86575_thumb_x4
তেতুঁলিয়া নদীর সাথে সংযোগ থাকা প্রায় দেড় শতাধিক খাল ছিল উপকূলীয় দশমিনায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একমাত্র মাধ্যম। এসব খাল দিয়ে নদী থেকে সরাসরি পলিমটি এসে পড়তো ফসলি জমিতে। আর এসব খালে ছিল নৌকা যোগাযোগ। সবসময় ট্রলারে মালামাল আনা-নেয়া করার মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে দশমিনার মানচিত্রে সবকিছু থাকলেও বস্তবে এর কোন চিহ্ন নেই। এখন খালগুলো দিয়ে চলে না নৌকা, ফসলি জমিতে পড়ে না পলিমাটি। ফলে উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এখন ফসল উৎপাদন করতে হলে ব্যবহার করতে হয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। যা মানবদেহের জন্য ব্যাপক ক্ষতিরকর। এদিকে শুষ্ক মওসুম এলে পড়তে হয় তীব্র পানি সংকটে, বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় কৃষকরা পড়ে চরম বিপাকে। স্থানীয় সূত্রে ও কৃষকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা নামে-বেনামে খাল বন্দোবস্ত নিয়ে ভরাট করে কিংবা বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করে আসছে। এছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ করায় খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি সংকট ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং সাধারণ কৃষকদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। সরজমিন গিয়ে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দশমিনা বালিকা মাধ্যমিক ও কলেজসংলগ্ন একটি খালে দেখা গেছে, ১৪-১৫ জনে বন্দোবস্ত নিয়ে এই খালটি দখল করে রেখেছে। খালের দুপাশ কেটে মাটি ভরাট করে চাষযোগ্য জমি তৈরি ও পাকাঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এ খালটি দিয়ে আগে নৌকা চলাচল করতো। প্রায় ২ হাজার একর জমির পানি উঠানামা করতো। নদী থেকে পলিমাটি পড়ে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করতো। এখন সার ছাড়া কোন ফসল উৎপাদন হয় না। বর্ষা হলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারে না। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চর হোসনাবাদ এলাকার খালটি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। এ খাল দিয়ে প্রায় ৫ হাজার একর জমির পানি উঠানামা করতো। স্থানীয় লোকজন ওই বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য মামলা করেছে। দশমিনা সদর ইউনিয়নের নিজাবাদ গোপালদী গ্রামের খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী ৭ জনে বন্দোবস্ত নিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে। ওই খাল দিয়ে প্রায় ২ হাজার একর জমির পানি উঠানামা করতো। এখন আর পানি উঠানামা করতে পারে না। লক্ষ্মীপুর গ্রামের নিবারন কবিরাজের নামের বিশাল খালটি ১০-১৫ হাত পানি থাকা অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে টু-পাইসের বিনিময়ে বন্দোবস্ত দিয়েছে ভূমি অফিস। ওই খালটি ভরাট করে এখন চাষাবাদ করছে। এ খাল দিয়ে প্রায় ৩ হাজার একর জমির পানি উঠানামা করতো। উপজেলা সদরের দক্ষিণ আরজবেগী আজগুরিয়া খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী ১০ জনে বন্দোবস্ত নিয়েছে। ওই খালে শুষ্ক মওসুমে ১০-১২ হাত পানি থাকতো। খালটিতে দখলকারীরা বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করছে। এখন আর পানি উঠানামা করতে পারে না। জলাবদ্ধতায় যথাসময় প্রায় ১ হাজার একর জমি চাষাবাদ হয় না। উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালীর কেয়ার খাল, ইঞ্জিনারায়ণ খাল, শিংবাড়ীয়া খাল, রণগোপালদী ইউনিয়নের কাটা খাল। আউলিয়াপুর গ্রামের নাপ্তার খাল, তালতলার হোতা খাল স্থানীয় প্রভাবশালীরা বন্দোবস্ত নিয়েছে। এসব খাল প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে ভরাট ও বাঁধ দিয়েছে। ফলে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার একর জমির ফসল। বাঁধ ও অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের ফলে তেঁতুলিয়া নদী থেকে পলি মাটি আসতে পারছে না। ফলে ফসলি জমির দিন দিন উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। উপজেলার ছটি ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের খালগুলো কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে নদীর পানি উপজেলার ভিতরে প্রবেশ করতে না পাড়ায় নদীর তীর ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো না থাকায় কয়েক দিনের লাগাতার বর্ষায় উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকের বিচতলা পচন ধরাসহ পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজহারুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কিছুদিন পূর্বে ৫টি খালের বাঁধ কাটা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পানি নিষ্কাশনের জন্য সব খাল অবমুক্ত করা হবে।

তাহসিনা সুলতানাএক্সক্লুসিভ
তেতুঁলিয়া নদীর সাথে সংযোগ থাকা প্রায় দেড় শতাধিক খাল ছিল উপকূলীয় দশমিনায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একমাত্র মাধ্যম। এসব খাল দিয়ে নদী থেকে সরাসরি পলিমটি এসে পড়তো ফসলি জমিতে। আর এসব খালে ছিল নৌকা যোগাযোগ। সবসময় ট্রলারে মালামাল আনা-নেয়া করার মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে দশমিনার মানচিত্রে সবকিছু থাকলেও বস্তবে এর কোন...