84861_thumb_s2
আফতাব আহমেদকে কেউ কি ভুলে গেছেন? অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই নামটি খুব সহজেই ভোলার নয়। আর চট্টগ্রামের ক্রিকেট প্রেমীদেরতো ভোলার প্রশ্নই আসে না। চাটগাঁর সন্তানদের মধ্যে তামিম ইকবাল ছাড়া সবচেয়ে বেশি আলোচিত ক্রিকেটার তিনি। যার প্রতিভার ঝলক ছিল ওয়ানডে, টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে। যদিও ধারাবাহিকভাবে ভাল কাটেনি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ২০০৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ১৬ টেস্ট, ৮৫ ওয়ানডে আর ১১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে। মাত্র ৬ বছরে আন্তুর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ! গতবছর পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সেই সঙ্গে গেল বছরই ঘোষণা দিয়েছেন তাও ছাড়ার। তাহলে কি করেন আফতাব? কিভাবে সময় কাটে তার ক্রিকেট ছাড়া! না ক্রিকেট এখনও ছাড়েননি তিনি। বরং খুলেছেন ক্রিকেট কারখানা, মানে ক্রিকেট একাডেমি। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ক্রিকেট প্রতিভা। তাই তার কারখানাতে তিনি এখন থেকেই তৈরি করবেন ক্রিকেটার। যেন আবারও চট্টগ্রামের ক্রিকেটে ফিরে আসে আফতাব, নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবালের মতো তারকারা। আফতাবের ক্রিকেট একাডেমি ও লক্ষ্যের কথা তুলে ধরছেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কম।
প্রশ্ন: একাডেমি করার চিন্তাটা কখন থেকে?
আফতাব আহমেদ: অনেক আগে থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল একটি একাডেমি করার। অবসরের পর তা বাস্তবায়ন করেছি। এখনও পুরোপুরি ভাবে হয়েছে তা নয়। নাসিরাবাদে একটা মাঠ তৈরি করছি। সেখানে সিমেন্টের পিচ তৈরি করা শেষ। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুশীলন হচ্ছে নিয়মিতই। প্রিমিয়ার লীগ খেলেই মাঠের ক্রিকেট খেলা শেষ করেছি। তার আগেই আমার পরিকল্পনাটার কথা সবাইকে জানিয়েছিলাম। এখন তা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।
প্রশ্ন: একাডেমি ও নিজের কোচিং নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
আফতাব আহমেদ: একাডেমি অনেক বড় করার ইচ্ছে আছে। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে চারটি উইকেট আছে। আর একটা সেন্ট্রাল উইকেট আছে। শ’খানেকের মতো ছাত্র পেয়েছি। তাদের নিয়ে কাজ করছি। যদি সুযোগ হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ বা বড় কোন দলকে কোচিং করাতে চাই।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম থেকে অনেক বছর ধরে নতুন ক্রিকেটার আসছে না কেন?
আফতাব আহমেদ: আমার কোচিংয়ে আসার পিছনে এটাও একটা বড় কারণ। চট্টগ্রামের কোন ক্রিকেটার এখন পাইপলাইনে নেই। সামনেও আসবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। আগে দুই-তিনজন যেমন পাইপলাইনে ছিল, এখন একটিও নেই। আগে যেটা হয়েছে- আমি না হলে নাফিস, নাফিস না হলে নাজিম। এরপর আসলো তামিম। ও এখনও খেলে যাচ্ছে। এরপর তো চট্টগ্রামের কোন ক্রিকেটার আর জাতীয় দলে নেই। কেন থাকবে না? সেই টার্গেটেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি। জাতীয় দল, ‘এ’ দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোতে চট্টগ্রামকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন ক্রিকেটার তৈরি করার প্রথম চ্যালেঞ্জ আমার।
প্রশ্ন: হঠাৎ চট্টগ্রাম থেকে ক্রিকেটারদের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ কি বলে মনে করেন?
