93167_f6
চৌদ্দ বছর বয়সী আহমেদ মোহাম্মদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্র। শুধুই যুক্তরাষ্ট্র নয়, এখন পুরো বিশ্ববাসীর মুখে তার নাম। সবাই তার প্রশংসা করছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে মার্ক জাকারবার্গ পর্যন্ত তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাকে নিয়ে টুইটারে যেন ঝড় উঠেছে। বিজ্ঞানী মহল, সাধারণ মানুষ সবাই তার প্রশংসা করছে। এর কারণ, এ ঘটনার আগে সে বাসায় নিজ হাতে তৈরি করেছিল একটি ঘড়ি। সেই ঘড়ি স্কুলে নিয়ে নিজ স্কুল টেক্সাসের আরভিংয়ে অবস্থিত ম্যাক আর্থার হাই স্কুলে গিয়েছিল। শিক্ষকদের দেখিয়ে আনন্দ পাওয়ার খায়েশ ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনায় তার হাতে উঠেছে হ্যান্ডকাফ। শিক্ষকরা ওই ঘড়িকে বোমা অথবা ভুয়া বোমা মনে করে পুলিশে খবর দেন। এখানেই শেষ নয়। এরই মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তিন দিনের জন্য স্কুল থেকে বহিষ্কার করে। পুলিশ এসে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায় কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে। তার আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন ভিত্তি না পেয়ে ছেড়ে দেয় তাকে। এতে চারদিকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে থাকেন তার নাম ও ধর্মের কারণে কি তাকে এই গ্লানি সইতে হলো? প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ‘কুল ক্লোক, আহমেদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার উদ্দেশে ওবামা বলেছেন- তুমি কি তোমার ঘড়ি নিয়ে হোয়াইট হাউসে আসতে চাও? তোমার মতো অন্য শিশুরাও বিজ্ঞানকে ভালবেসে এগিয়ে আসুক- সেজন্য আমাদের উচিত উৎসাহিত করা। এটাই আমেরিকাকে মহত্ত্ব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের স্টাফরা ওবামার পক্ষ নিয়ে তাকে আগামী ১৯শে অক্টোবর ‘অ্যাস্ট্রনমি নাইট’ বা জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক রাতের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, জ্যোতির্বিদ, শিক্ষক ও বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থী। এখানেই শেষ হয়ে যায় নি। আহমেদ মোহামেদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দ্য ইন্টারনেট-এর ক্রিস হ্যাডফিল্ড। তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের সাবেক কমান্ডার। আহমেদ মোহামেদকে তিনি তার সায়েন্স শো ‘জেনারেটর’-এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ‘ফোর সিজনস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করেছে- যদি সে ওই শোতে যোগ দেয় তাহলে বিনামূল্যে তাকে একটি রুম দেয়া হবে। ওদিকে টুইটারে আহমেদকে নিয়ে ইজি গ্যালভেজ নাসার লোগোতে নতুন করে একটি লোগো বানিয়েছে। তিনি নাসার লোগোতে নাসা লেখাটি মুছে দিয়ে সেখানে বসিয়ে দিয়েছেন ‘আহমেদ’ শব্দ। আহমেদ মোহামেদের নাম যেমন ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে, তেমনি তার খ্যাতিও। এ খ্যাতিকে কদর করতে কার্পণ্য করেন নি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনি তাকে ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জাকারবার্গ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন- আপনারা টেক্সাসের ১৪ বছর বয়সী বালক আহমেদের কাহিনী সম্ভবত জানেন। সে একটি ঘড়ি তৈরি করেছিল। সেই ঘড়ি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যে কোন দক্ষতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে কিছু তৈরি করাকে প্রশংসা করা উচিত, গ্রেপ্তার করা নয়। আহমেদের মতো মানুষদের কাছেই আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আহমেদ যদি তুমি কখনও চাও ফেসবুক অফিসে আসতে পারো। তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করাকে আমি ভীষণ পছন্দ করি। নতুন নতুন জিনিস বানিয়ে যাও। ওদিকে নাসা থেকেও ডাক পেয়েছে আহমেদ। নাসা বিজ্ঞানীরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নাসার টুইটার একাউন্টে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। নাসা সদর দপ্তরও তাকে টুইটারে নাম উল্লেখ করেছে। কিন্তু নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির সুনির্দিষ্ট কিছু বিজ্ঞানী তাকে সেখানে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে গুগল সায়েন্স ফেয়ারে। এই ফেয়ার বা মেলা তরুণ উদ্ভাবকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। সিলিকন ভ্যালিতে ১৭০ কোটি ডলারের অনলাইন কোম্পানির সদর দপ্তরে সফর করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এর প্রধান নির্বাহী। আহমেদের সৎসাহসের প্রশংসা করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। তিনি এক টুইটে লিখেছেন- আন্দাজ ও ভীতি আমাদেরকে নিরাপদ করতে পারে না। এমন বিষয় আমাদেরকে পশ্চাতে নিয়ে যায়। আহমেদ তুমি কৌতূহলী হও এবং নতুন নতুন জিনিস বানাও। ওদিকে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে সে তার বাড়ির প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে সমবেত সাংবাদিকদের উদ্দেশে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ে। পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের পিৎজা ও ঠাণ্ডা পানীয় দিয়ে আপ্যায়িত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার আগে সে সবাইকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেয়। এরপর ওই স্কুল ছাড়ার কথা জানায়। বলে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণ সে রক্ষা করবে। তাকে প্রেসিডেন্ট ওবামা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি, ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের সমর্থন ও তার প্রতি তাদের মনোযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন। আহমেদ জবাবে বলেছে- বাস্তবেই আমি বিস্ময় বোধ করছি। সে বলেছে, আমি চাই না তারা শুধু আমাকে সহায়তা করুন। আমি চাই সারা বিশ্বে আমার মতো সমস্যায় যেসব শিশু আছে তারা তাদের প্রত্যেককে সাহায্য করুন। ওদিকে তার পিতা মোহামেদ আল হাসান (৫৪) বিস্ময়ে, আবেগে, কৃতজ্ঞতায় অভিভূত। তিনি বলেন, এখন যে বাড়িতে আছেন এখানেই ৩০ বছরের বেশি সময় তাদের বাস। তার এই ছেলেই তার গাড়ির সমস্যা, ফোনের সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা, কম্পিউটারের সমস্যার সমাধান করেছে। ছেলে আহমেদকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, এটা তো আমেরিকার বৈশিষ্ট্য নয়। এ আচরণ আমাদের নয়। আরভিং পুলিশ প্রধান ল্যারি বয়েড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওই টিনেজকে তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা তাদের দায়িত্ব ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না।

হীরা পান্নাএক্সক্লুসিভ
চৌদ্দ বছর বয়সী আহমেদ মোহাম্মদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্র। শুধুই যুক্তরাষ্ট্র নয়, এখন পুরো বিশ্ববাসীর মুখে তার নাম। সবাই তার প্রশংসা করছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে মার্ক জাকারবার্গ পর্যন্ত তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাকে নিয়ে টুইটারে যেন ঝড় উঠেছে। বিজ্ঞানী মহল, সাধারণ মানুষ সবাই তার প্রশংসা করছে। এর কারণ, এ ঘটনার...