84684_x4

গায়ে তার বেশ ঝকমকে পোশাক, সপষ্ট চোখে পড়ছে ভারী সোনার গহনা। নিজের কোটিপতি মর্যাদার সঙ্গে একেবারে মানানসই। আত্মগরিমায় পা যেন মাটিতে পড়ছে না। বলছেন, টাকা দিয়ে দুনিয়ার যে কাউকে কিনতে পারেন তিনি। কুখ্যাত সেলিব্রেটি লতা লকরাকে এভাবেই মনে রেখেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার চ্যানহোর বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, লতা লকরা গৃহকর্মী থেকে হয়েছেন মানবপাচারকারী। কিছুদিন আগে নারী পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার পাচার করা মেয়েদের বেশিরভাগই আবার নৃতাত্ত্বিক বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু। তার কুকর্ম প্রকাশ্যে আনে ‘দিয়া সেবা সংস্থা’ নামের একটি এনজিও। তাদের ধারণা, অন্তত ১৫০০ নারীকে গত দশক ধরে পাচার করেছেন লতা লকরা। এ নিয়ে দ্বিমত নেই পুলিশেরও। এ ভয়াবহ অপরাধী সমপর্কে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
২০০০ সালের দিকে চ্যানহো থেকে গৃহকর্মী হিসেবে দিল্লিতে পাড়ি জমান লতা লকরা। এক পর্যায়ে প্রচুর মেয়েকে দিল্লি নিয়ে যান তিনি। গড়ে তোলেন দুর্দান্ত এক সাম্রাজ্য। নিজের এলাকায় তার বিশাল পরিমাণ জমি এ সাম্রাজ্যের নির্দেশক। ঝাড়খণ্ডের খুনতি জেলার পাচারবিরোধী সংস্থার প্রধান আরাধনা সিং-এর মতে, এ জমি-জিরাত তার সাম্রাজ্যের ছোট একটি অংশ কেবল।
টেলিগ্রাফের সাংবাদিক দল শুক্রবার চ্যানহো সফরে যায়। সেখানে তার মালিকানাধীন ৩টি জমির খোঁজ পাওয়া যায়। এর একটিতে তার বাড়ি রয়েছে। মাসে বা কয়েক মাসে এ বাড়িতে একবার যেতেন লতা। ১০টি ঘর ভাড়া দিয়েছেন। দুই তলার ১২টি দোকানও ভাড়া দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় জমিতে একটি শপিং সেন্টার গড়ে উঠছে। তৃতীয় জমিটি একটি উচ্চ বিদ্যালয়কে ইজারা দিয়েছেন। প্রথম ও তৃতীয় জমির আয়তন ৩৬ ডেসিমেল করে। দ্বিতীয় জমির আয়তন ২০ ডেসিমেল। এলাকায় তার প্রভাব এত বেশি যে, তার ভাড়াটেরা টেলিগ্রাফের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। দোকান ও স্কুল বন্ধ হয়ে আছে!
লতার ননদ সুষমা তার নিজের ২ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে ধানবাদের নিজস্ব বাড়িতে থাকেন। আরাধনা সিং অবশ্য বলছেন, লতার ভাইর বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। বাইরে থেকে সে ঘর দেখে কিছুই মনে হবে না। কিন্তু ভেতরে সমপূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। ঝাড়বাতি, বড় এলসিডি টিভি, বিলাসবহুল সোফা- কী নেই সেখানে? সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি সুষমা। তাকে অনেকটা ভীত দেখাচ্ছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে কথা বলতে এলেও, কোন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। লতা সমপর্কে তিনি কেবল পত্রিকা থেকে শুনেছেন বলে দাবি করেন। সুষমার ভাষ্য, আমি যদি তার (লতা) সমপর্কে জানতাম বা সে কী কাজ করতো তা জানতাম, তাহলে এ পরিবারে আমি বিয়ে করতাম না। আমি রাঁচির একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। আমি কখনই জানতে চাইনি সে কী করে। সে দিল্লিতে থাকে। কয়েক মাসে একবার এখানে আসে। ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশুনার জন্য তার নিজের লোক রয়েছে। পাশের একজন প্রতিবেশী সুষমার পক্ষে কথা বললেন। ওই প্রতিবেশী বলেন, সুষমা আসলে লতার কাছ থেকে একটি পয়সাও পায় না। বরং লতার স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ করতো সুষমা।
লতার বিরুদ্ধে মেয়ে পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে কথা বলার সাহস কারও হয়নি। কিন্তু এক নারী এ প্রতিবেদককে থামালেন ও বললেন, লতাকে গ্রেপ্তার করা উচিত কাজ হয়েছে। ওই নারীর ভাষ্য, যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে। সে মানুষকে সবসময় ভয়ে রাখতো। বাজারের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করুন, সব জানতে পারবেন। সে প্রায়ই এখানে খবরদারি চালাতো। বলতো, আমাকে কে ধরবে? আমি সবাইকে কিনতে পারি। একজন বয়স্ক দোকানিও একমত। তিনি বলেন, লতা সবসময় বলতো, তার স্বামী সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু আসলে পত্রিকার খবরে জানা যায়, লতার স্বামী ছিল আসলে একজন কয়লা শ্রমিক। ওই দোকানি আরও জানান, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও দহরম মহরম ছিল লতার। উপরিল্লিখিত ৩টি জমি ছাড়াও, সে আরও জমি কিনেছে বলে গুজব রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো পুলিশ দলের এক সদস্য বলেন, গ্রেপ্তারের সময় অন্তত দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের সোনার অলঙ্কার পরে ছিলেন লতা। তার অলঙ্কার দেখেই বোঝা যায়, তার কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে। অথচ সে বলে যে, সে নাকি সাধারণ একজন গৃহকর্মী। এ কথা বলেই ওই পুলিশ সদস্য হেসে উঠেন।

হীরা পান্নাএক্সক্লুসিভ
গায়ে তার বেশ ঝকমকে পোশাক, সপষ্ট চোখে পড়ছে ভারী সোনার গহনা। নিজের কোটিপতি মর্যাদার সঙ্গে একেবারে মানানসই। আত্মগরিমায় পা যেন মাটিতে পড়ছে না। বলছেন, টাকা দিয়ে দুনিয়ার যে কাউকে কিনতে পারেন তিনি। কুখ্যাত সেলিব্রেটি লতা লকরাকে এভাবেই মনে রেখেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার চ্যানহোর বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে,...