90256_71
শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পোশাকসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, এতে করে শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্য মূল্যও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় পিছেয়ে পড়বে এ শিল্প। গত সপ্তাহে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে এমন ঘোষণায় তৈরী পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করেনি সরকার। বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ গত দিনগুলোতে ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে। এতে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বো। রপ্তানির বড় খাত পোশাক শিল্পেরও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমবে। তিনি বলেন, অনেক সময়ই আমাদের বিকল্প জ্বালানিতে জেনারেটর চালাতে হয়। কিন্তু সরকার তেলের দাম কমাচ্ছে না। অপরদিকে, বাড়ালো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। তিনি বলেন, আমরা গণশুনানিতে বলেছিলাম, ‘দাম বাড়ালে তা যেন সহনীয় মাত্রায় বাড়ানো হয়। কিন্তু আমাদের মূল্যায়ন বা দাবি বিবেচনা করা হয়নি। এটা দুঃখজনক। তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমি মনে করি বর্তমান অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজার প্রেক্ষাপটে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়। বিজিএমইএ’র সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমাদের কাছে দাম বড় বিষয় হতো না। যদি কোয়ালিটি গ্যাস-বিদ্যুৎ পেতাম। যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা পূর্ণ প্রেসারে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুতে লোডশেডিং বাড়ছে। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামীন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সারাবিশ্বে যখন জ্বালানির দাম কমছে, তখন বাংলাদেশে বাড়ানো হচ্ছে। এতে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। আমরা যে পণ্য তৈরি করি, তার উৎপাদন খরচ বাড়বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। সেটা পেলে আমাদের পরিবহন খরচ কিছুটা কমত। নতুন দর অনুযায়ী, গ্যাসের দাম গড়ে ২৬.২৯% এবং বিদ্যুতের দাম ২.৯৩% বেড়েছে। গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১লা আগস্ট আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন সিএনজি ও ইটভাটা ছাড়া সব ধরনের গ্রাহকপর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়।

কংকা চৌধুরীএক্সক্লুসিভ
শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পোশাকসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, এতে করে শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্য মূল্যও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় পিছেয়ে পড়বে এ শিল্প। গত সপ্তাহে গ্যাস ও বিদ্যুতের...