আফতাব আহমেদ: মূল সমস্যা হচ্ছে মাঠ নেই। আবার মাঠ থাকলে অনুশীলনের সুযোগ নেই। অনুশীলন হলে ভাল মানের কোচ নেই। পুরোটাই একটা চক্রে ঘুরছে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব আমি বলবো। আকরাম ভাই ও নান্নু ভাইরা এখনও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমি চাইলে ক্রিকেটের সঙ্গ ছেড়ে দিতে পারতাম। কিনু্ত এখনও সেই ভালোবাসা আছে বলে ছাড়তে পারিনি। এখন এই কোচিংয়ের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করছি। কেউ বলতে পারবে না যে এই কোচিংয়ে আমি একদিনের জন্য আসিনি। কোন ফাঁকি কিংবা কোন আলসেমি করছি না। কারণ আমি থাকলেই ওরা ক্রিকেটের মর্মটা ভাল মতো বুঝতে পারবে। যদি আমিও ফাঁকি দেই, তাহলে ওরাও সেটা করার চেষ্টা করবে।
প্রশ্ন: খেলোয়াড়ি জীবনে আলসে ছিলেন বললেন, এখনও কি তাই?
আফতাব আহমেদ: সত্যি বলতে আজকে থেকে দশ বছর আগে সেভাবে ম্যাচিউর (পরিপক্ব) ছিলাম না। তখন যেটা চলতো ছিল সেটা নিয়েই ছিলাম। ভবিষ্যতের কোন কিছুই তখন মাথাই রাখিনি। গায়ে না লাগানোর অনেক ব্যাপার ছিল। এখন বয়স হয়েছে। ম্যাচিউর হয়েছি। এখন একাডেমি চালাচ্ছি। প্রায় একশ ছেলের দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। ক্রিকেটীয় জীবনে যেটা আমি করেছি সেটা ছিল শুধু আমার দায়িত্ব। এখন সে রকম কোন সুযোগ নেই। আমি এখানে বিন্দুমাত্র গাফিলতি করলে সব গিয়ে পড়বে এই ছেলেদের ওপর। এজন্য কোচিং জীবনে ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
প্রশ্ন: এই মুহূর্তে জীবনকে কিভাবে দেখছেন?
আফতাব আহমেদ: আমি আমার জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেলেছি। জাতীয় দলে খেলার আগে আমি একভাবে আমার জীবন পার করেছি। তখন মুদ্রার এপিঠ ছিলাম। যখন ক্রিকেট খেলেছি, তখন আয়-উপার্জন করে গাড়ি-বাড়ি করি। এখন খেলা ছাড়ার পর আমার একটা জীবন। এখন কোচিং, ইসলামিক জীবন-যাপন করছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আমার তিনটা জীবনই ভাল মতো উপভোগ করেছি। এখনও আমি ক্রিকেট নিয়ে আছি। আগে ছিলাম ক্রিকেটার। এখন কোচ। ‘আফতাব আহমেদ ক্রিকেট কোচিং’ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করি। এখন সেটা নিয়ে কাটছে আমার দিন।
প্রশ্ন: আপনাকে নিয়ে কি বিসিবির কোন অবহেলা ছিল?
আফতাব আহমেদ: পাঁচ বছর পর এগুলো নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। আমার গাফিলতি ছিল। বিসিবিরও ছিল! সেগুলো অতীত। এখন নতুন করে তো সব শুরু করেছি। অনেক ক্রিকেটারকে এখন দেখছি ওদেরকে বাদ দেয়ার পরও ডাকা হয়। ওদেরকে যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হচ্ছে। অনেকেই সুযোগ পাচ্ছে আবার। নাসিরের পারফরম্যান্স ভাল ছিল না একটা সময়। কিনু্ত একমাত্র সুযোগ দেয়ার কারণেই ও কিন্তু এখন আবার স্বরূপে। ওই রকম সুযোগ আমরা পাইনি। ওই সময় যদি বিসিবি একটু পরিচর্যা করতো, তাহলে হয়তো আজ জাতীয় দলে আবার খেলতেও পারতাম!

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

তুনতুন হাসানখেলাধুলা
আফতাব আহমেদকে কেউ কি ভুলে গেছেন? অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই নামটি খুব সহজেই ভোলার নয়। আর চট্টগ্রামের ক্রিকেট প্রেমীদেরতো ভোলার প্রশ্নই আসে না। চাটগাঁর সন্তানদের মধ্যে তামিম ইকবাল ছাড়া সবচেয়ে বেশি আলোচিত ক্রিকেটার তিনি। যার প্রতিভার ঝলক ছিল ওয়ানডে, টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে। যদিও ধারাবাহিকভাবে ভাল কাটেনি তার ক্রিকেট...