1440445742
চট্টগ্রামে মাঝিরঘাটের ১৭টি বাণিজ্যিক ঘাটে আমদানি করা প্রায় ৪০ শতাংশ পণ্য খালাস হয়ে থাকে। কিন্তু পলি জমে ঘাট এলাকায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পণ্যবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। পণ্য ওঠা-নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে নদী ভরাট করে ঘাটের সিঁড়িগুলো দীর্ঘ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একই জায়গায় ঘাটগুলোর ঘনত্ব বৃদ্ধি, অসংখ্য জাহাজ পণ্য নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান ও কর্ণফুলী নদীর উপর সেতু নির্মাণের কারণে পানির সে াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পলি জমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ড্রেজিং করা না হলে বাণিজ্যিক ঘাটগুলোতে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে নাব্যতা সংকটে ৫/৬টি ঘাটে পণ্য খালাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাশে সদরঘাট থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি পণ্য ওঠা-নামার জন্য বর্তমানে ১৭টি বাণিজ্যিক ঘাট রয়েছে। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ টন আমদানি করা পণ্য খালাস হয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং না হওয়ায় ঘাটগুলোতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে। গত ১৫ থেকে ২০ বছর পলি জমার ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘাটগুলো কয়েক বছরের জন্য বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে থাকে। ঘাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইজারাদাররা মেরামতের কোন উদ্যোগ নেন না। ঘাটের বিভিন্নস্থানে ভেঙে গেছে। এতে পণ্য খালাসে শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রতিটি ঘাটে জোয়ার ও ভাটায় পণ্য খালাসের জন্য দু’টি সিঁড়ি রয়েছে। দেখা গেছে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঘাটের সিঁড়িগুলো ক্রমশঃ দীর্ঘ হচ্ছে। সিঁড়ির অবস্থান শক্ত করার জন্য নীচের অংশে মাটি ও পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এতে ঘাটের মালিকদের জায়গার বাইরে গিয়ে নদী ভরাট করে ঘাট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একসময় পণ্য ওঠা-নামার জন্য মাঝিরঘাট এলাকায় ৭/৮টি ঘাট ছিল। বর্তমানে ১৭টি ঘাটে উন্নীত হয়েছে। এতে করে ঘাটগুলোর ঘনত্ব বেড়ে গেছে পলি জমার এটাও কারণ।

এসব বাণিজ্যিক ঘাটে বহির্নোঙর থেকে লাইটারেজ জাহাজে করে আনা পণ্যগুলো খালাস করা হয়ে থাকে। একটি লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে দু’দিন সময় প্রয়োজন হয়। দেখা যায়, একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় প্রতিঘাটে আরো ৭/৮টি জাহাজ পণ্য নিয়ে নোঙর করে থাকে। ফলে অসংখ্য জাহাজ একসাথে দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের কারণে পানির স্রোতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে করে পলি জমে যাবার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, নাব্যতা হ্রাসে অনেক সময় পণ্যবাহী জাহাজ কাত হয়ে পড়ছে। নীচে ছিদ্র হয়ে ভেতরে পানি ঢুকে যাচ্ছে। অনেক ঘাটে ভাটার সময় পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। ঘাটগুলোতে আমদানি করা পণ্য ছাড়াও তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদীতে আশির দশকে সেতু নির্মাণের পর থেকে মাঝিরঘাট এলাকায় বাণিজ্যিক ঘাটগুলো পলি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। নদীতে পানির সে াত কমে গেছে। আবার এসব জাহাজের ছোটখাট মেরামত কাজগুলো ঘাটের আশেপাশে জাহাজ নোঙর করে করা হচ্ছে। এতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অথচ জাহাজ মেরামতের জন্য একাধিক ডক রয়েছে।

লাইটারেজ শ্রমিকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জাহাজগুলোর ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টন পর্যন্ত রয়েছে। নাব্যতা কমে যাওয়ায় ঘাটে দেড় হাজার টনের বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজের পণ্য খালাসে সমস্যা হচ্ছে। আসাম বেঙ্গল ও জুট র্যালি ঘাটের ইজারাদার মোহাম্মদ রতন সিকদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পলি জমায় জাহাজ ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এক থেকে দেড় হাজার টনের বেশি পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে সমস্যা হচ্ছে।’ ঘাট ইজারাদার আবদুল মালেক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমার দু’টি ঘাট রয়েছে। দুই ঘাটই পলি জমে যাওয়ায় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়া না হলে পণ্য ওঠা-নামা হুমকির মুখে পড়বে।’

লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমদানি করা পণ্যের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বহির্নোঙরে খালাস হয়ে লাইটারেজ জাহাজে করে দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে বেশি পণ্য চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকায় অবস্থিত ঘাটগুলোতে খালাস হয়ে থাকে। ঘাটে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেকেই ঘাটে জাহাজ রেখে মেরামত কাজ করা হচ্ছে। আমদানিকৃত পণ্য ও জ্বালানি তেল একসাথে খালাস করা হচ্ছে। এতে কর্ণফুলী নদীতে তেল পড়ে দূষিত হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সদরঘাট ও মাঝিরঘাট এলাকার কিছু স্থাপনা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে। যার কারণে ড্রেজিং প্রক্রিয়া নিয়ে আপাততঃ উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না। ড্রেজিং প্রক্রিয়ার বাধা নিরসন বন্দর কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।’

অর্ণব ভট্টপ্রথম পাতা
চট্টগ্রামে মাঝিরঘাটের ১৭টি বাণিজ্যিক ঘাটে আমদানি করা প্রায় ৪০ শতাংশ পণ্য খালাস হয়ে থাকে। কিন্তু পলি জমে ঘাট এলাকায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পণ্যবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। পণ্য ওঠা-নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে নদী ভরাট করে ঘাটের সিঁড়িগুলো দীর্ঘ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা...