1443938515
মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলা তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত কিছু ইমেইল থেকে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মো. ইউনুস ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকারের অসন্তোষের মুখে পড়েন। সে সময় তার বিরুদ্ধে সেবার অর্থ লাভজনক বাণিজ্যে বিনিয়োগের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে হিলারি বাংলাদেশে এসে আগে ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শেষ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনুসের ব্যাংক দরিদ্র মানুষের মাঝে ক্ষুদ্রঋণের প্রচলন করে। বিশেষ করে মেয়েদের মাঝে এ ঋণ কার্যক্রম চালু হয়। যা তাদের ছোট আকারের ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয়, যার মাধ্যমে পরিবারটি দারিদ্রতা কাটিয়ে স্বচ্ছল হয়ে উঠতে পারে। ইউনুসের ক্ষুদ্রঋণের এই মডেলটি সারাবিশ্বে জনপ্রিয় হয়। যদিও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে সফলতার অসামঞ্জস্য রয়েছে তবু অর্থনৈতিক উন্নয়ন লালন-পালনের একটি অভিনব উপায় হিসেবে এটি বিশ্বে পরিচিত হয়।

অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মতে গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাপার ছিল। এ প্রসঙ্গে ২০১৪ সালে একটি বৈদেশিক জার্নালে এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ইউনুসকে নোবেল পুরস্কার পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। হাসিনা বিশ্বাস করেন যে, ইউনুস নয় বরং তিনি নোবেল পাওয়ার সঠিক ব্যক্তি। কারণ, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের আদিবাসী দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে অবদান রেখেছেন তিনি। কিন্তু ইউনুস নোবেল কমিটিতে হস্তক্ষেপ করেছেন তার শক্তিশালী আমেরিকান বন্ধু বিল ক্লিনটনকে ব্যাবহার করে।

1443938515_0
আরেকটি প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইউনুসের প্রতি হাসিনার আক্রমণাত্মক আচরনের কারণ ছিল, ইউনুসের রাজনৈতিক অফিস ও কার্যক্রম পরিচালনা। যা হাসিনার বিরুদ্ধে যাচ্ছিল। এক ডেনিশ চলচ্চিত্র নির্মাতার গ্রামীণ ব্যাংককে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে নিয়ে আসেন ২০১২ সালে। তিনি দেখান, ক্ষুদ্রঋণের তহবিলের নামে নেয়া ১০ কোটি ডলার ইউনুস গ্রামীণ কল্যানে বিনিয়োগ করেছেন।

আরও কিছু প্রতিবেদন তুলে ধরে যে, ইউনুস এই টাকা দিয়ে অসংখ্য ছোট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন কর ফাঁকি দেয়ার জন্য। নতুন ই-মেইলে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি তদন্তের সময় হিলারি ক্লিনটন এবং মিলানে ভার্ভার (বিশ্ব নারী বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ) সরাসরি গ্রামীন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
বেশ কিছু ই-মেইল থেকে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে যে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সিটিজেন্স ইউনাইটেডের প্রেসিডেন্ট ডেভিড বোসি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাতে যুক্ত হওয়ার জন্য হিলারি ক্লিন্টনের সিদ্ধান্তটি ছিল অনৈতিক। তার মতে, দিনের শেষ হিলারি একটি অফিসিয়াল ভ্রমণে অন্য একটি দেশে যাচ্ছেন ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একটি ডোনারের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত বন্ধ করার জন্য সে দেশের সরকারকে চাপ দিতে।

বিষয়টির বিস্তারিত অস্পষ্ট। এবং হিলারি একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা ইউনুস বিপদে পড়ামাত্র তার সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। তদন্তে বলা হয়েছে যে. গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণের তহবিল যাচ্ছেতাই ব্যাবহারের মাধ্যমে নিজেদের নীতিমালা ভঙ্গ করেছে। এবং ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকে তার পদ জবরদখলে রেখে বাংলাদেশের অবসর আইন ভঙ্গ করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ড বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিল এছাড়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা ইউনুসের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দা্বি করেছিল।

ড. ইউনুসের দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ রিসার্চ ও গ্রামীণ আমেরিকা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের দানের রেকর্ড অনুযায়ী অনেক অর্থ প্রদান করেছে এই দুই প্রতিষ্ঠান। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ২০১৩ সালে বিল ক্লিনটন ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাইতিতে ক্লিনটন ফাউন্ডেশন ও ড. ইউনুসের দাতব্য সংস্থা সামাজিক দায়বদ্ধ বনায়ন করবে। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের আয়োজিত বিভিন্ন উদ্যোগ ও বাৎসরিক সম্মেলেনে যোগ দিয়েছেন এবং বক্তব্য রেখেছেন।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রকাশ্যে উনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ দেখতে চাই না যেটা গরীব নারীদের মালিকানায় চলা এই প্রতিষ্ঠানের কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তার ফাঁস হওয়া ইমেইলেও দেখা গিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে তিনি ড. ইউনুসের পরিস্থিতির উপর গভীর ভাবে মনোযোগ রাখছিলেন। ২০১১ সালে গ্রামীণ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ভার্ভারকে একটি ইমেইল পাঠায় যার শিরোনাম ছিল, গ্রামীণের সর্বশেষ অবস্থা। পুরো ইমেইলটি এখন গোপনীয় শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে।
ভার্ভার এই ইমেইলিটি হিলারি ক্লিনটনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল ইউনুস ওয়াশিংটনে আসবেন এবং ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন যেখানে ভার্ভার ও হিলারি ক্লিনটন নিজেও থাকবেন। তবে সেই সময়ে ড. ইউনুসকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভার্ভারকে ফরোয়ার্ড করা ২০১০ সালের একটি ইমেইলে দেখা যায় একটি সংবাদ প্রতিবেদন যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রয়েছে। সেই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ড.ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকে আসা বিদেশি সাহায্য অন্য কোম্পানিগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভার্ভার এই মেইলটি হিলারি ক্লিনটনকে ফরোয়ার্ড করে মেইলে বলেন, যখন আমরা ভাবছিলাম সব ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে তখনই এটা হল। হিলারি এই মেইলের জবাবে বলেছিলেন, এটা ভালোভাবে দেখ। আসলে কি হচ্ছে সেটা আমি জানতে চায়। ২০১১ সালে রকফেলার ফাউন্ডেশনের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে ড. ইউনুস ক্লিনটনের আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি অনুষ্ঠানে ছিলেন ড. ইউনুস। সেই বিষয়ে একটি ইমেইলে বলেন, আমি রকফেলার ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে ছিলাম যেখানে বিল ক্লিনটনকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। ক্লিনটন দারুণ অনুপ্রেরণাময় ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণন বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বিস্তারিত বর্ণণা করেন এবং সেই আরাকানসাসে থাকার সময় থেকে ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে তার প্রতিজ্ঞার কথা বলেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ, ড. ইউনুসের পদত্যাগপত্র গণমাধ্যমে যাওয়া কিছুক্ষণের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনেকের কাছে পাঠান। ইউনুসের পদত্যাগ বিষয়ে ভার্ভার ইমেইলে কি বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটা গোপনীয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হিলারি বলেছিলেন, অবশ্যই দুঃখজনক। ওয়াশিংটন এক্সামিনার

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1443938515.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1443938515-300x300.jpgতাহসিনা সুলতানাএক্সক্লুসিভ
মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলা তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত কিছু ইমেইল থেকে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মো. ইউনুস ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকারের অসন্তোষের মুখে পড়েন। সে সময় তার বিরুদ্ধে সেবার...