94039_dudu
গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এ গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে যেতে হচ্ছে। গণতন্ত্রপন্থিরাই আজ কারাগারে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। দুদফা আন্দোলনের পর নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় না হওয়ার প্রসঙ্গে সাবেক এই ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। আমাদের দাবি ছিলÑ গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ গায়ের জোরে করেছে। ১৫৪ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়, যতদিন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন পর্যন্ত এ অবৈধ সরকারের নিপীড়ন থেকে জাতি রক্ষা পাবে না। আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী অহিংস আন্দোলনের বিষয়ে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, যে কোন আন্দোলন থেকেই শিক্ষার বিষয় রয়েছে। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের আগে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে লাগাতার আন্দোলনের কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ’৭৫-এ বাকশাল গঠনের আগে ন্যাপ, ভাসানী, জাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছিল। সর্বশেষ ছাত্রদের আন্দোলনে সরকার নতি স্বীকার করায় জাতি প্রাণহানি ও রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ গুলি যখন চালায় তখনই রক্তক্ষরণ হয়। কিন্তু এর কয়েক দিন পরেই টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অহিংস আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সেখানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছিল। আন্দোলন কখনও পরাজিত হয় না। আন্দোলনকারীরাই সবসময় বিজয়ী হয়। কালিহাতীর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পুুলিশের উপরই সরকার। ইউটিউবে এক পুলিশ সদস্যের বক্তব্য দেখতে পাবেনÑ তারা এই সরকারকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তারা এ সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। গত সাত বছরে পুলিশ দেশে রক্তের যে হোলি খেলা খেলেছে এটা তো বিরল ঘটনা। এ জন্যই সরকার পুলিশের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। চলতি বছরের আন্দোলনে টানা ২১ দিন রিমান্ড ভোগ করা এ বিএনপি নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগে যে আইনের নিয়ন্ত্রণে থাকতো এখন তা আছে বলে মনে হয় না। তাই এটাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আইনের বাইরে কেউ নয়। পুলিশ আইনের মধ্যে থাকলে কালিহাতীর ঘটনা ঘটতো না। গত আন্দোলনে আমি জেলে ছিলামÑ সেখানে দেখেছি অসংখ্য ছেলের হাঁটুতে ও পায়ে গুলি করা হয়েছে। আমরা যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। আমরা চাইÑ সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আগামী বছরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুঞ্জন সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা বলেন, এ সরকার যত দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেবে ততই মঙ্গল। তাহলে দেশ ও রাজনৈতিক দলগুলো রক্ষা পাবে। অগণতান্ত্রিক শক্তির কালো থাবা থেকে বাঁচবে জাতি। এ লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা শুরু করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আমরা তো নির্বাচন করতে চাই। আমাদের দল যতবার ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এসেছে। নির্বাচন ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডন সফর সম্পর্কে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। তারেক রহমান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে ছেলে এবং দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা। দীর্ঘদিন পর দলের প্রধান দুই নেতা একত্র হয়েছেন। তারা পারিবারিক আবহে সময় কাটাবেন। তবে দলের পুনর্গঠন, শুদ্ধি অভিযান, আগামীদিনের আন্দোলনের কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারিবারিক পরিবেশে আলোচনা হতেই পারে। তাদের আলোচনায় দল ও দেশ এবং রাজনীতি অনেক বিষয়ে প্রাধান্য পাবে। বিএনপির পুনর্গঠন কার্যক্রমের বিষয়ে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের মধ্যদিয়ে তৃণমূল কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেভাবেই কাজ এগিয়ে চলছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহাজাহান এ প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করছেন। তাকে আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা সহযোগিতা করছেন। দু-একটা জেলায় সমস্যা হয়েছে। ঈদের পর বিএনপি চেয়ারপারসন ফিরলে তাদের বিষয়ে অলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পুনর্গঠন হলো একটা রুটিন ওয়ার্ক। কোন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটা পুনর্গঠন করা হয়। সেই প্রক্রিয়াটাই এখন চলছে। পকেট কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, দলে দু’ধরনের নেতা থাকেন। একটি হলোÑ নির্বাচন করার কিছু লোক থাকে যারা উপজেলা, পৌরসভা, ইউপি নির্বাচন করতে চান। তারা হয়তো তাদের চিন্তাভাবনাকে সেভাবে নির্বাচিত করতে চান। আরেক শ্রেণীর নেতা থাকেন যারা দল পরিচালনা করেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন তারা এই প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকেন। আমাদের নেত্রী যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন, ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থাকেন, পালিয়ে না থেকে সামনে থেকে দলের নেতৃত্ব দেন তাদের পছন্দ করেন। সুবিধাবাদী কোন লোক যেন সামনে না আসতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দীর্ঘ সাত মাস কারাবাসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কারাগারের সংস্কার দরকার। সেখানে কি পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয় কারাগারে না গেলে কেউ বুঝতে পারবে না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যে কোন সময় কারাগারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি। এবার স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর গণতন্ত্রের জন্য কারাগারে যেতে হবে সেটা কল্পনা করিনি। যে দল স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, যে দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে সে দলের নেতারা কারা ভোগ করছেন। গণতন্ত্রপন্থিরা আজ কারাগারে।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/94039_dudu.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/94039_dudu-300x165.jpgহাসন রাজাএক্সক্লুসিভ
গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এ গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে যেতে হচ্ছে। গণতন্ত্রপন্থিরাই আজ কারাগারে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। দুদফা আন্দোলনের পর নির্দলীয় সরকারের দাবি...