04_266096
খিলগাঁও জোড়পুকুর মাঠের কাছ থেকে খিলগাঁও-বাসাবো খালের শুরু। সেখানে একটি পিলারে ঢাকা ওয়াসার খিলগাঁও-বাসাবো খালের নাম উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা ওয়াসার ওই পিলারের গা ঘেঁষেই বসানো হয়েছে ৩০ থেকে ৪০টি ফার্নিচারের দোকান। দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো. বারেক নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা এসব দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। খালের অংশ দখল করে বানানো একটি দোকানের নাম ‘বৃষ্টি ফার্নিচার’। অবৈধ দখলদাররা এভাবে দোকানসহ নানা স্থাপনা গড়ায় বাস্তবে খালের চিহ্নও নেই। অথচ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় পুরো খিলগাঁও, তিলপাড়া, গোড়ান ও সিপাহীবাগ এলাকার লাখ লাখ মানুষের ভরসা ছিল এই খাল। ওয়াসার নথিপত্রে খালটির প্রশস্ততা স্থানভেদে ১৬ থেকে ৩২ ফুট। বাস্তবে সেটা কোথাও পাওয়া যায় না। তিলপাপাড়া থেকে আমানুল্লাহ সুপার মার্কেট পর্যন্ত খাল ভরাট করে স্থানে স্থানে পাইপ ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। ভরাট করা স্থানগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই ওখানে এক সময় বড় আকৃতির খাল ছিল। মাণ্ডা খালের বেশির ভাগ অংশই ভরাট হয়ে গেছে আবর্জনায়।
রাজধানীর পানি নিষ্কাশনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল খালের। নগরের বুকে পাতার শিরার মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৪৬টি খাল সচল থাকলে ভারি বর্ষণেও জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে যেকোনো মাত্রার বৃষ্টি হলেই অচল হয়ে যায় গোটা নগরী। খাল দখল, খালের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, প্রশস্ত খাল সংকুচিত করার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে খাল দখল করা ছাড়াও প্রায় সব খালই ব্যবহৃত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে। এমনকি সিটি করপোরেশনের লোকজনও খালগুলোকে আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন মনে করেন। ফলে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এসব খাল। অভিযোগ আছে, এসব খালের দায়িত্ব নিয়েও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করছে না ঢাকা ওয়াসা। জানা যায়, রাজধানীর ৪৬ খালের মধ্যে ২৬টির কথা উল্লেখ আছে ঢাকা ওয়াসার নথিতে। বাকি ২০টি খালের মধ্যে বনশ্রী খালসহ কয়েকটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও কেউ নেই। এ ছাড়া ওয়াসার নথিতে এমন খালের নামও আছে যেগুলোর অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যায় না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি খালই স্থানীয় বাসিন্দা ও সিটি করপোরেশনের আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। খালগুলোতে যে যার মতো ময়লা-আবর্জনা ফেললেও তা দেখার কেউ নেই। এসব খাল রক্ষণাবেক্ষণের নামে ঢাকা ওয়াসা বছরে ২০ থেকে ২১ কোটি টাকা খরচ করলেও বাস্তবে তেমন ফল আসছে না। অন্যদিকে ওয়াসা এ খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল মনে করে খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চায়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, খাল রক্ষার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকেই দিতে হবে। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত ও আবর্জনামুক্ত করা না হলে সময়ের ব্যবধানে সব খাল হারিয়ে নগরী হয়ে পড়বে পুরোপুরি বসবাসের অনুপযোগী। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি খালকেই হাতিরঝিলের মতো নান্দনিক রূপ দিয়ে সব খাল ঘিরেই বিনোদনের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন পরিকল্পনাবিদরা।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘যে দেশ যত বেশি সভ্য সে দেশে আইন তত কঠোর। আমাদের খাল দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখতে কঠোর আইনের প্রয়োগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। খালগুলো পরিষ্কার করে পুরো শহরের চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব। হাতিরঝিলের দিকে তাকালেই আমরা তা দেখতে পারি। আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, খালগুলো দেখিয়ে ওয়াসা শুধু বিদেশ থেকে অর্থ আনে। আর কী কাজে খরচ করে তারাই জানে। বৃষ্টি হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতায় হাবুডুবু খায়। সার্বিকভাবে খাল ঠিক রাখতে হলে তা সিটি করপোরেশনকে দিয়ে তাদের সব ধরনের সাপোর্ট দিতে হবে।’
ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকী মোস্তাফা চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা খালে উচ্ছেদ কাজ মাঝেমধ্যে করে থাকি। কয়েক দিনের মধ্যে আবার উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর ২০ থেকে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে তিন ডিভিশনের জন্য। যে পরিমাণ কাজ সেই তুলনায় জনবলও নেই। এর পরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সব খাল ঠিকঠাক মতো রাখতে।’
রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু করে মেরাদিয়া হাট হয়ে ত্রিমোহনী গিয়ে মিশেছে একটি প্রশস্ত খাল। একদিকে আফতাব নগর আবাসিক এলাকা, অন্যদিকে বনশ্রী আবাসিক এলাকা। গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা যায়, দুই পাশের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় ওই খালে। কল্যাণ সমিতির ভ্যানে করেও খালে ময়লা ফেলা হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে খালটি এতটাই দূষিত হয়েছে যে এর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে। বাসা-বাড়ির ময়লা, নির্মাণসামগ্রী ছাড়াও রাস্তা পরিষ্কার করে আবর্জনা ফেলে দেওয়া হয় এ খালেই। খালের বেশ কিছু অংশ ময়লা পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। বিশাল আকৃতির এ খালের মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন স্থানে পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়েছে। নৌকায় আশপাশের এলাকা থেকে মেরাদিয়া হাটের উদ্দেশে ফলমূল ও শাকসবজি নিয়ে আসছেন পাইকারি বিক্রেতারা। অনেক সময় তরিতরকারির উচ্ছিষ্ট অংশ এ খালেই ফেলা হচ্ছে। ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) এস ডি কামরুল আলম চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সব খালই ওয়াসার নয়। বনশ্রী খালটি আমাদের হাতে দেওয়া হয়নি। এ খালের দেখভাল কারা করছে তাও বলা যাচ্ছে না।’
বাইশটেকী খালের অবস্থা একেবারেই নাজুক। দখল আর দূষণের ফলে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে পুরো এলাকায়। আবর্জনা পড়ে অনেক স্থানেই প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো অংশে খাল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ খালটি কালশী রোডের পাশ দিয়ে সাংবাদিক আবাসিক এলাকা হয়ে ভাসানটেক-ইব্রাহিমপুর খালের সঙ্গে মিশেছে। ১০ নম্বর সেকশনের ডি-ব্লক এলাকায় ১ নম্বর এভিনিউর পাশে বক্স কালভার্টসংলগ্ন স্থানে খালের বেশ কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেছে। গাজী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি দেয়াল তুলে সেখানে দোকান বসিয়েছেন। আবার খালের প্রবেশমুখ থেকে একটু এগোতেই একটি গবাদি পশুর ছোট খামার চোখে পড়ে। এ খামারটি খালের অংশ দখল করে বসিয়েছেন স্থানীয় সেলিম নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘বাইশটেকি খালটি উদ্ধার করে পুরো খাল দূষণমুক্ত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ পুরো এলাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে হলে খাল রক্ষাণাবেক্ষণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
কল্যাণপুর খাল দখল করে বানানো হয়েছে দোকান, গ্যারেজ, বাড়ি, দলীয় অফিস : ঢাকা ওয়াসার নথি মতে, কল্যাণপুরে ওয়াসার মোট ছয়টি খাল রয়েছে। আগারগাঁও অংশে ভাঙা মসজিদসংলগ্ন স্থানে একটি খাল আংশিক দখল করা হয়েছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অফিসের নামে দখল করা হয়েছে একাংশ। পাশের একটি অংশে ছোট একাধিক টিনের ঘর তৈরি করে এগুলো ভাড়া দিয়েছে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। কল্যাণপুর নতুবাজার এলাকায় দেখা যায়, খালের ওপর রিকশার গ্যারেজ ও ছোট বেশ কিছু দোকান বানানো হয়েছে। আবার কল্যাণপুর নতুনবাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অনেক স্থানেই ওঠানো হয়েছে অর্ধশত ঘরবাড়ি। এরপর টোলারবাগ পানির ট্যাংকি সংলগ্ন স্থান দিয়ে খালটি ক্রমে ছোট হয়ে গেছে। কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শাহআলী মাজার পর্যন্ত খালের পার বাঁধাই করা হয়নি। ফলে তিন কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক পাকা বাড়ির অংশ পড়েছে খালের ভেতরে। আবার দক্ষিণ অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে সেখানে চার থেকে পাঁচ ফুট জায়গা রেখে বাকিটা দখল করে ছোট ছোট দোকান বসানো হয়েছে। এ খালের মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহআলী মাজারের পাশে কয়েকটি কাঠের দোকানের অংশ পড়েছে।
কাটাসুর খাল বেদখল হয়ে নর্দমা : মোহাম্মদপুরের কাটাসুর খালটি অনেকটা বেদখল হয়ে নর্দমায় রূপ নিয়েছে। খাল ভরাট করে একের পর এক গড়ে তোলা হয়েছে পাকা ও আধাপাকা দালান।
ড্রেন রেখে পুরো রূপনগর খালই দখল : কয়েক বছর আগেও রূপনগর খালটি ছিল বেশ বড় আকৃতির। এখন একটি ড্রেনের মতো রেখে বাকিটা দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। রূপনগরে ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৪-এর পানির পাম্প রয়েছে। পাম্পসংলগ্ন স্থানে খাল দখল করে স্থানীয়রা বস্তিঘর তৈরি করেছে। খালের মাঝখানে আবর্জনা পড়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর ডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমান গতকাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের গৃহায়ণের প্রকল্পে আছে রূপনগর খালটি। এটি ২০০৭ সালে আমরা ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করেছি। কিন্তু বছরখানেক আগে ওয়াসা সব অবৈধ দখলমুক্ত না করেই যতটুকু আছে তাতেই ওয়াকওয়ে নির্মাণ করছে। ফলে যে অংশ অবৈধ দখলে নিয়েছে তা আর আসবে না।’
দেবধোলাই খালে আবর্জনার স্তূপ : দোলাইরপাড়ের দেবধোলাই খালটি একসময় ছিল ৬০ ফুট প্রশস্ত। এটি ছোট হয়ে এখন বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। আবর্জনার স্তূপ ও দখলের কবলে হারিয়ে যেতে বসেছে এ খালটি। দীর্ঘদিন জমে থাকা আবর্জনার ওপর দিয়ে হেঁটে চলাচল করা যায়। খালের কুতুবখালী অংশে ভয়াবহ দূষণ দেখা যায়।
অবৈধ স্থাপনা অন্যান্য খালেও : ইব্রাহীমপুর খালের দুই পাড়েই অবৈধ স্থাপনা তুলে দখল করা হয়েছে। হাজারীবাগ খালে ১১৭টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে বলে জানা যায়। উত্তরার দক্ষিণ আজমপুর থেকে শুরু হয়ে কসাইবাড়ী হয়ে মোল্লারটেক গিয়ে শেষ হওয়া কসাইবাড়ী খাল এখন আর চেনার উপায় নেই। ছোট একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে খালটি। ওয়াসার প্রতিবেদনেও অবৈধ দখলের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপস্ট্রিমে দখল রয়েছে। এ খালের বেশির ভাগ স্থানে পাইপ বসিয়ে এর ওপর দিয়েও বাড়িঘর ও দোকানপাট ওঠানো হয়েছে। প্রায় সব খালের অবস্থা একই ধরনের।
সব খাল ঠিক থাকলে অপরূপ হতো ঢাকা : নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, ঢাকা নগরীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ৪৬টি খাল ঠিক থাকলে নগরী হতে পারত অপরূপ সৌন্দর্যের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান। বিশ্বের সেরা শহরগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানীর নাম থাকত।
এরই মধ্যে দুটি খালের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। তাদের দাবি, নগরীর ৪৬ খালের মধ্যে ২৬টির দায়িত্ব ওয়াসার ওপর দেওয়া হয়েছে আর বাকিগুলোর ব্যাপারে কিছু জানে না তারা। এর মধ্যেই বড় আকৃতির খালগুলো ছোট হয়ে ড্রেন আকার ধারণ করে কোনো মতে টিকে আছে। ফলে সব খালের স্বাভাবিক প্রবাহও নেই।
ওয়াসার তথ্যানুসারে ৪৬টি খালের মধ্যে ওয়াসার দায়িত্বে আছে কল্যাণপুর প্রধান খাল, কল্যাণপুর ক, খ, ঘ, ঙ এবং চ খাল, কাটাসুর খাল, রামচন্দ্রপুর খাল, আবদুল্লাহপুর খাল, দিগুণ খাল, মহাখালী খাল, হাজারীবাগ খাল, বেগুনবাড়ী খাল, সেগুনবাগিচা খাল, খিলগাঁও-বাসাবো খাল, মাণ্ডা খাল, সুভিভোলা খাল, শাহজাদপুর খাল, রূপনগর মেইন খাল, বাইশটেকি খাল, সাংবাদিক কলোনি খাল, কসাইবাড়ী খাল, ইব্রাহিমপুর খাল, বাউনিয়া খাল, দেবধোলাই খাল, রূপনগর ব্রাঞ্চ-১ (চিড়িয়াখানা), ব্রাঞ্চ-২ (আরামবাগ), ব্রাঞ্চ-৩ (দুয়ারীপাড়া) ও জিরানী খাল। এ ছাড়া ওয়াসার আওতাবহির্ভূত চর কামরাঙ্গীর খাল, বেগুনবাড়ী-মেরাদিয়া-গজারিয়া খাল, রাজারবাগ-নন্দীপাড়া খাল ও নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খাল টিকে আছে। নগরীর বেশ কয়েকটি খাল সরকারি উদ্যোগেই ভরাট করা হয়েছে। পরীবাগ খাল, ধানমণ্ডি খাল, কাঁঠালবাগান খাল, রাজাবাজার খাল, রায়েরবাজার খাল, বেগুনবাড়ী গোপীবাগ খাল, ধোলাইখাল-১ এবং ধোলাইখাল-২, দক্ষিণগাঁও-নন্দীপাড়া খাল, রাজারবাগ-নন্দীপাড়া, নাসিরাবাদ-নন্দীপাড়া খাল, বাউথার খাল ও গোবিন্দপুর খালের অস্তিত্ব এখন আর সরকারি নথিপত্রেও পাওয়া যায় না।

হাসন রাজাঅন্যান্য
খিলগাঁও জোড়পুকুর মাঠের কাছ থেকে খিলগাঁও-বাসাবো খালের শুরু। সেখানে একটি পিলারে ঢাকা ওয়াসার খিলগাঁও-বাসাবো খালের নাম উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা ওয়াসার ওই পিলারের গা ঘেঁষেই বসানো হয়েছে ৩০ থেকে ৪০টি ফার্নিচারের দোকান। দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো. বারেক নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা এসব দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন।...