের ৫৫(৩) ধারা অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোন অপারেটকে অর্থ পরিশোধের তাগাদা দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ জন্য তাদেরকে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করা হলে ৪৩ ধারা অনুযায়ী দুটি নোটিশ দেয়া হবে। এরপর ৫৬ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাবও জব্দ হতে পারে।

হাসন রাজাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
সিম পরিবর্তনের কথা বলে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তারা গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক, রবি ও এয়ারটেলকে (সাবেক ওয়ারিদ) এ বাবদ দুই হাজার ৪৯ কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র...