বিশেষ প্রতিবেদক ।
এসএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছিল। এ কারণে সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
এরই মধ্যে এইচএসসির চার বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের পাশাপাশি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ চারটি। এর মধ্যে রয়েছে—একাধিক সেট থেকে ২৫ মিনিট আগে মূল প্রশ্ন নির্ধারণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রখর নজরদারি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা ও অ্যাকশন এবং প্রশ্নের নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এবার প্রশ্ন ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষভাবে তত্পর রয়েছে র‍্যাব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সোমবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হওয়ার এই চার কারণ জানালেন। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব এর সবই করা হয়েছে। যে যা সাজেশন দিয়েছে

সেগুলোও পালনের চেষ্টা করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছি। আর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করায় প্রশ্ন ফাঁসের আর কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া প্রশ্নের প্যাকেটেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডাবল প্যাকেটে সিকিউরিটি কোড বসানো হয়েছে। কেউ যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রশ্নের প্যাকেট খোলে তাহলে সে ধরা পড়ে যাবে।’

ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাই সেভাবে আমাদের সহায়তা করেছে। কেউ যদি আগাম প্রশ্নের প্রলোভনও দেখায়, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করছে। এসএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ নিয়ে অভিযোগ ছিল। এই এমসিকিউ ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বরের। সেটাও কিন্তু সব বিষয়ে নয় বা শত ভাগ মেলেওনি। আসলে তখন নেতিবাচক যা যা গুজব রয়েছে, সবই রটানো হয়েছিল।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, এইচএসসি পরীক্ষায় এবার সিকিউরিটি কোডের মাধ্যমে ডাবল প্যাকেটে কেন্দ্রে পাঠানো হয় প্রশ্নের একাধিক সেট। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হয়। এরপর তা কেন্দ্রে কেন্দ্রে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে সিটে বসতে হয়। অর্থাত্ প্রশ্নের সেট নির্ধারণ হওয়ার আগেই পরীক্ষার্থীরা সিটে বসে যাচ্ছে।

এ ছাড়া এত দিন অভিযোগ ছিল, কিছু কোচিং সেন্টার থেকে প্রশ্ন ফাঁসের। এবার পরীক্ষা শুরুর চার দিন আগে থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শুধু কেন্দ্র সচিবের জন্য একটি সাধারণ ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য কারো প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় এসব নিয়ম থাকলেও সঠিকভাবে তা প্রতিপালন করা হয়নি। এবার শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সব বিধান প্রতিপালনে বাধ্য করা হয়েছে।

এবার এইচএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ছয় কেন্দ্র প্রশ্ন পরিবহনে কালো গ্লাসের গাড়ি ও ক্যামেরাযুক্ত ফোন ব্যবহার করায় তাদের শোকজ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এর পর এ ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি।

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপক অভিযোগ উঠলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের তেমন তত্পরতা লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সব পক্ষ তত্পর রয়েছে। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন নেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে। আগে একই নিয়ম থাকলেও তা প্রতিপালন করা হয়নি। কোচিং সেন্টারগুলোকেও কঠোর নজরদারিতে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের দিন থেকে তত্পর রয়েছে র‍্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশের একাধিক সংস্থা। পরীক্ষা শুরু হয় ২ এপ্রিল। এর আগেই গত ৩১ মার্চ প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচজন, ৬ এপ্রিল বরিশালে ভুয়া প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগে এক যুবক এবং রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ভাইবার ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে সহায়তা করছে বিটিআরসি। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং নজরদারিতে রাখতে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই নম্বরে যদি একাধিকবার একই পরিমাণ টাকা প্রেরণ করা হয় তাহলে ওই মোবাইল নম্বরের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ যদি প্রশ্ন ফাঁসের অগ্রিম ঘোষণা দেয়, তবে পুলিশের কন্ট্রোল নম্বর ৯৯৯-তে কল করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। আট হাজার ৯৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/04/76.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/04/76-300x300.jpgজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনএক্সক্লুসিভ
বিশেষ প্রতিবেদক । এসএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছিল। এ কারণে সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। এরই মধ্যে এইচএসসির চার বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের পাশাপাশি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন...