আদালত প্রতিবেদক ।
‘ভুয়া’ জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর কোনো আদেশ না দিয়ে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
বরং দুই মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) আগে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এখনো মামলা দুটিতে গ্রেপ্তার না দেখানোর কারণে আপাতদৃষ্টিতে তাঁর কারমুক্তির বিষয়টি ঝুলে গেল।

গতকাল বৃহস্পতিবার মামলাদুটিতে খালেদার জামিন আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে নির্মিত বিশেষ এজলাসে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পৃথক মহানগর হাকিম পর্যায়ক্রমে শুনানি গ্রহণ করেন।

‘ভুয়া’ জন্মদিন পালনের অভিযোগ আনা মামলায় বিচারক খুরশীদ আলম ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার মামলায় বিচারক আহসান হাবীব শুনানি গ্রহণ করেন। বিচারকদ্বয় দুই মামলায় খালেদাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আদালতে খালেদার পক্ষে তাঁর প্য্যানেল আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার মামলা দুটির শুনানিতে বলেন, ‘ম্যাডাম গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে। এ মামলা দুটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর পুলিশ পরোয়ানা তামিল করেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা। আজ দুই মামলায় খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সার্বিক পর্যালোচনায় জামিন দেওয়া হোক।’

এদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু শুনানিতে বলেন, দুই মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখনো তামিল হয়নি। আগে পরোয়ানা বিধি মোতাবেক কার্যকর হোক। তারপর জামিন আবেদন শুনানি হতে পারে।

উভয় পক্ষের শুনানির পর খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। জামিনের আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন। গত ২৫ এপ্রিল ওই মামলাদুটিতে খালেদার পক্ষে পৃথক আবেদন করা হয়। একটিতে জামিন প্রসঙ্গে অন্যটি ধার্য তারিখে খালেদাকে আদালতে হাজির করা প্রসঙ্গে। ওইদিন জামিন আবেদনের শুনানি ও অন্য আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মামলা দুটির একটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগ আনা হয়। বলা হয় ‘২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

এতে মানহানি হয়েছে বলে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আসামি করে আদালতে নালিশি মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ তদন্ত পূর্বক তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

পরের বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন ওই থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান। দাখিল করা প্রতিবেদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত বছরের ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারক খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এ ছাড়া ভুয়া জন্মদিন পালন করার অভিযোগ এনে দায়ের করা নালিশি মামলায় বলা হয়, ১৯৯৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে খালেদার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনমতে তাঁর জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট।

এদিকে, খালেদার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে তাঁর জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে পাঁচটি জন্ম তারিখ পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি তারিখের একটিতেও জন্মদিন পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে এ মামলাটি করেন। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট মামলা দায়েরের দিন নালিশ আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। সমন জারি করার পরও দুইটি তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় একই বছরের ২৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/05/9.gifhttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/05/9-300x253.gifজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনআইন-আদালত
আদালত প্রতিবেদক । 'ভুয়া' জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে 'কলঙ্কিত' করার অভিযোগে মানহানির পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদনের ওপর কোনো আদেশ না দিয়ে তা নথিভুক্ত করা হয়েছে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। বরং দুই মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট)...